ক্রিপ্টোকারেন্সি: বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে। Bitcoin in Bengali

ক্রিপ্টোকারেন্সি: বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে। what is cryptocurrency. বিটকয়েন কিভারে আয় করা যায়। কিভাবে বিটকয়েন কাজ করে (Bitcoin in Bengali).

1054 VIEWS

বিটকয়েন কি ও কিভাবে কাজ করে

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি?

ক্রিপ্টোকারেন্সি এক ধরনের সাংকেতিক মুদ্রা; যার কোন বাস্তব রূপ নেই। এর অস্তিত্ব শুধু ইন্টারনেট জগতেই আছে; এটি ব্যবহার করে লেনদেন শুধু অনলাইনেই সম্ভব। যার পুরো কার্যক্রম ক্রিপ্টগ্রাফি নামক একটি সুরক্ষিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়; এটা শুধুমাত্র সফটওয়্যার ভিত্তিক, আপনি চাইলেও স্পর্শ করতে পারবেন না।

কিছু কিছু শপিং সাইট বর্তমানে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেনের সুবিধা দিয়ে থাকে। আপনি সেসব সাইট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে জিনিস কিনতে পারেন। আশা করা যায় সুদূর ভবিষ্যতে সকল জায়গায় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার হবে।

কত ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে?

বর্তমান সময় বাজারে প্রায় ৬৭০০ প্রকারের ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। এদের ভিতর সবচেয়ে জনপ্রিয় হল: বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, লাইটকয়েন ইত্যাদি; বিটকয়েন হল বিশ্বের প্রথম সফল ক্রিপ্টোকারেন্সি।

আমরা প্রথমে বিটকয়েনের মোট মান গণনা করব কারণ এটি সহজ। CoinMarketCap এর মতে, 2020 সালের 4 মার্চ, পর্যন্ত বিশ্বের সমস্ত বিটকয়েনের মূল্য ছিল 160.4 বিলিয়ন ডলার।

আমাদের আলোচনার সুবিধার্থে, ক্রিপ্টোকারেন্সি মানে বিটকয়েনকে ধরে নিচ্ছি। কারণ আমাদের বলতে ও বুঝতে সুবিধা হবে।

কিভাবে বিটকয়েন কাজ করে?

বিটকয়েন কিভাবে কাজ করে তা জানার আগে আমাদের, বিটকয়েনের ইতিহাস জানতে হবে। কেন ও কিভাবে বিটকয়েন জনপ্রিয় হল। বর্তমানে মানুষ কেন বিটকয়েন নিয়ে এত মাতা-মাতি করছে। তো চলুন বিষয়গুলো পর্যয়ক্রমে জেনে নিই:

বিটকয়েনের ইতিহাস

বিটকয়েনের বিষয়টা মানুষের নজরে আসে ১৮ আগস্ট, ২০০৮ যখন bitcoin.org নামের একটি ডোমেইন রেজিস্টার হয়।

সেই বছরের, ৩১ অক্টোবর বিটকয়েন: এ পেয়ার টু পেয়ার ইলেকট্রনিক ক্যাশ সিস্টেম শিরনামের একটি লিংক বা পেপার প্রকাশিত হয়। যেটির লেখক সাতাশি নাকামতো নামের একজন ব্যাক্তি ছিল। এরপর থেকেেই মূলত বিটকয়েনের যাত্রা শুরু হয়।

বি:দ্র: সাতাশি নাকামতো কে ছিল বা তার আসল পরিচয় কি তা এখনও পর্যন্ত জানা যায় নি।

প্রথম অবস্থায় তো বিটকয়েনের মূল্য অনেক কম ছিল; যেমন ২২ ডলার দিয়ে ১টি বিটকয়েন কেনা যেত। কিন্তু বর্তমান ২৬মার্চ, ২০২১ আপনার একটি বিটকয়েন কিনতে খরচ করতে হবে ৫২৮৫০.৯০ ডলার; বাংলাদেশের টাকার হিসাবে ৪৪৮৪০২৫.১৭ টাকা লাগবে ১টি বিটকয়েন কিনতে।

