ব্লগিংয়ের জন্য নিজেকে মটিভেট রাখার উপায় (আপনি বিষন্ন)?

ব্লগিংয়ে আপনি হতাশ। কিভাবে ব্লগিং করার জন্য নিজেকে মটিভেট রাখবেন। মটিভেশন টিউটেরিয়াল।

1059 VIEWS

ব্লগিংয়ের-জন্য-নিজেকে-মটিভেট-রাখার-উপায়

কিছুদিন আগে আমি একজন উদীয়মান ব্লগারের সাথে ফোনে কথা বলছিলাম৷ সে আমাকে বলছিল যে, সে তার ব্লগিংয়ের জন্য অনুপ্রেরণা নিয়ে খুবই চিন্তিত৷

নিচে আমি সেই কথোপকথনের প্রথম কয়েকটি লাইন তুলে ধরছি ৷ ( এখানে আমি তাকে জনাব ‘ক’ হিসেবে উপস্থাপন করছি )

আমি : কি হয়েছে? কেন তুমি বিষন্নতায় ভুগছো?

জনাব ‘ক’: আমি আমার ব্লগে বেশ কয়েক মাস যাবত কাজ করছি৷ এটা আমার ৪র্থ ব্লগ এবং হতে পারে এটাই শেষ৷ আমি এখনো ১০০ বা তার কিছু কমবেশি views পাচ্ছি৷ হাতেগোনা কয়েকটি Comments পাচ্ছি যার মধ্যে কিছু নেগেটিভ Comments ও থাকছে যেটা আমাকে খুবই হতাশায় ফেলেছে৷

আমি: কেন তুমি ব্লগিং শুরু করেছিলে?

জনাব ‘ক’: কারন এটা আমার শখ ছিল৷ আমি চাইতাম মানুষ আমার ব্লগ পড়ুক, পছন্দ করুক এবং আমাকে অনুসরণ করুক৷ আর দ্বিতীয় কারন ছিল টাকা৷ যদিও এটা এখন প্রধান বিষয় না তবে হতে পারে আমার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের প্রধান একটি অংশ৷

আমি: তুমি সোশাল নেটওয়ার্কে কোন ধরনের মানুষদেরকে ফলো কর?

জনাব ‘ক’: বেশিরভাগই ব্লগার এবং ইন্টারনেট মার্কেটার৷

আমি: তারা যখন তাদের সফলতার গল্প বলে তখন তোমার অনুভূতি কেমন হয়?

জনাব ‘ক’: তাদের অনেকেই আমাকে অনুপ্রাণীত করে আবার কেউ কেউ আমাকে বিষন্নিত করে (…)

যখন আমি তার সাথে কথা বলছিলাম তখনি আমি তার সমস্যা ধরে ফেলেছিলাম৷ এটা খুবই সাধারন বিষয় যেটা প্রায় সব ব্লগারদেরই সম্মুখিন হতে হয়৷

এই পর্যায়ে আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস শেয়ার করছি৷ যারা যারা এ ধরনের সমস্যার সম্মুখিন হয়েছেন আশা করছি টিপস গুলো তাদের সমস্যার সমাধান করবে৷

ব্লগিং এ নিজের অনুপ্রেরণা ফিরিয়ে আনুন।

টিপস-১: ব্লগ আগে নিজের জন্য পরে অন্যের জন্য

পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রথমে নিজের জন্য ব্লগ লিখতে হবে৷ নতুন ব্লগারদের মধ্যে সচরাচর যে ভুলটি দেখা যায় সেটি হল তারা অন্যের চালচলনকে নকল করে৷ আপনার ব্লগ হচ্ছে সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয় যেটা আপনার পরিচয় বহন করে৷

আপনি হাজারো সমর্থক একদিনে, একমাসে , বা এক বছরে না পেলেও আপনার ব্লগ যদি একজন মানুষের সাহায্যে আসে, তাহলে আপনার ব্লগ লেখাটি স্বার্থক৷

আপনি আপনার অবস্থানে অটল থেকে আপনার যেটা পছন্দ সেটা লিখুন৷

ব্লগিংয়ে একটি ভ্রান্ত ধারনা আছে যে, এর আগে যে টপিক নিয়ে শতবার লেখা হয়েছে সেটা আর লেখার দরকার নেই ৷ এটি সম্পূর্ণ ভুল৷

মনে রাখতে হবে, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জন্ম নিচ্ছে৷ হতে পারে আপনার লেখাটাই সে প্রথম পড়ল৷ সে যেটি শিখতে বা জানতে চেয়েছে সেটা সে আপনার মাধ্যমেই শিখতে পারল৷ এভাবেই আপনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন ৷

