ব্লগে বেশি ভিউ পাওয়ার ১০ টি সিক্রেট।

খুব ভালো মানের কন্টেন্ট দিয়ে থাকেন কিন্তু কোনোভাবেই ব্লগে পাঠক পাচ্ছেন না।কিছু কৌশল আপনার ব্লগের জন্য পাঠক বাড়াবে।

1689 VIEWS

ব্লগে-বেশি-ভিউ-পাওয়ার-১০-টি

আপনার ব্লগের জন্য পাঠক পাওয়া কি খুব কঠিন হয়েছে? আপনি একটি সুন্দর ও শিক্ষনীয় ব্লগ তৈরি করেছেন। খুব ভালো মানের কন্টেন্ট দিয়ে থাকেন কিন্তু কোনোভাবেই পাঠক পাচ্ছেন না। আপনি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষন করতে পারছেন না? আপনার মনে হচ্ছে শুধু শুধু আপনার এনার্জি ও সময় নষ্ট হয়েছে? আপনার ব্লগিং করার ইচ্ছা চলে যাচ্ছে ও দিন দিন হতাশা তৈরি হচ্ছে।

তাহলে আপনি একা নন। অধিকাংশ ব্লগারের জন্য প্রায় একই সমস্যা হয়। অনেকে হতাশা থেকে ব্লগিং ছেড়েই দেয়। আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য আমি হাজির হয়েছি। আজ এমন কিছু শেয়ার করব যা এপ্লাই করে আপনার এই পাঠক না পাওয়ার সমস্যাটি সমাধান করতে পারবেন।

ব্লগে বেশি ভিউ পাওয়ার ১০ টি সিক্রেট

এই পোস্টে আমি এমন কিছু কৌশল শেয়ার করব যার মাধ্যমে আপনি অনেক বেশি পাঠক আকর্ষিত করতে পারবেন।

০১. আকর্ষিত হেডলাইন তৈরি।

একটা আকর্ষনীয় হেডলাইন তৈরি করুন। যেটা পাঠককে আপনার পোস্টটি ক্লিক করতে বাধ্য করবে। হেডিং বানানোর সময় দেখতে হবে শক্তিশালী শব্দ, কিছু প্রতিজ্ঞা এবং কৌতুহলি।

একটা গবেষণা দেখাচ্ছে, অধিকাংশ ট্রফিক হেডলাইনের উপর ৬০০% নির্ভর করে আসে।

রিলেটেড পোস্ট:- আকর্ষনীয় হেডলাইন তৈরি

০২. নিয়মিত পোস্ট পাবলিশ করা

আপনার কাছে পাঠক আকর্ষন করার জন্য আকর্ষনীয় হেডলাইন আছে। এখন আপনাকে নিয়মিত পোস্ট করার দিকে নজর দিতে হবে।

আপনাকে পাঠকের উপকার ও তাদের প্রয়োজনের দিকে নজর দিয়ে পোস্ট তৈরি করতে হবে। শুধু মাত্র নিজের ব্যবসার মধ্যে পোস্ট তৈরি করবেন না। পাঠককে ধরে রাখার জন্য তাদের সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যে পোস্ট তৈরি করা উচিৎ।

প্রথমদিকে কম পাঠক পেলেও। নিয়মিত ব্লগপোস্ট তৈরি করলে নাটকিয় ভাবে পাঠক বাড়তে থাকবে।

যখন নিয়মিত কোয়ালিটি কন্টেন্ট লিখবেন তখন পাঠক প্রতিদিন পোস্টের আপডেট দেখবে। তারা তাদের তথ্যভান্ডার বাড়ানোর জন্য ও অধিক তথ্য পেতে আপনার ব্লগে ফিরে আসবে।

তাছাড়া নিয়মিত কন্টেন্ট আপডেটের কারনে সার্চ ইঞ্জিনে পেজ সহজে র‌্যাংক করাবে। সম্ভব হলে নিয়মিত পোস্ট ক্রিয়েট করুন। ওয়ার্ডপ্রেসের সিডিউল ফিচারটি ব্যবহার করতে পারেন।

আবার পুরাতন বা ব্যাকডেটেড পোস্টগুলোকে পুনঃ লিখে আপডেট করুন। এটা পাঠক আকর্ষন করার অনেক সহজ উপায়।

০৩. শেয়ার বাটন

আপনি উপরের দুটি টিপস প্রয়োগ করে এর মধ্যে অনেক পাঠক আকর্ষিত করেছেন। পাঠক আপনার ব্লগের পোস্টগুলো পছন্দ করা শুরু করেছে। এবং তারা তাদের বন্ধু ও পরিবারের সাথে শেয়ার করে পড়েতে চাই।

তাদের শেয়ারিং করার জন্য অপশন দিন। তারা যাতে সহজে আপনার পোস্ট ফেসবুকসহ অন্য সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারে।