আপনার কাছে মনে হতে পারে এতো টাকা দিয়ে আমি কিভাবে বিটকয়েন কিনব; আমার কাছে তো এত টাকা নেই। বিটকয়েন কেনার জন্য এত টাকা লাগবে না।

আপনি চাইলে বিটকয়েনের ছোট ইউনিট কিনতে পারেন। এক টাকা সমান ১০০ পয়সা হয়, তেমনি এক বিটকয়েন সমান ১০,০০,০০,০০০ সাতশি অর্থাৎ এক বিটকয়েন আট ডেসিমেল পর্যন্ত সংখ্যা বহন করে।

বিটকয়েনের ইতিহাস পুরো জানতে উইকিপিডিয়ার history of bitcoin পাতাটি পড়তে পারেন।

কেন বিটকয়েন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে?

বিটকয়েনের জনপ্রিয়তার অনেগুলো কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হল সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি।

  • সিকিউরিটি: বিটকয়েন একটি অত্যন্ত সিকিউর একটি অনলাইন মানি। এটা ব্লকচেইন আকারে প্রতিটি আর্থিক লেনদেন সংরক্ষণ করে। প্রতিটি লেনদেন কনফর্ম হওয়ার জন্য অনেক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। কোনো লেনদেন হালকা পরিবর্তন করতে চাইলে ব্লকে বড় রকমের পরিবর্তন দেখা দেয়।
  • প্রাইভেসি: বিটকয়েন কেনা বা বেচার জন্য আপনার ব্যাক্তিগত তথ্যের দরকার হয় না। এটা যেহেতু কেউ বা কোনো দেশ নিয়ন্ত্রন করতে পারে না তাই কে লেনদেন করছে তা বুঝার কোনো পদ্ধতি নেই। এজন্য হ্যাকার বা অবৈধ ব্যবসায় বিটকয়েন লেনদেন বাড়ছে।
  • বিকেন্দ্রীকরণ: বাংলাদেশের টাকা যেমন বাংলাদেশ ব্যংক কতৃক নিয়ন্ত্রিত তেমনি প্রতিটি দেশের টাকা কেন্দ্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বিটকয়েন কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং ওপেন; যেকোউ চাইলেই লেনদেন দেখতে পারে।

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, ডিসেন্ট্রালাইজ (বিকেন্দ্রীকরণ) বিষয়টার জন্য বিটকয়েন এত জনপ্রিয় হচ্ছে।অনেকে চাচ্ছেনা তাদের টাকা নিয়ে কেউ খেলুক বা নিয়ন্ত্রন করুক। যেহেতু সকল লেনদেন পাবলিক তাই এখানে ফ্রড করতে পারার কোনো সম্ভাবণা নেই।

বিটকয়েনে ব্লকচেইন ও ক্রিপ্টোগ্রাফি

বিটকয়েন হল একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি (vartual money). এর বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই। এটা কম্পিউটারের একটি ফাইল মাত্র। যেহেতু এখানে টাকার ব্যাপার তাই প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি দরকার হবে। এজন্য বিটকয়েনে ক্রিপ্টোগ্রাফি ও ব্লকচেইন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি বিটকয়েন লেনদেন ব্লকচেইন আকারে পাবলিক ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হয়।

ব্লকচেইন হচ্ছে একটি পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক। ব্লকচেইন শব্দটা ভাঙালে দুটো শব্দ পাওয়া যায় “ব্লক” ও ”চেইন”। ব্লক হচ্ছে বক্সের মতো এর মধ্যে তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং চেইন হল শিকল যেটার দ্বারা একটি ব্লক অন্যটির সাথে সংযুক্ত থাকে।

বিটকয়েন ট্রানজেকশনের প্রতিটি তথ্য ব্লকচেইন আকারে হয়ে থাকে। এবং এগুলো পাবলিক বা ওপেন থাকে, মানে ট্রানজেকশন যেকোউ চাইলেই দেখতে পাবে। এখানে একটা কিন্তু আছে, ট্রানজেকশন দেখতে পারলেও কার সাথে কার ট্রানজেকশন হয়েছে তা দেখতে পাবে না।

