ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপায়। ৫টি ধাপে ফ্রিল্যান্সিং করুন।

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপায় নিয়ে আলাচনা করব। জানব ফ্রিল্যান্সিং কি, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখব। কিভাবে সহজে ফ্রিল্যান্সিং করব।

132 VIEWS

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার উপায় জানার আগে আমাদের জানতে হবে; ফ্রিল্যান্সিং কি? Ways to start freelancing. Freelancing in Bengali.

কোনো কাজ অনলাইন বা অফলাইনে চুক্তিভিত্তিক কাউকে করে দেয়াকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। ‍ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু করা যায় নিচে স্টেপ বাই স্টেপ দেয়া হল।

নিজেকে জানা

ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্তপেশা; এখানে আসতে কারোও ডিগ্রি লাগে না। তাই এই সেক্টরে অনেক কম্পিটিশন।

ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনাকে যেকোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এখানে সকল প্রকারের কাজ থাকায় আপনার যেটা করলে ভালো লাগে সেটা বাছাই করুন। তাহলে কাজ করতে বোরিং ফিল করবেন না।

কিভাবে নিজেকে জানবেন: প্রথমে খাতা কলম নিয়ে বসুন, শেষ একসপ্তাহে কি কি করেছেন তা পয়েন্ট আকারে লিখুন। কোন কাজগুলো করতে আপনার ভালো লেগেছে সেগুলো মার্ক করুন।

আপনার যদি লেখালিখি করতে ভালো লাগে তবে সহজে কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।

আপনার কোন কাজ করতে ভালো লাগে না জেনে অধিক আয়ের আশায় মাঠে নামবেন না। কিছুদিন কাজ করার পর ইচ্ছা চলে যাবে ও যে পরিমাণ পরিশ্রম করবেন যে অনুযায়ী ফল পাবেন না।

তাই নিজের পছন্দের কাজ বাছাই করে সেটাই করুন। সেই নির্দিষ্ট দক্ষতা এমনভাবে অর্জন করুন যে সেই সেক্টরে আপনিই সেরা। সেরা না হলে ফ্রিল্যান্সর হিসেবে টিকে থাকা কষ্টকর।

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো কি?

এই সেক্টরে আপনি সকলপ্রকার কাজ করতে পারেন। আপনি রান্না করতে ভালোবাসেন? রান্নার উপর কন্টেন্ট রাইটার হয়ে যান। আকতে ভালোবাসেন, গ্রাফিক্স ডিজাইনার বা কার্টুন ক্যারেকটার ডিজাইনার হন।

আমি এখানে নতুনদের জন্য কিছু চাহিদাসম্পন্ন কিছা কাজ উল্লেখ করব। যদি আপনি কে তা জানতে ব্যার্থ হন তবে আপতত এর মধ্যে থেকে একটা শিখুন।

  • UI/UX Design
  • Apps Design & Development
  • Digital Marketing
  • Content Writing
  • Web Design & Development

উল্লেখ্য স্কিলগুলোর অনেক সাবস্কিল আছে; অর্থাৎ এই স্ক্রিলগুলো অনেক বড় এর কিছু ছোট ছোট কাজ আছে সেগুলো শিখুন।

যেমন: ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভিতর ফেসবুক মার্কেটিং, টুইটার মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং ইত্যাদি।

আপনি দ্রত কাজ পেতে ডিজিটাল মার্কেটিং না শিখে শুধু ফেসবুক মার্কেটিং শিখতে পারেন।

কিভাবে ও কোথায় ফ্রিল্যান্সিং শিখব?

আপনি উপরের দুটি স্টেপ ভালোভাবে পড়েছেন? যদি পড়ে থাকেন, তবে আপনার এতক্ষনে কি কাজ শিখবেন তা নির্ধারণ করে ফেলার কথা।

আপনি যে কাজটি শিখেতে চান সেটা সম্পর্কে জানুন। এতক্ষনে মনে প্রশ্ন জেগেছে কিভাবে জানব?

