SSD এর ৫টি সুবিধা ও অসুবিধা। (SSD Vs HDD)

SSD ব্যবহরের সুবিধা ও অসুবিধা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু। SSD ব্যবহরের সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে। ‍SSD vs HDD in Bengali.

1082 VIEWS

SSD-সুবিধা-অসুবিধা

এস এস ডি ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হল। SSD সুবিধা ও অসুবিধা।

Solid State Drives (SSD) হল একটি কম্পিউটার ডাটা স্টোরেজ ডিভাইড। এর মাধ্যমে কম্পিউটারের ফাইল, গান, ছবি এগুলো সেভ করা হয়।

অধিকাংশ মানুষ এস এস ডি ব্যবহরের সুবিধা অসুবিধা না জেনেই এসএসডি ক্রয় করে। হয়তো আপনার এস এস ডি সম্পর্কে এই ৫টি বিষয় জানা জরুরী।

SSD এর ৫টি সুবিধা

১. স্পিড: ‍SSD এর ভিতর কোনো ম্যাকানিকাল পার্ট যেমন: মোটর, প্লেট ইত্যাদি না থাকার কারণে অনেক দ্রুতগতি সম্পন্ন হয়। সাধারণ এস এস ডি প্রায় 5-6গুন পর্যন্ত গতিসম্পন্ন হয় হার্ডডিক্সের তুলনায়।

২. স্থায়িত্ব: SSD এর ভিতর সিম্পল ফ্লাশ মেমরি চিপ থাকে, কোনো মুভিং পার্ট থাকে না। তাই সামান্য অঘাত লাগলে বা মেঝেতে পড়ে গেলে নষ্ট হওয়ার সম্ভারণা কম থাকে। তবে এই না যে পড়লে এস এস ডি নষ্ট হবে না।

৩. কম পাওয়ার: যেহেতু এস এস ডি তে কোনো ম্যাকানিক্যাল মুভমেন্ট হয় না; তাই এটির পাওয়ার খরচ তুলনামূলক অনেক কম। এটি অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ করে চলতে পারে।

৪. কম নয়েজ: এখানে কোনো মুভিং পার্ট নেই, কোনো ম্যাকানিক্যাল পার্টও নেই; আছে শুধু রেজিস্টার চিপ তাই শব্দ উৎপাদন হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এস এস ডি কোনো শব্দ উৎপাদন করে না।

৫. কম তাপ: SSD একেবার তাৎ উৎপাদন করে না; বিষয়টা এমন নয়। তবে যে তাপ উৎপাদন করে তা হার্ডডিক্সের তুলনায় ৮০% কম।

SSD এর কিছু অসুবিধা

১. বাজার মূল্য: অধিকাংশ মানুষ এস এস ডি ব্যবহার না করার কারণ এর চড়া মূল্যমান। HDD এর তুলনায় এসএসডি ৭-৮ গুণ বেশি দামি হয়। যেমন: 1TB HDD এর দাম ৪০০০-৪৫০০ টাকা; সেখানে ৪০০০ টাকা দিয়ে আপনি শুধুমাত্র 200GB এস এস ডি।

২. স্টোরেজ ক্যাপাসিটি: এসএসডির স্টোরেজ ক্যাপাসিটি অনেক কম। এটা নির্দিষ্ট স্টোরেজ সম্পন্ন এসএসডির ডাম কম; যেমন: ১২৮ জিবি পর্যন্ত দাম তুলনামূলক কম থাকলেও বেশি স্টোরেজ ক্যাপাসিটি সম্পন্ন এসএসডির দাম অনেক বেশি।

৩. জীবনকাল: কিছু কিছু এসএসডি NAND ফ্লাশ মেমরি ব্যবহার করে তৈরি। যারা নির্দিষ্টবার পর্যন্ত ডাটা লিখতে ও মুছতে পারবে।

যেমন: একটি রেজিস্টারের রাইট/ইরেজ লিমিট ১০০০বার; অর্থাৎ ঐ রেজিস্টারটি ব্যবহার করে আপনি ১০০০বার কোনো কিছু সেভ ও ডিলিট করতে পারবেন; তারপর রেজিস্টারটি নষ্ট হয়ে যাবে। সংক্ষেপে বললে HDD এর তুলনায় SSD এর লাইফটাইম কম। SSD দ্রুত নষ্ট হবে।

৪. ডাটা রিকভারি: SSD এর এই ফিচারটি অনেকের কাছে সুবিধার, অনেকের কাছে অসুবিধার। SSD তে ডাটা ডিলেট করার পর রিকভারি হওয়ার সম্ভারণা অনেক কম; এখানে ডাটা রিকভারি প্রায় অসম্ভব।

যাদের সিকিউরিটি নিয়ে চিন্তা বেশি তাদের জন্য এই ফিচার আশির্বাদসরূপ। কারণ একবার ডাটা ডিলেট করে দিলে কেউ ডাটা রিকভারি করে আপনাকে ব্লাকমেইল করতে পারবে না।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসুবিধার, অনেকসময় ভুল করে ডিলেট করে ফেলি বা এসএসডি নষ্ট হতে পারে। তখন আপনার ডাটা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবণা নেই বললেই চলে।

৫.লেটেস্ট টেকনলোজি: ২০২১-এ এটিকে লেটেস্ট টেকনলোজি বলা চলে না। তবুও এটা অনেকটাই নতুন বাজারে এসেছে। এটাতে অনেকসময় বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে। আপনি এসএসডি কিনে চালাতে চালাতে হঠাৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে; তখন আপনার ডাটা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবণা শতভাগ। তাই ব্যাকআপ রাখা শিখুন।

সামারি ও পরামর্শ

SSD ব্যবহরের সুবিধা ও অসুবিধা

প্রতিটা জিনিসেরই ভালো খারাপ দুটি দিক থাকে;তেমন SSD সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে।

এসএসডির সবচেয়ে বড় যে সুবিধা সেটা হল এর স্পিড যেটা প্রায় ৫২০ MB/s থেকে ১০০০MB/s যেখানে HDD মাত্র ১২০MB/s.

আপনি একটি ট্রিক ব্যবহার করে এসএসডির শুধু ভালো দিকগুলো নিতে পারেন। সে ট্রিকটি হল কম্পিউটারে হার্ডডিক্সের পাশাপাশি এসএসডি ব্যবহার করুন।

আপনার কম্পিউটারের বুথ করা বা অপারেটিং সিস্টেমের জন্য ১২৮ বা ২০০ জিবির এসএসডি ব্যবহার করুন; এতে কম্পিউটারের গতি আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

আর সাধারণ ফাইল যেমন: ভিডিও, অডিওসহ বিভিন্ন ফাইলগুলো রাখার জন্য হার্ডডিক্স ব্যবহার করুন।

একটি কম্পিউটারে প্রাইমারি স্টোরেজের পাশাপাশি সেকেন্ডারি হার্ডডিক্স ব্যবহার করা যায়। প্রাইমারি স্টোরেজ হিসেবে এসএসডি এবং সেকেন্ডারি হিসেবে HDD ব্যবহার করুন।

এত আপনার অর্থও বাচবে, আবার এসএসডির সকল খারাপ নজর থেকে বেচে গেলেন। আবার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের গতি তিন থেকে চার গুন বৃুদ্ধ পাবে।

=> ডেক্সটপ কম্পিউটর না ল্যাপটপ কোনটা কিনব।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-