কন্টেন্ট রাইটিং টিপস (এসইও Friendly)

আর্টিকেল লেখার নিয়ম। এসইও অপটিমাইজড আর্টিকেল লেখার টিপস। ব্লগপোস্ট লেখার নিয়ম। How to write SEO friendly blog post in bangla.

1122 VIEWS

কন্টেন্ট-রাইটিং-টিপস

আপনি কি জানেন কীভাবে SEO ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লিখতে হয়?

এটা হচ্ছে এমন একটি আর্ট যেটা আপনার ব্লগ বা আপনার লেখালেখির ক্যারিয়ারকে পরবর্তী লেভেলে নিয়ে যাবে।

যে কেউ আর্টিকেল লিখতে পারে, কিন্তু SEO অপটিমাইজড আর্টিকেল লেখার জন্য বিশেষ ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়।

এই আর্টিকেলে আমি “SEO অপটিমাইজড আর্টিকেল” লেখার জন্য এমন কিছু টিপস শেয়ার করব যেটা সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাঙ্ক বাড়াতে সাহায্য করবে।

প্রত্যেক ব্লগ পোস্ট হচ্ছে একটি ওয়েব পেজের মতো যেগুলোকে আপনি বিশেষ কিছু কী-ওয়ার্ড এর সাহায্যে অপটিমাইজ করতে পারবেন এবং সার্চ ইন্জিনে র‌্যাঙ্ক করাতে পারবেন।

যখন আপনি কোন SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখবেন তখন আপনাকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

যখন আমি আমার কোন ব্লগে কাজ করার জন্য কোন লেখক ভাড়া করি তখন আমি তাদেরকে ম্যানুয়াল ইনপুট এবং চেকলিস্ট দেই যেটা তাদেরকে ভালো মানের আর্টিকেল লিখতে সাহায্য করে। এখানে নির্দিষ্ট টপিক থেকে শুরু করে পরিপূর্ণ SEO চেকলিস্ট রয়েছে যেটা অবশ্যই ফলো করা উচিত।

নোটঃ আমি এসকল তথ্যগুলো সাধারনত আমার ব্লগের সকল লেখকদেরকে মেইল করে জানিয়ে থাকি। তাই আমি ভাবলাম এটা একটি ভালো আইডিয়া হবে যদি আমি এসকল তথ্যগুলোকে নিয়ে একটি পোস্ট করি। এর ফলে bnlite এর পাঠকরা উপকৃত হবে এবং সাথে সাথে কীভাবে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে হয় সেটি শিখতে পারবে।

আরো মনে রাখতে হবে যে, এই পোস্টে আমি (কী-ওয়ার্ড রিসার্চ) পুরোপুরি কভার করতে পারবনা কারন এটার জন্য আলাদা একটি পোস্টের প্রয়োজন।

যেভাবে SEO ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লিখা শুরু করবেন। নিচে স্টেপসমুহ বিশ্লেষণ করা হলঃ

স্টেপ-১: গবেষনা করে শুরু করুন:

আপনি যদি আপনার নিজের জন্য বা বা আপনার ক্লায়েন্ট এর জন্য বৈচিত্রময় কিছু করতে চান তাহলে গবেষণা ছাড়া সেটা হবে আপনার জন্য অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়ার মত।

এ অবস্থায় আপনাকে যেসকল বিষয়গুলো নির্ধারণ করতে হবে তা হলঃ—

  • টার্গেট এর জন্য কী-ওয়ার্ড
  • আর্টিকেল এর দৈর্ঘ্য
  • আর্টিকেল এর ধরন
  • আউটলাইনে থাকা আর্টিকেলগুলোকে বিশ্লেষণ করা
  • People also ask প্রশ্নগুলো

আপনার নিজেকে সাহায্য করার জন্য প্রথমে SEMursh টুল ব্যবহার করতে পারেন। SEMursh আপনাকে free trial অফার করবে যেটা আপনাকে আপনার টপিকের উপর ভালোভাবে গবেষণা করতে এবং কী-ওয়ার্ড অপটিমাইজেশনে সাহায্য করবে।
এটা আপনকে টার্গেট করার জন্য সঠিক কী-ওয়ার্ড নির্বাচনে সাহায্য করবে।

স্টেপ-২: কন্টেন্ট এর ধরন অনুযায়ী keyword সার্চ করুন:

আপনাকে আপনার টার্গেট keyword গুগলে সার্চ করে দেখতে হবে কোন ধরনের আর্টিকেল গুলো বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে রয়েছে। এটা মুলত গবেষনারই একটি অংশ যেটা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে কোন ধরনের আর্টিকেলগুলোর জন্য গুগলে সাহায্য চাওয়া হয়।

আপনি যখন গুগলে কিছু সার্চ করবেন তখন বিভিন্ন প্যাটার্ন দেখতে পাবেন।

স্টেপ-৩: আপনার আর্টিকেল এর আদর্শ দৈর্ঘ্য খুজে বের করুন:

আপনি আপনার আর্টিকেলটির র‌্যাঙ্ক বৃদ্ধি করে প্রথম পেইজে প্রদর্শন করতে SEMursh writting assistant ব্যবহার করে আর্টিকেলের শব্দের লিমিট নির্ধারণ করতে পারেন।
এজন্য যা করতে হবে তাহলঃ

  • SEMursh এর ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে হবে।( এখানে আপনি ১৪ দিনের ফ্রি সুবিধা পাবেন)
  • Under page & Tech SEO > SEO content template.
  • এরপর আপনার টার্গেট key-word প্রবেশ করাবেন
  • দেশ এবং ডিভাইস নির্বাচন করবেন যেটাকে আপনি টার্গেট করবেন।
Create SEO template

তারপর “Create SEO template” এ ক্লিক করতে হবে। ক্লিক করার পর নিচের মতো রেজাল্ট দেখাবে। যেখান থেকে এসইও করতে কিকি দিতে হবে ও দেয়া আছে তা দেখাবে।

আমি সাধারনত আমার SEO অপটিমাইজড আর্টিকেলে ১২০০+ ওয়ার্ড নিশ্চিত করে থাকি।

যদি আপনাকে ১ নাম্বার র‌্যাঙ্কিং এ যেতে হয় তাহলে আপনাকে এসকল স্টেপ ফলো করতে হবে।

স্টেপ-৪: People also ask এর প্রশ্নগুলো অনুসন্ধান করা:

গুগলে কোন টার্গেট কী-ওয়ার্ড সার্চ করার পর গুগল “People also ask” নামে একটি সেকশন প্রদর্শন করে।

আপনি যেকোন একটি প্রশ্ন সিলেক্ট করে আপনার আর্টিকেলে সেটির উত্তর লিখুন। উত্তর লিখেই থেমে যাবেন না। গুগল সার্চ সেকশনে People also ask সেকশনে দেখবেন রিলেটেড অনেক প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলোর উত্তর দিতে থাকুন। গুগল তার সেনস দিয়ে আরো প্রশ্ন যুক্ত করতে থাকবে।

এটা SEO অপটিমাইজড কন্টেন্ট নিশ্চিত করার একটি স্মার্ট পদ্ধতি যেটা মানুষের অনুসন্ধানকৃত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিং বাড়াতে সাহায্য করে।

ঠিক আছে, এখন সময় হচ্ছে SEO এর জন্য আর্টিকেল লেখা শুরু করা এবং অপটিমাইজ করা।

বর্তমানে আমি আমার কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হিসেবে WordPress ব্যবহার করছি। যদি আপনি অন্য কোন কিছু ব্যবহার করে থাকেন তবুও পরবর্তী টিপস গুলো আপনার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

১. পোস্টের টাইটেল এবং মেটা টাইটেলঃ

প্রথমত আপনাকে post title এবং meta title এর মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে হবে।

  • Post title: আপনার পাঠকেরা ওয়েবসাইটে যেভাবে পোস্টের টাইটেল দেখতে পাবে সেটি হল post title.
  • Post meta title: সার্চ ইন্জিন যেভাবে সার্চ রেজাল্ট হিসেবে আপনার পোস্টকে প্রদর্শন করবে সেটি হল meta title.

যদি আপনার SEO সেটিংয়ে আলাদা করে কোনো meta title না থাকে তাহলে আপনার পোস্টের টাইটেল টিই meta title হিসেবে কাজ করবে।

মেটা টাইটেলে আপনার কী-ওয়ার্ড থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রো-টিপস: আপনার পোস্টের টাইটেলকে ৬৬ অক্ষরের নিচে রাখুন।

২. পোস্ট মেটা ডিস্ক্রিপশনঃ

সকল WordPress SEO plugin আপনার পোস্টে মেটা ডিস্ক্রিপশন যুক্ত করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এসকল ডিস্ক্রিপশন সমুহ সার্চ ইন্জিন র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মেটা ডিস্ক্রিপশনকে আপনার ব্লগের সেলস কপি হিসেবে চিন্তা করতে হবে।
** ১৫৬ অক্ষরের মধ্যে আপনাকে কী-ওয়ার্ড দ্বারা এমন ডিস্ক্রিপশন তৈরি করতে হবে যাতে এটা ব্যবহারকারীকে আকর্ষিত করে এবং ক্লিক করাই।

যদি আপনি পূর্বের পোস্ট গুলোতে মেটা ডিস্ক্রিপশন যুক্ত না করে থাকেন তাহলে আপনার এখনি মেটা ডিস্ক্রিপশন লেখা শুরু করা উচিত। এটা নিশ্চিত করবেন যে, আপনি মেটা ডিস্ক্রিপশন এ মেইন মেইন কী-ওয়ার্ড যেন থাকে।

মেটা ডিস্ক্রিপশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার আগে পাবলিশড করা পোস্টগুলোতে ফিরে যান এবং চেক করে দেখুন পোস্টে মেটা ডিস্ক্রিপশন আছে কিনা , যদি না থাকে তাহলে যুক্ত করুন।