কিভাবে ফ্রিতে ফ্রিল্যান্সিং শিখবে

গুগল বা ইউটিউব থেকে সার্চ করে ভিডিও বা আর্টিকেল বের করুন। সেটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। খাতা কলম নিয়ে বাসুন; আপনার কাছে যে কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেগুলো খাতায় লিখুন।

আপনি চাইলে ইন্টারনেট থেকে কাজগুলো শিখে, ফিল্যান্সিং করার মতো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এরজন্য আপনার আনলিমিটেড ডাটা ও প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে।

অনলাইনে কাজ শিখার মূলমন্ত্র হল, নিজেকে মটিভেট রাখা ও সঠিকভাবে চেষ্টা করা। কিভাবে সঠিকভাবে চেষ্টা করব?

প্রথমত ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে আপনি যে বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করতে চান; সে সম্পর্কে আইডিয়া নিন।

দ্বিতীয়ত, একটি সিলেবাস তৈরি করুন, যে কোন কোন কাজ আপনাকে শিখতে হবে। বিভিন্ন পেইড কোর্স বা ট্রেনিং সেন্টারের সচিপত্র দেখতে পারেন।

তৃতীয়ত, সিলেবারের অন্তর্ভুক্ত বিষগুলো ইন্টারনেটে সার্চ করুন। প্রতিটি বিষয়ের উপর দুটো তিনটা ভিডিও আর তিন চারটি আর্টিকেল পড়ুন। প্রতিদিনকার প্রাকটিস ও নোট করতে ভুলবেন না। এভাবে অনলাইনে কাজ শিখতে পারেন।

ট্রেনিং সেন্টার বা পেইড কোর্স

আপনার কাছে যথেষ্ট টাকা থাকলে ট্রেনিংসেন্টারে ভর্তি হতে পারেন। আমার কাছে মনে হয়, ট্রেনিংসেন্টারে ভর্তি না হওয়া ভালো। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ ট্রেনিং সেন্টারগুলো ধোকারাজ [কারের উদ্দেশ্য করে বলছি না]।

আর বাংলা পেইড কোর্সের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। টাকা নিয়ে হালকা কিছু কাজ শিখাবে তারপর আপনার খোজও নিবে না।

তবে আপনি ইংলিশ পেইড কোর্স করতে পারেন। ইউডেমি বা এ ধরনের কোনো সাইট থেকে টপরেটেড একটা কোর্স নিয়ে করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং করার ইচ্ছা থাকলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। ফ্রিতে বা টাকা দিয়ে শিখুন দিন শেষে আপনাকে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এমন কোনো কোর্স নেই যেখানে সবকিছু দেয়া থাকবে

পোর্টফালিও তৈরি করুন

আপনার কাজ শিখা শেষ হলে বা কাজ করা অরস্থায় পোর্টফলিও তৈরি করুন। কেন পোর্টফোলিও তৈরি করব?

অনলাইনে বিশ্বাসটা বড় জিনিস; বিশ্বাস ছাড়া অনলাইনে ব্যবসা করা যায় না। পোর্টফোলিও আপনার এবং আপনার ক্লাইন্টের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।

পোর্টফলিও হল আপনার অনলাইন সিভি হিসেবে কাজ করে। আপনার ক্লাইন্টের মনে বিশ্বাস তৈরি যে, করে আপনি কাজটা পারেন। পোর্টফলিও আপনার অনলাইনে প্রজেক্ট পেতে অসাধারণ ভুমিকা পালন করে।

কিভাবে পোর্টফলিও তৈরি করবেন।

অনেকভাবে পোর্টফোলিও তৈরি করা যায়। তার ভিতর দুটো জনপ্রিয় পদ্ধতি হল: সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার, নিজের ওয়েবসাইট তৈরি।

সোস্যাল মিডিয়া হিসেবে লিকডইন, বিহ্যান্স বা গিটহাব ব্যবহার করতে পারেন। আপনি ডিজাইন রিলেটেড কাজ করলে বিহ্যান্সে আপনার প্রফাইল খুলে প্রজেক্ট আপলোড করুন।

কোডিং বা প্রগ্রামিং রিলেটেড কাজ করলে, গিটহাবে আপনার সুন্দর প্রফাইল তৈরি করে প্রজেক্ট আপলোড করুন। ভালোভাবে ডকুমেন্টেশন পেজ তৈরি করুন।

কন্টেন্ট রাইটার হলে লিকডইন ব্যবহার করুন। বিভিন্ন আর্টিকেল পাবলিশ করুন; ক্লাইন্টে যোগাযোগ করার জন্য লিংক দিন।

