কিভাবে আকর্ষনীয় ব্লগ টাইটেল তৈরি করি (সিক্রেট)।

আকর্ষনীয় ব্লগ টাইটেল তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য কাজ। কিন্তু এখানে এমন কিছু টিপস শেয়ার করা হবে যেটা দিয়ে খুব সহজে টাইটেল তৈরি করতে পারবেন।

1101 VIEWS

আকর্ষনীয়-ব্লগ-টাইটেল-তৈরি-1024x576

আকর্ষনীয় ব্লগ টাইটেল তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য কাজ। কিন্তু এখানে এমন কিছু টিপস শেয়ার করা হবে যেটা দিয়ে খুব সহজে টাইটেল তৈরি করতে পারবেন। পোস্টের টাইটেল অনেক গুরুত্ব বহন করে কারন ভিজিটরের সামনে পোস্টের লিংক সহ টাইটেল পপআপ আকারে প্রদর্শিত হয়। যদি টাইটেল পড়ে আকর্ষিত হয় তবেই পড়ার জন্য লিংকে ক্লিক করে।

এখানে সবচেয়ে বেশি মনে রাখার বিষয, টাইটেল যেন পোস্টের ভাব বহন করে। টাইটেল পড়ে যেন বুঝা যায় পোস্টটি কি সম্পর্কে ও পড়ে কি জানতে পারা যাবে। এমন টাইটেল দেয়া উচিৎ নয় যেটা পোস্টের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। এতে ভিজিটর বিভ্রান্ত হয় এবং আপনি দর্শক হারান।

কিভাবে আকর্ষনীয় ব্লগ টাইটেল তৈরি করি।

০১. স্পষ্ট টাইটেল।

টাইটেল পড়ার পর অডিয়েন্স যেন বুঝে যায় পোস্টটির প্রয়োজনীয়তা। পোস্ট সম্পর্কে আকর্ষন তৈরি হোক কিন্তু দোটানায়(কনফিউশন) যেন না পড়ে। টাইটেলকে ক্লিয়ার ও মিনিংফুল করা। অবান্তর কোনো টাইটেল তৈরি না করা।

শুধু বর্ণনা করুন পোষ্টটি পাঠকের কোন কাজে লাগবে বা পাঠকের উপকারীতা কি। অনেককে দেখেছি টাইটেলে দিচ্ছে ‘এখানে ক্লিক করে মজা দেখুন।’

এসব টাইটেল দেখলে কোনো সুস্থ , ভদ্র মানুষ ক্লিক করবে না। তাছাড়া গুগল তো কিওয়ার্ড পেল না। কিসের উপর আপনার পোস্ট র‌্যাংক করাবে।

০২. এসিও কিওয়ার্ড।

হেডলাইনের ভিতর অবশ্যই মূল কিওয়ার্ডটি ঢুকিয়ে দিন যাতে সার্চইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্টে দেখাতে পারে। সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসিও) কিওয়ার্ড হল এমন শব্দ যেটি পোস্টের সম্পর্কে বর্ণনা করে।

কেউ যখন কোনো কিছু ইন্টারনেটে খোজে তখন কিওয়ার্ডটা ব্যবহার করে। এবং কিওয়ার্ড টার সাথে মিলে গেলে পোস্টের টাইটেলটা দেখায়। ভিজিটর টাইটেলে শব্দটা দেখলে খুব সহজে পড়ার জন্য ক্লিক করে।

আপনার পোস্টকে র‌্যাংক করানোর এবং সকলের কাছে পৌছে দেয়ার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ টাইটেলে কিওয়ার্ড ব্যবহার করা।

০৩. টাইটেলে কিছু শক্তিশালী ও আকর্ষনীয় শব্দের ব্যবহার।

টাইটেল কিছু শক্তিশালী কথা জুড়ে দিন। যেমন ধরুন এক্সক্লুসিভ, সিক্রেট, একদম মিস করবেন না। এরকম শব্দ গ্রাহকের মনে বড় প্রভার বিস্তার করে পোস্টটি পড়ার জন্য। তার মনে করে সত্যিই গোপন কিছু জানছে।

এই পদ্ধতিটা ব্যবহার করলে ৯০% পাঠক আকর্ষিত হয়। এবং অনেক ভাবা-চিন্তার পরও শেষ মেশ ক্লিক করেই দেয়।

০৪. গ্রাহকের মনের কথা চিন্তা করা।

আমি বলছি না কারো মনের কথা বলতে। কার মনে কি আছে সেটা তো জানা সম্ভব নয়। তবে একটা ধরণা করার চেষ্টা করতে বলছি।

পোষ্টটি খুজতে গ্রাহক আর কিকি লিখে সার্চ করতে পারে সেটা নিয়ে একটু ভাবনা চিন্তা করা।