এখন ব্লকচেইন পদ্ধতিকে কাজে পরিণত করতে হলে ডাটা এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন করতে হবে। তা নাহলে কোনো তথ্য সুরক্ষিত রাখা যাবে না। কার একাউন্ট থেকে কার একাউন্টে টাকা যাচ্ছে এটা জানা গেলে প্রাইভেসি নষ্ট হবে।

এই এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশনের কাজটিই করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফির দ্বারা; চলুন দেখে নেই কিভাবে ক্রিপ্টোগ্রাফি ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে। আমরা এখানে ক্রিপ্টোগ্রাফির সেই পদ্ধতিগুলো দেখব যা ব্লকচেইনে ব্যবহার করা হয়। ক্রিপ্টোগ্রাফির সকল বিষয় আলোচনা করতে গেলে আর্টিকেলটি শুধু শুধু বড় হবে।

ক্রিপ্টোগ্রাফি: ব্লকচেইনে মূলত দুই ধরণের ক্রিপ্টোগ্রাফির এলগরিদম ব্যবহার করা হয়। এলগুরদম দুটি হল: এসিম্যাট্রিক-কি অ্যালগরিদম এবং হ্যাসিং অ্যালগরিদম।

হ্যাসিং অ্যালগরিদম হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো সাধারণ লেখাকে এলোমেলোভাবে সাজানো হয়; সাধারণত ব্লকচেইনে SHA-256 হ্যাসিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।

বিটকয়েনে হ্যাস অ্যালগরিদমের ব্যবহার

হ্যাসিং অ্যালগরিদমে কিকি সুবিধা হয়:

  • অ্যাভালেন্স ইফেক্ট: তথ্য সামান্য পরিবর্তন একটি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন আউটপুট হতে পারে।
  • ইউনিকনেস: প্রতিটি ইনপুটের জন্য একটা ইউনিক আউটপুট পাবেন। এই আউটপুটটি কারো সাথে মিলবে না।

হ্যাসিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্লকগুলোর ভিতরে ডাটা স্টোর করা হয়। ব্লকগুলোকে একসাথে চেইন আকারে আবদ্ধ করে রাখার জন্যও হ্যাসিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।

এসিম্যাট্রিক-কি: এটির দ্বারা প্রত্যেক ইউজার বা ব্যবহারকারীর জন্য নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড বা কি জেনারেট করা হয়। মূলত হ্যাকার বা আনঅথোরাইজ এক্সেস থেকে বিটকয়েনকে রক্ষা করে।

বিটকয়েন ব্যবহার করা কতটুকু নিরাপদ

বিটকয়েনর ব্যবহার নিরাপদ কি না বিষয়টা জানার জন্য আমাদের বিটকয়েন যে অ্যালগরিদম ব্যবহার করে তা আগে জানতে হবে।

বিটকয়েনে ব্লকচেইন ও হ্যাসিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়, যা অনেক এডভান্স একটি টেকনিক। হ্যাসিং অ্যালগরিদমে কোনো রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করা যায় না; চাইলেও কেউ আপনার হ্যাসিং কি দেখে মূল কি-কে আইডেন্টিফাই করতে পারবে না।

প্রতিটি লেনদেন পাবলিক ডাটাবেসে রেকর্ড করা হয় সুতরাং বিটকয়েনগুলি অনুলিপি করা, জালগুলি তৈরি করা যাবে না। যেহেতু সবাই দেখতে পাচ্ছে আপনার একাউন্টে কত টাকা আছে তাই আপনি চাইলেও যা আছে তার বেশি খরচ করতে পারবেন না।

বিটকয়েন প্রথম অবস্থায় মানুষ হার্ডডিক্স বা পেনড্রাইভে সেভ করে রাখত। কিন্তু বর্তমানে এর চাহিদা বাড়ায় বিভিন্ন কোম্পানী অনলাইন ওয়ালেট বানাচ্ছে; যেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজে বিটকয়েন সংরক্ষন করা যায়।