চাইলে পপ-আপ অপশন যোগ করতে পারেন। পপ-আপের মাধ্যমে পাঠককে শেয়ার করতে বলুন।

শেয়ার করলে আপনার পোস্ট অনেক পাঠকের কাছে পৌছে যাবে। সেখান থেকে আপনি নিয়মিত পাঠক পাবেন। এবং পাঠকের সংখ্যা নাটকীয়তার সাথে বেড়ে যাবে।

০৪. গেস্ট পোস্ট করুন

আপনার ব্লগ যে টপিকের সে টপিকের অন্য ব্লগে পোস্ট লিখুন। পোস্টের ভিতর আপনার ব্লগের লিংক দিন। যারা আপনার ব্লগপোস্ট পড়তে আগ্রহী তারা লিংকের মাধ্যমে আপনার সাইটে চলে আসবে।

কোলাব্রেশন করে পোস্ট লিখুন। নিজের কম্পিটিটরকে বন্ধু ভাবুন। একজন আপনার রিলেডেট টপিকের উপর কাজ করছে বলে সে কিন্তু আপনার কম্পিটিটর না। তার সাথে কোলাব্রেশন করে আপনার সাইটে ভিজিটর বাড়ান এবং তার সাইটের ভিজিটর বাড়াতে সাহায্য করুন। উইন উইন (win win) চিন্তা করুন।

অন্য ব্লগের সাথে কোলাব্রেশন করলে তার যেমন পাঠক বাড়ে তেমন আপনার ব্লগের পাঠকও বাড়ে। তাহলে এটাতে ক্ষতির কি আছে। এজন্য কথাটি বললাম- অধিকাংশ ব্লগার কোলাব্রেশন করতে চাই না।

০৫. ফর্মে লেখালেখি করুন

অনেক ফর্ম সাইট আছে যেখানে পাঠকেরা প্রশ্ন করে, যেমন: কোরা। এসব ফর্মে আপনার টপিকের উপর প্রশ্ন করা হলে উত্তর করুন। সেখানে নিচে সুন্দর করে আপনার সাইটের লিংক দিয়ে রাখুন। যারা ঐ টপিকের উপর আরো জানতে আগ্রহী তারা আপনার সাইটে আসবে।

এটা এসইও ক্ষেত্রে ব্যপক সাহায্য করবে। আাপনার অজান্তেই শক্তিশালী ব্যাকলিংক তৈরি হয়ে যাবে।

০৬. কন্টেন্ট সোস্যাল মিডিয়ায় প্রমোশন করুন

ব্লগে পাঠক পাওয়ার জন্য সোস্যাল মিডিয়া প্রমোশন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। সোস্যাল মিডিয়া প্রমোশনের জন্য ২টি অপশন রয়েছে:- #১. পেইড, #২. ফ্রি।

#২. ফ্রি প্রমোশনের জন্য আপনাকে সোস্যাল সাইটে সাইন-আপ করে পেজ ক্রিয়েট করে সেখানে লিংক শেয়ার করতে পারেন। এখান থেকে আপনি অনেক পাঠক পাবেন।

#১ পেইড প্রমোশন সবচেয়ে সহজ রাস্তা ট্রাফিক পাবার জন্য। এখানে শুধুমাত্র টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে আপনার পোস্ট পৌছাবে। এবং অধিকাংশ মানুষ আপনার সাইটে আসবে।

আপনার কাছে ব্লগ প্রমোশনের জন্য যদি যথেষ্ট বাজেট থাকে। তবে আপনার পেইড প্রমোশন করা উচিৎ। এতে করে অনেক দ্রুত অনেক বেশি ট্রাফিক পাবেন।

সকল সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার একাউন্ট খোলার দরকার নেই। যে সাইটটা অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করে সেখানে প্রমোশন করুন। দরকার হলে সেই সাইটে ২-৩ একাউন্ট ক্রিয়েট করে প্রমোশন করুন।

০৭. সঠিক লেখক পরিচিতি

যার পোস্ট হোক না কেন সবই আমার নামে পাবলিশ করব। এমন ধ্যনধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন।

অন্যের পোস্ট কপি করে বা কিনে নিজের নামে চালানো থেকে বিরত থাকুন। যার লেখা পোস্ট তার নাম দিন।

প্রত্যেকের লেখার ধরন আলাদা। আপনার ব্লগে হাজার-হাজার পাঠক প্রতিদিন আসে। তাদের মধ্যে কিছু আপনার ফ্যান যারা নিয়মিত আপনার পোস্ট পড়ে।

এখন আপনি যদি অন্যের পোস্ট নিজের নামে চালান। তবে পোস্টটি পড়ে পাঠক আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখবে। যে আপনি কিছু পোস্ট ভালো লেখেন আবার কিছু পোস্ট খুবই খারাপ।