”বাড়ির ময়লা পরিষ্কার করার উপায়“, আবার অনেকে ”বাড়ির ময়লা ডাস্টবিনে ফেলার উপায়“ এটা লিখেও সার্চ দিতে পারে। এগুলো ইমাজিনেশনের ব্যপার। এগুলোর দিকে একটু নজর দেয়া ভালো।

০৫. হেডার তৈরি করতে টুল।

অনেক অনলাইন টুল রয়েছে যেটি ব্যবহার করে খুব সহজে সুন্দর টাইটেল বানানো যায়। গুগল এডওয়ার্ড একটা জনপ্রিয় টুল। এটির সাহায্যে খুব সহজে কিওয়ার্ড খোজা যায় ও টাইটেল আকারে জেনারেট করা যায়।

  • Headline Analyzer এক্ষেত্রে অনেক ভালো একটি টুল। এটির সাহাযে্য অনেকগুলো টাইটেল জেনারেট করতে পারবেন। টাইটেল এর শক্তি, এসিও কায্যকারীতা, এবং শব্দসংখ্যা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
  • গুগলে গিয়ে সার্চ করুন “blog title tools” দেখবেন অনেকগুল টুল পেয়ে যাবেন। আপনার পছন্দঅনুযায়ী একটা দিয়ে কাজ করবেন।

০৬. লিস্টিং করা।

মনের ভিতর যতগুলি টাইটেলের আইডিয়া আছে লিখে ফেলুন। লিস্টে ৫-১০ টা হলে পছন্দ অনুযায়ী একটা বেছে নিন।

 শুধু মনে মনে ভাবলে অনেক সময় সব আইডিয়াগুলো মনে থাকে না। তাই প্রতিটি নোটপ্যাডে লিখলে সুবিধা হয়। একসাথে অনেকগুলি টাইটেল পাবেন। সেখান থেকে একটা বাছাই করে দিয়ে দিন।

০৭. নম্বর দিয়ে শুরু করুন।

টাইটেলে নম্বর দিয়ে শুরু করতে পারেন। নম্বর দিলে ভিজিটরের মনে একটা গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

আসলে এটা সাইকোলজি টার্ম, গ্রাহকের মনের ভিতর অটো একটা ধারণা তৈরী হয়। তারা মনে করে এখানে এতগুলো ইনফরমেশন আছে। যেমন, ”টাকা ইনকামের ১৫ উপায়” এটাতে সহজে একজন আইডেন্টিফাই করতে পারে এখানে ১৫টি ইনফরমেশন আছে। এতে সহজে একজন ক্লিক করতে আগ্রহী হয়।

০৮. টাইটেলে “কিভাবে” এর ব্যবহার।

টাইটেল দেয়ার সময় ’কিভাবে’ শব্দটি নির্দেশ করে আপনি তাদের কিছু শিখাতে চান। তারা মনে করে আমি সম্ভাবত বিষয়টা জানি না, আমার জানা উচিৎ। এতে গ্রাহক লিংকে ক্লিক করে পোস্টটি পড়ার জন্য।

যেমন ’কিভাবে ডোমেইন নাম নির্ধারণ’ টাইটেলটি দেখলে সহজে বুঝা যায় এখানে ডোমেইন নাম কেমন হওয়া উচিৎ তাই শিখানো হচ্ছে।এটা সরাসরি দর্শককে বলা আমি কিছু শিখাতে চাচ্ছি। অডিয়েন্সকে আকর্ষিত করতে এটা খুব কাজে দেয়।

আপনার এই রণকৌশল অবশ্যই অবলম্বন করা উচিৎ। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের সফলতা বয়ে আনবে।

০৯. প্রশ্নবোধক টাইটেল।

কেন অনলাইন ব্যবসা?’ এরকম বাক্য দর্শকর মনে প্রশ্নে উদ্ভব ঘটায়। তাদের মনে ’কেন?’ কথাটার সম্ভাব্য উত্তর আসতে থাকে। বিষয়টাকে আরো জানতে একটা প্রবল ইচ্ছা কাজ করে। পরিশেষে পোস্টের লিংকে ক্লিক করে, আপনার জালে পা দেয়।

সঠিক জায়গায় সঠিক প্রশ্নটির ব্যবহার করতে হবে। যেমন ‘কেন বেশি বেশি জল খাব?’, ’কোথায় বিশুদ্ধ জল পাওয়া যায়?’,’বিশুদ্ধ জল কী?’। এ বাক্যগুলোর মতো কেন, কোথায় এবং কি এর সঠিক ব্যবহার করা।

১০. বিশেষজ্ঞরা বলছে।

টাইটেলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন বা পরমর্শ দিচ্ছেন এমন শব্দের ব্যবহার করা। এটা দ্বারা দর্শককে সিগন্যাল দেয়া যে তথ্যটা কতটা নির্ভরশীল ও কার্যকারী।