এককথায় … আপনার অবস্থানে অটল থাকুন এবং নিজের জন্য লিখুন৷

টিপস-২: প্রথমে প্রাথমিক টপিক দিয়ে শুরু, পরবর্তীতে উচ্চতর টপিক

অনেক ব্লগাররা যে ভুলটি করে থাকে সেটি হল তারা শুরুতেই উচ্চতর লেভেলের টপিক নিয়ে ব্লগ করে থাকে যেটা নতুন পাঠকদের জন্য বেশ চাপের হয়ে যায়৷

আপনাকে আকর্ষন বাড়াতে এবং সৃজনশীল হতে আপনার সংগ্রহে প্রচুর কন্টেন্ট থাকতে হবে যেটা আপনার পাঠকদেরকে আপনার ব্লগে স্থির থাকতে সাহায্য করবে৷ যেটার মানে দাঁড়ায়, আপনার লেখা ব্লগ গুলো তাদেরকে টপিকগুলো বুঝতে সাহায্য করছে৷

উদাহরনস্বরুপ বলা যায় , জনাব ‘ক’ তার ব্লগে ‘SEO Plugins’ নিয়ে লিখেছিল যেটার ফিডব্যাকে সে অখুশী ছিল৷ এখন ব্লগ পাবলিশ করার পূর্বে তার নিজের কাছে যে প্রশ্নগুলো করা উচিৎ সেগুলো হচ্ছে…….

  • আপনি এই ব্লগ করার আগের ব্লগগুলো কি পুরোপুরি শেষ করেছেন ?
  • আপনি কি আপনার পাঠকদেরকে ‘SEO Plugins’ এর উপকারিতা সম্পর্কে জানিয়েছেন ? এবং কেন ব্লগারদের কাছে ‘ SEO Plugins’ গুরুত্বপূর্ণ ?

সমাধান:
কোন টপিক লেখার জন্য একেবারে বেসিক লেভেল থেকে শুরু করতে হবে এবং ধীরে ধীরে উচু লেভেলে যেতে হবে৷ তাহলে পাঠকদের বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না৷

টিপস-৩: কোনরকম জড়তা ছাড়াই পোস্ট করুন

ব্লগিং শুরু করার পেছনে সবারই কোন না কোন উদ্দেশ্য থাকে৷

যখন আমি ব্লগিং শুরু করেছিলাম আমার যেটা আকর্ষনীয় লাগত সেটাই লিখতাম৷ টাকা পয়সা উপার্জন বা ফ্যান-ফলোয়ার বাড়ানোর কথা মাথাতেই আসেনি৷ কিছু ‘ধন্যবাদ‘ আর কিছু ‘নাইচ‘ কমেন্টস আমাকে ব্লগিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিল৷ …এটাই হল আমার গল্প যদিও হতে পারে আপনাদেরটা ভিন্ন৷

ব্লগিংয়ের একটি মৌলিক সত্য হচ্ছে … “ব্লগাররা ব্লগ করে কারন তারা ব্লগিংকে ভালোবাসে”

আপনার ব্লগ হচ্ছে সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত বিষয় ৷ আপনার যেটা পছন্দ সেটাই লিখুন৷
শুধুমাত্র টাকার জন্য বা ফ্যান ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য ব্লগ করা যাবে না৷

টিপস-৪: সামাজিক নেটওয়ার্ক কে ভুলে ব্লগিংয়ে মনোনিবেশ করুন

হ্যা, আমি জানি যে সামাজিক যোগাযোগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু অনেক ব্লগারদের হতাশার পেছনে সামাজিক যোগাযোগ কোন না কোন ভাবে দায়ী৷

যখন আপনি রুমে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে আছেন তখন দেখলেন কেউ কেউ তাদের চমৎকার চমৎকার ভ্রমন নিয়ে ব্লগ করছে৷ তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনাফ মন খারাপ হতে পারে৷

সত্যি কথা বলতে যখন আমিও এগুলো দেখতাম তখন আমারো এমন অবস্থা হত৷ আমারো মনে ইচ্ছা হত চার দেয়ালের বাইরে দূরে কৌথাও ঘুরতে যাই, নতুন কোন গন্তব্যে৷
যাইহোক….আমি জানতাম যে সেই সময় আমারো একদিন আসবে৷ কিন্তু আমার লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য আমাকে আমার কাজে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে হবে৷