বিটকয়েন ওয়ালেট হ্যাক

এই ওয়ালেটগুলো হ্যাক হতে পারে। তখন আপনার টাকা বা কয়েন হ্যাক হবে বা আপনার টাকা হ্যাকার নিয়ে চলে যাবে। এটা কিন্তু বিটকয়েনের দূর্বলতা না এটা ওয়ালেট কোম্পানীগুলোর সমস্যা। তাই আপনার কাছে বেশি পরিমানে বিটকয়েন থাকলে সেগুলোর কোড অফলাইনে রাখুন।

এখন তো আমরা বুঝলাম যে বিটকয়েনকে হ্যাক করা বা ধ্বংশ করা যাবে না। তাহলে বিটকয়েন নিরাপদ।

কথা হচ্ছে বিটকয়েন তো নিরাপদ কিন্তু বিটকয়েনের ব্যবহার করা কি নিরাপদ?

বিটকয়েনের কোনো ফিজিক্যাল ভ্যালু নেই; এটার চাহিদা আছে তাই এর মূল্য আছে। হঠাৎ বিশ্ববাসি যদি এর চাহিদা অনুভব না করে তবে বিটকয়েন মূল্যহীন হয়ে যাবে; তখন আপনি বিটকয়েনের মাধ্যমে কোনো কেনাবেচা করতে পারবেন না। আপনার টাকা চোখের পলকে শেষ।

তবে বর্তমান পরিস্থিতি এমন কিছু বলছে না। এটা ইনভেস্ট করলে যেমন আপনার রাতারাতি বড়লোক হওয়ার সম্ভাবনা আছে তেমই দেওলিয়া হওয়ার সম্ভাবণা আছে।

কেন বিটকয়েনের মূল্য আছে

টাকা ছাড়াও প্রচুর জিনিস রয়েছে যা আমরা সোনার এবং হীরার মতো মূল্যবান বলে বিবেচনা করি। চিন্তা করুন; টাকা তো একটা কাগজ। কিন্তু এর এতো মূল্য কেন। কারণ টাকা দিয়ে যা ইচ্ছা তাই কিনা যায়।

বিটকয়েনের মূল্যরয়েছে কারণ বিটকয়েন দিয়ে চাইলেই জিনিসপত্র ক্রয় করা যায়। আপনি চাইলে বিটকয়েনকে রিয়েল টাকায় কনভার্ট করতে পারবেন; এই কারণেই মানুষের কাছে এটি মূল্যবান।

বিটকয়েন আয় করার সহজ উপায়

বিটকয়েন আয় করার খুবই সরল প্রসেস রয়েছে; কিন্তু আয় কারা সহজ নয়। নিচের তিনটি উপায়ে আপনি সহজে বিটকয়েন আয় করতে পারেন।

টাকা দিয়ে বিটকয়েনকে ক্রয়

আপনার কাছে বিটকয়েন কেনার মতো টাকা থাকলে অথবা টাকা দিয়ে বিটকয়েন কিনতে চাইলে সহজে কিনতে পারেন। এক বিটকয়েন কেনার জন্য আপনাকে আজকের দিনে ৫২৮০০ডলারের মতো খরচ করতে হবে।

আপনি চাইলে সাতোশি কিনে রাখতে পারেন। সাতোশি হলো বিটকয়েনের ক্ষুদ্র একটি অংশ; ১সাতোশি কিনতে আপনার খরচ করতে হবে মাত্র ০.০০০৫২৮০০ ডলার। মানে ১ ডলার দিয়ে আপনি ১৮৬৮টি সাতোশি কিনতে পারবেন।

মাইনিং করে বিটকয়েন আয়

কিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করা যায়? বিটকয়েন লেনদেন করা সময় যারা বিটকয়েনকে ভেরিফাই করে তাদের বিটকয়েন মাইনিং বলে।

বিটকয়েনের লেনদেন করার সময় কোনো জালি লেনদেন হচ্ছে কিনা? কোনো আনঅথোরাইজ অ্যাক্টিাভটি আছে কিনা? যেহেতু আগেই বলেছি বিটকয়েন কোনো গ্রুপ বা ব্যাক্তি লেনদেন করে না, তাহলে ভেরিফিকেশন করবে কে?