যেমন ‘বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশুদ্ধ পানি পানের উপকারীতা’ এমন টাইটেল দর্শকের তথ্য সম্পর্কে আশস্ত করে। এটা এমন যে দেখ আমার পোস্টের তথ্যটা সত্য ও নির্ভুল তুমি চাইলে দেখতে পার।

অডিয়েন্স ক্লিক করতে বা পড়তে আগের তুলনায় অনেক বেশি আগ্রহী হয়।

দর্শকদের কখনো ভুল তথ্য দিবেন না। কারণ তারা সঠিক তথ্য জানতে চায়। আপনাকে বিশ্বাস করে। তাদের এই বিশ্বাসের মূল্য দিবেন ও আপনার প্রতি বিশ্বাস বজায় থাকে সে চেষ্টা করবেন।

১১. গাইডলাইন শব্দের ব্যবহার।

’ব্লগিং করার গাইডলাইন’ – এখানে গাইডলাইন শব্দটা টাইটেলে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আপনি দর্শককে বুঝাতে চাচ্ছেন, তাদের কোনোকিছু শিখাতে আগ্রহী।

তারা চাইলে বিষয়টা শিখতে পারে। বলছেন যে, তোমরা বিষয়টা শিখতে আমার সাহায্য নিতে পার।

এইধরনের টাইটেল ব্যবহার করলে অবশ্যই শিক্ষনীয় কিছু দিতে হবে। আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আপনি তাদের শিখতে গাইড করবেন।

আপনার এই বিশ্বাসটা বজায় রাখা একান্ত নৈতিক দায়িত্ব। আমরা কখনও শুধুমাত্র কিছু টাকা আয়ের জন্য পাঠককে ধোকা দিব না। কারণ এটা অনেক বড় একটা অপরাধ।

১২. ৮টা শব্দ রা ৭০ টি অক্ষর।

হেডার লেখার সময় সবচেয়ে কম শব্দ ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। এটা ৮টি শব্দের নিচে হলে ভালো হয়। আমি এই কারণে দিতে বলছি যাতে কেউ সার্চ করলে রেজাল্টে পোষ্টের পুরো টাইটেলটা পড়তে পারে।

বেশি শব্দ দিলে সার্চরেজাল্টে দেখানোর সময় অতিরিক্ত শব্দ কেটে যায়
বেশি শব্দ দিলে সার্চরেজাল্টে দেখানোর সময় অতিরিক্ত শব্দ কেটে যায়

বেশি শব্দ দিলে সার্চরেজাল্টে দেখানোর সময় অতিরিক্ত শব্দ কেটে যায়। গ্রাহক পুরো টাইটেল পড়তে পারে না। হেডারের লেখা সম্পর্কে ধোয়াসার সৃষ্টি হয়। এতে পোস্টটি-তে ক্লিক করার আগ্রহ কমে যায়। ৭০ টি বর্ণ এর কম হলে সবচেয়ে ভালো হয়।

১৩. হাইপেন, কোলোন বা ব্রাকেট।

হেডারের কোথায় বিরতির প্রয়োজন হলে হাইপেন, কোলোন ও ব্রাকেটের ব্যবহার করা। দ্রুত বিরতি ও বেশি তথ্য দেয়ার জন্যে এটি অনেক কার‌যকারী।

‍কোনো কোনো সময় এই বিরতির দরকার হয় না তবুও এটা ব্যবহার করুন। কারণ বিরতি দর্শকের মনোযোগ বৃদ্ধি করে। যেমন:- ফেসবুকে বেশি বেশি লাইক (এবং ফলোয়ার পাওয়ার উপায়) –এখানে ব্রাকেটের দরকার ছিলো না তবুও ব্যবহার করা হয়েছে যাতে ফলোয়ার কথাটা দর্শকের মনে আরো প্রভার বিস্তার করতে পারে।

১৪. বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার।

যারা ইংলিশ ব্লগিং করবেন তাদের জন্য এই পয়েন্টটি। সকল শব্দের প্রথম অক্ষর বড় হাতের অক্ষর দিন। বড় হাতের অক্ষর দর্শকদের শব্দটার গুরুত্ব যে বেশি তা তুলে ধরে। তবে ’a’,’the’ এধরণের শব্দগুলোতে ক্যাপিটাল লেটার ব্যবহার করবেন না। এগুলো কোনো গুরুত্বপূর্ণ শব্দ নয়। এখানে বড় হাতের অক্ষর ব্যবহারের একটা উদ্দেশ্য যে দর্শকদের শব্দটির গুরুত্ব বোঝানো। কিন্তু ‘a’, ‘the’ –এগুলোতে বড় হাতের অক্ষর সেই উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।

একটা সুন্দর ও আকর্ষনীয় টাইটেল একটা পোস্টকে কয়েকগুন বেশি আকর্ষনীয় করে তোলে। আমার মতে, একটা পোস্টকে টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছে দিতে সঠিক টাইটেলের বিকল্প নেই।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-