তারা আপনার পোস্ট আর পড়তে চাইবে না।

আর যার পোস্ট তার নাম দিলে সে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। এবং আরো সুন্দর লেখা উপহার দিতে আগ্রহী হবে। এতে আপনার ব্লগের রেপুটেশন বৃদ্ধি পাবে। অনলাইনে রেপুটেশন = ট্রাফিক = টাকা

সবদিকে শুধু আপনারিই লাভ ): ।

০৮. অন্যের ব্লগপোস্টে কমেন্ট করুন

আপনার টপিকের সাথে সম্পর্কযুক্ত টপিকের উপর লেখা এমন ব্লগে যান। তাদের পোস্ট কমেন্টের জায়গায় তাদের লেখাটির প্রশংসা করুন।

সম্ভব হলে যুক্তি বা পরামর্শ করুন। রেফারেন্স হিসেবে আপনার কিছু পোস্টের লিংকসহ উপস্থাপন করুন। যদি কিছু না পারেন তবে তেল দিন শেষে নিজের কাজ হাসিল করতে আপনার ব্লগের লিংক দিন।

আমার এক বন্ধু বলেছিল দুনিয়া তেলে চলে। আমিও খেয়াল করে দেখেছি এই পৃথিবীতে যে যত তেল দিবে সে তত ভালো।

তবে প্রফেশনালি কাজ করা ভালো। এটা লং টার্ম রিলেশন ভালো রাখবে।

তেলের ব্যাপারটি ভেবে দেখবেন কিন্তু ):

০৯. পোস্টটির এসইও আপটিমাইজ করুন

আপনার পোস্টটি ভালো করে এসইও অপটিমাইজ করুন। ভালো করে এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিনে পোস্টটি প্রথম পেজের প্রথম দিকে আসবে।

কোনো ‍পাঠক যখন আপনার পোস্টের টপিকের উপর সার্চ করবে গুগল আপনার পোস্টকে রেফার করবে। এবং এখান থেকে আপনার একটা রড় মাপের পাঠক পাওয়ার সম্ভাবণা রয়েছে।

কিওয়ার্ডের উপর রিসার্চ করে পোস্ট লিখুন। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য প্রচুর ফ্রি অনলাইন টুল রয়েছে যেগুলি আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করে ও এসইও অপটিমাইজ করে পোস্ট লিখতে পারেন তবে পাঠকসংখ্যা নিয়ে আপনার চিন্তা করার কোনো দরকার নেই।

১০. ফ্রি পণ্য সরবরাহ

আপনার সাইটে ফ্রি কিছু টুল বিতরনের ব্যবস্থা রাখুন। ফ্রিতে মানুষ কিছু পেলে খুবই খুশি হয়। এবং তারা আপনার সাইট ভিজিটে আকর্ষিত হয়। এবং মানুষ ফ্রি জিনিস পেলে সেগুলি ফ্রেন্ডদের সাথে ভাগ করে নেয়। এবং বন্ধুদের পেজটি ভিজিট করাতে ও তাদের নিতে পরামর্শ দেয়।

কেন আমি আমার বিজনেস লস করব। পেইড জিনিস কেন ফ্রিতে বিতরন করব? এই সামান্য ফ্রি জিনিস বিতরন আপনার একটা ব্রান্ড গড়ে দিবে। আপনার ব্রান্ডকে মানুষের সাথে শক্তিশালী করে উপস্থাপন করে।

আপনার ব্লগটার পরিচিতি রাতারাতি শতগুন বেড়ে যায়। বাংলাদেশের ইভ্যালির কথায় ধরুন। অনলাইনে বহু স্টোর রয়েছে, কিন্তু তারা ইভ্যালির মতো অতো জনপ্রিয় নয়। ইভ্যালির জনপ্রিয়তার পেছনে দেখি অবিশ্বাস্য ছাড় ও ফ্রিতে দেওয়ার কাহিনী।

আপনার ব্লগের জন্য ফ্রিতে কিছু দিলে সেটি শতগুন হয়ে আপনার কাছে ফিরে আসে।

আপনি ব্লগের জন্য ফ্রিতে ই-বুক, ওয়ালপেপার ইত্যাদি আপনার টপিক রিলেটেড জিনিস ফ্রিতে দিন।

মন্তব্য

অনলাইনে ব্লগপাঠক যোগাড় করা বা পাঠকসম্প্রদায়কে আকর্ষন করার বহু রাস্তা রয়েছে। তার মধ্য হতে আমি উল্লেখযোগ্য- ১০ টিপস শেয়ার করলাম। এগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার সফল হবে।

AMP কি?AMP এসিও করতে সাহায্য করে?

ব্লগারের জন্য শেয়ারিং অনেক বড় উপহার

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-

  1. I really like what you guys tend to be up too.
    This kind of clever work and coverage! Keep up the fantastic works guys I’ve
    added you guys to my own blogroll.