বিটকয়েনের এসকল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া মাইনাররা করে থাকে। এই ভেরিফিকেশন করার জন্য মাইনিং করলে উপহার সরূপ মাইনরদের কিছু বিটকয়েন দেয়া হয়।

চাইলে যে কেউ বিটেকয়েন মাইনিংয়ের কাজ করতে পারে। হ্যা, আপনিও চাইলেই বিটকয়েন মাইনিংয়ের কাজ করে বিটকয়েন আয় করতে পারেন।

বিটকয়েনের মাইনিং করতে কি লাগে?

মাইনিং করতে প্রথমদিকে তেমন কিছু লাগতো না। সাধারণ কম্পিউটার দ্বারা বিটকয়েন মাইনিং করা যেত; কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ব্লকচেইন বড় হচ্ছে কারণ প্রতিটি লেনদেনের তথ্য ব্লকচেেইনে থাকে। তাই কম্পিউটারের দ্বারা ক্যালকুলেট করা কষ্টকর হচ্ছে।

বিটকয়েন মাইনিং করার কম্পিউটার

এজন্যই বিটকয়েন মাইনিং করতে গেলে আপনার উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটার থাকতে হবে। বর্তমানে পার্সোনাল কম্পিউটার দ্বারা মাইনিং করা সম্ভব নয়। আপনাকে বিটকয়েন মাইনিং করতে গেলে ভালোমানের প্রফেশনাল কম্পিউটার সেটআপ দিতে হবে।

বিটকয়েনের বিনিময়ে পণ্য বিক্রি করা

আপনার যদি কোনো দোকান থাকে তবে বিটকয়েনের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারেন। অনলাইন বিজনেস থাকলে সেখানেও বিটকয়েনের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারেন।

সরল উপস্থাপনা: অনেকগুলো ক্রিপ্টোপকারেন্সির মধ্যে বিটকয়েন অন্যতম; এটি সাতোশি নাকামতো উদ্ভাবন করেন; ১০কোটি সাতোশিতে ১ বিটকয়েন। ক্রিপ্টোকারেন্সি মূলত ব্লকচেইন টেকনিক ব্যবহার করে। বিটকয়েনের যেমন ভালো দিক আছে তেমনি ঝুকিও আছে অনেক।

আরো পোস্ট: অনলাইনে টাকা ইনকাম (online income) করার ১৫টি উপায়।

বিটকয়েন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও উত্তর:

  • বিটকয়েন কি?
    • বিশ্বের প্রথম সফল ও জনপ্রিয় একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি হল বিটকয়েন।
  • বিটকয়েনের উদ্ভাবক কে?
    • সাতোশি নাকামতো।
  • কেন বিটকয়েন জনপ্রিয় হচ্ছে?
    • বিটকয়েন জনপ্রিয়তার করণ; এটি কোনো দেশের সরকার বা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। বিটকয়েনের জনপ্রিয়তার আরো একটি কারণ সিকিউরিটি ও প্রাইভেসি।
  • বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ?
    • না। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি বৈধ নয়। বিটকয়েন বেচাকেনা বা মাইনিং করা দন্ডনীয় অপরাধ; তবে ভারতে ক্রিপ্টোকারেন্সি অবৈধ থাকলেও ২০২০ সালে বৈধতা দেয়া হয়েছে।
  • কিভাবে বিটকয়েন আয় করা যায়?
    • বিটকয়েন আয় করার কিছু উপায় হল: টাকা দিয়ে বিটকয়েন কেনা, পণ্যদ্রব্য বিটকয়েনের বিনিময়ে দেয়া, বিটকয়েন তৈরি করা বা মাইনিং করা।

বিটকয়েন আয় করার পরে অনেক উপায়ে তা খরচ করতে পারেন; যেমন আপনি চাইলেই বিটকয়েন সাপোর্ট করে এমন মার্কেটপ্লেস থেকে জিনিপাত্র ক্রয় করা যায়। আবার আসল টাকাই বিটকয়েনকে কভার্ট করতে পারেন।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-