পোস্টে মেটা ডিস্ক্রিপশন অপটিমাইজ করা নিশ্চিত করে যে এটা অনেক ট্রাফিক ড্রাইভ করতে পারবে।

গুগল প্রত্যেক ব্লগ পোস্টকে আলাদা আলাদা ওয়েব পেইজ হিসেবে দেখে থাকে। এজন্য প্রত্যেক পোস্টকে র‌্যাঙ্কিং করবেন নির্দিষ্ট কিছু কী-ওয়ার্ড এর মাধ্যমে।

মেটা ডিস্ক্রিপশন হল কী-ওয়ার্ড লেখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

৩. ইমেজের জন্য Alt Attribute ব্যবহারঃ

গুগল ইমেজ পড়তে পারেনা।
* টেক্সট বা লেখা হচ্ছে গুগলের ইমেজ শনাক্ত করার উপায়।

আপনার দেয়া ইমেজটি কোন বিষয়ে এটা সার্চ ইন্জিনকে বোঝানোর জন্য আপনাকে ইমেজের সঠিক নাম লিখতে হবে।

অনেক মানুষ যে ভুলটা করে তা হল তারা ইমেজ আপলোড করার সময় যে ধরনের নাম দেয় তা হল “image001.jpg”

**এটা একটি মারাত্মক ভুল!
যখন কোন ইমেজের নাম লেখা হয় তখন এটা তার পরিচয় বহন করে।

উদাহরনস্বরুপ, আপনি Adsense dashboard এর Screenahot নিলেন এবং নাম দিলেন “Adsense ” এটা কিন্তু টার্গেট হবেনা। আপনাকে যে ধরনের নাম লিখতে হবে তা হল “Adsense-dashboard”.

এরপর মানুষ যখন সার্চ ইন্জিনে ইমেজ সার্চ করবে তখন আপনার ব্লগ পোস্টের ইমেজ শো করবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে প্লাগিন ছাড়াও খুব সহজে এখান থেকে Alt টেক্সট ব্যবহার করা যায়।

৪. ইন্টারলিংক এবং অ্যাংকর টেক্সটঃ

যখন আপনি নতুন কোন পোস্ট লিখবেন তখন পাবলিশ করার আগে পুরাতন কিছু পোস্টের লিংক যুক্ত করতে পারেন যাতে ব্যবহারকারী অন্যান্য পোস্টে ভিজিট করে।
এটা র‌্যাঙ্কিং বৃদ্ধির একটি ভালো আইডিয়া।

৫. পারমালিংক থেকে STOP ওয়ার্ড রিমুভ করাঃ

বিভিন্ন শব্দ যেমন ‘a’ ‘an’ ‘the’ এগুলো কে সার্চ ইন্জিন ইগনোর করে। উদাহরনস্বরুপ,
আপনি একটি পোস্টের টাইটেল লিখলেন, 3 ways to Make a Blog Business Plan

তাহলে আপনার ডিফল্ট পারমালিংক হবে এমন.. => domain.com/3-ways-to-make-a-blog-business-plan.html

এখানে “to” এবং “a” হল STOP ওয়ার্ড।

আপনি edit permalink এ click করে “blog-business-plan” করতে পারেন যার মাধ্যমে STOP ওয়ার্ড রিমুভ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ যে পোস্ট গুলো পাবলিশ করা হয়ে গেছে সেগুলোর permalink কখনও পরিবর্তন করবেন না।

৬. H1, H2, H3 হেডিংসমুহ

সঠিক হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করা এসইও কপিরাইটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

হেডিংসমুহ SEO তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে যথাযথভাবে H1, H2, H3 হেডিংসমুহ লিখতে হবে।

সাধারণত এসইও ফ্রেন্ডলি থিমে ডিফল্টভাবে টাইটেল কে H1 ট্যাগে দেওয়া থাকে।

পরবর্তী সাব-হেডিংয়ের জন্য, আপনি একটি H2 এবং তারপরে একটি H3 এবং আরও কিছু ব্যবহার করতে পারেন।

কার্যকর এসিও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট লেখার জন্য হেডিং ট্যাগগুলোর সঠিক ব্যবহার করা অপরিহার্য। বিশেষ করে যখন আপনি অনেক বড় পোস্ট লেখেন।

এসিও কামউনিটি মতে, আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ডগুলো H1, H2, and H3 ট্যাগের ভিতর লিখা উচিৎ।আউটলাইন তৈরি করার সময় সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ পোস্টে কি কি হেডিং ব্যবহার করবেন।

Post Tags:-

ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে আকর্ষনের একটি বিষয় ছিল প্রযুক্তি। ধীরে ধীরে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি নেটওয়ার্ক টেকনোলজির সাথে। নিজের অভিজ্ঞতা ও টেকনোলজি সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্য এই লেখালেখি শুরু করা...

মন্তব্য করুনঃ-