প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগের আপডেটগুলো আপনার জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে৷ এগুলো আপনাকে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিতে পারে৷

যদি আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে শুধুমাত্র একটা টুল হিসেবে ব্যবহার না করতে পারেন , তাহলে আপনার উচিৎ সামাজিক যোগাযোগ কে পরিহার করা ৷

  • সামাজিক নেটওয়ার্ক কে বাস্তব জীবনের সংযোগের জন্য ব্যবহার করুন।

সঠিক মানুষের সাথে সংযুক্ত হয়ে তাদের কাছ থেকে কিছু শিখতে পারলে আপনি অনেক উপকৃত হতে পারেন৷ লক্ষ্য রাখতে হবে অন্যরা কি করছে৷ তবে কখনো তাদের সাথে নিজেকে তুলনা করা যাবে না৷

যদি আপনি সামাজিক যোগাযোগ কে শুধুমাত্র লিংক শেয়ারের জন্য ব্যবহার করেন এবং আপনি যদি চান একলাফে উপরে উঠবেন তাহলে বাস্তবিকভাবে হুট করেই এটা হয়ে যায় না৷

জনাব ‘ক’ এর হতাশার পেছনে আরেকটি কারন হচ্ছে , তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বেশিরভাগই ব্লগার দ্বারা পূর্ণ ছিল যারা তার লেখা সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত ছিল৷
আসলেই তাদের আকর্ষন সীমিত থাকে৷ এই জন্য ওই সকল ব্লগারদের ওপর ফোকাস না করে ফোকাস করুন নতুনদের প্রতি যারা এই সেক্টরে নতুন এবং যারা জানতে আগ্রহী৷

খেয়াল রাখতে হবে…

  • সঠিক কারনে সামাজিক নেটওয়ার্ক কে ব্যবহার করতে হবে ৷
  • এটা শুধুমাত্র নেটওয়ার্ক এর জন্য ব্যবহার করতে হবে , নিজ-পদন্নোতির জন্য নয় ৷

টিপস-৫: ব্লগিং নিয়ে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করে রাখুন

ব্লগিং নিয়ে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ যদি ভবিষ্যতে অর্থ উপার্জন করতে চান তবে আপনার বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা থাকতে হবে যেমন, কন্টেন্ট তৈরির পরিকল্পনা, মার্কেটিং পরিকল্পনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা সহ অনেক কিছু৷
সময়ের সাথে সাথে পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে৷

যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে…

  • শুধুমাত্র টাকার জন্য ব্লগ করা যাবেনা৷
  • শখের জন্য ও নিজের জন্য ব্লগ করুন৷
  • ব্লগ পাবলিশ করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন , ব্লগটি কি কাউকে সাহায্য করতে পারবে? যদি উত্তর ‘হ্যা’ হয় তাহলে ব্লগটি পাবলিশ করুন৷
  • সেই সকল ব্লগারদের উপেক্ষা করুন যারা আপনাকে হতাশাগ্রস্ত করে৷
  • আপনি যখন অন্যদের সফলতার ব্লগ দেখবেন তখন নিজে ভাবুন কি করলে আপনিও ওই অবস্থানে যেতে পারবেন? ভাবুন এবং কাজ শুরু করে দিন৷ Take the action….

মনে রাখবেন, সফলতার জন্য সময়ের প্রয়োজন৷ আপনি এক দুইদিনেই বড় কিছু করে ফেলতে পারবেন না৷ সফলতার জন্য স্মার্ট হতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে৷

যখনি আপনি ব্লগিংয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন তখনি থেমে যান, সময় নিন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন:

  • কেন আমি ব্লগিং শুরু করেছিলাম ? এবং কেন আমি এখন ব্লগিং করছি?

আগের কন্টেন্টগুলোতে ফিরে যান এবং ইতিবাচক মন্তব্য গুলো পড়ুন৷ দেখবেন সেগুলো আপনার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে৷

Solution Post:- ব্লগে বেশি ভিউ পাওয়ার ১০ টি সিক্রেট।

Post Tags:-

ছোটবেলা থেকেই আমার কাছে আকর্ষনের একটি বিষয় ছিল প্রযুক্তি। ধীরে ধীরে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি নেটওয়ার্ক টেকনোলজির সাথে। নিজের অভিজ্ঞতা ও টেকনোলজি সম্পর্কিত বিভিন্ন টিপস অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্য এই লেখালেখি শুরু করা...

মন্তব্য করুনঃ-