নিজের ওয়েবসাইট তৈরি: আপনার কাছে ডোমেইন, হোস্টিং কেনার টাকা থাকলে পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করুন। আপনার কাজের ও প্রফেশনাল ডিটেইল দিয়ে সুন্দর ডিজাইন করুন।

পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট

অনলাইনে যদি লংটার্ম কাজ করার ইচ্ছা থাকে তবে পোর্টফোলিও তৈরি করন। আপনার কম্পিটিটরদের থেকে আপনাকে একধাপ এগিয়ে রাখবে।

কাজ কোথায় পাবেন

ফ্রিল্যান্সিং এর সবচেয়ে কঠিন কাজ প্রজেক্ট পাওয়া। বর্তমান সময়ে এত প্রতিযোগিতা যে আপনার প্রথম প্রজেক্ট পেতে বেশ বেগ পোহাতে হবে।

আপনার যদি ভালো পোর্টফোলিও, কাজের দক্ষতা ও কমিউনিকেশন স্কিল থাকে তবে সহজে কাজ পেতে পারেন; ধরলাম আপনার এই তিনটি স্কিল আছে এবার কিভাবে প্রজেক্ট পারেন।

আমরা তিনভাবে প্রজেক্ট পেতে পারি; ১. আমাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, ২. মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে, ৩. লোকাল মার্কেট।

১. নিজের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে

আপনি একটি ভালো ওয়েবসাইট করে সেখান থেকে কাজ পেতে পারেন। আপনার নিজের ওয়েবসাইট থেকে কাজ পেতে হলে মার্কেটিং করতে হবে।

তাছাড়া আপনি ইন্ডিভিজুয়াল মানুষ হলে নিজের ওয়েবসাইটে কাজ পাওয়ার সম্ভাবণা অনেক কম। সাধারনত কোনো অর্গানাইজেশন বা কোম্পানী হলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ পায়।

আমি মনে করি, এভাবে আপনি সাধারনত কাজ পাবেন না। তাছাড়া এখানে টাকা মার বা ধোকা খাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

টিপস: আপনার পোর্টফোলিও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার নিতে পারেন। এতে আপনার সাইটের পেছনে আলাদা খরচ করা লাগবে না। এভাবে কাজ পেলে টাকা-পয়সা নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।

২. মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে কাজ পাওয়া

প্রজেক্ট পাওয়ার যতগুলো উপায় আছে; তার ভিতর এটি সবচেয়ে সহজ ও কার্যকারী উপায়। এখানে আপনার মার্কেটিং খরচ নেই, টাকা-পয়সার গ্যারান্টি মার্কেটপ্লেসগুলো দেয়।

মার্কেটপ্লেস কোনগুলো:

এগুলো হল ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। এর যেকোনো একটিতে একাউন্ট করে কাজ করতে পারবেন।

প্রতিটি মার্কেটপ্লেসের কাজের ধরন আলাদা আলাদা। মার্কেটপ্লেসে কাজ করার আগে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ইন্টারনেট থেকে জেনে নিন। তাদের পলিসি, পেমেন্টের বিবরণ, একাউন্ট করার নিয়ম সম্পর্কে জানুন।

মার্কেটপ্লেসে সঠিক কাজটি খুজে বের করুন। আপনি যে কাজটি শতভাগ করতে পারবেন, সেখানে এপ্লাই বা বিট করুন। নতুনদের জন্য মার্কেটপ্লেস হিসেবে ফাইভার ভালো।

৩. লোকাল মার্কেট থেকে প্রজেক্ট পাওয়া

নতুন অবস্থায় পোর্টফোলিও বানাতে লোকাল কাজগুলো অনেক হেল্প করে। লোকাল মার্কেটে কাজ মানে সরাসারি আপনার আশেপাশে থেকে কাজ নেয়া। যেমন: আপনার বাসার সামনের একটি দেকানের ফেসবুক মার্কেটিং করে দিলেন।

এই কাজগুলো করে পোর্টফোলিওতে যোগ করতে পারেন। যা আপনার পোর্টফোলিওকে অনেক স্ট্রং করবে।

কিভাবে লোকাল মার্কেটে কাজ পাওয়া যায়?

আপনার আশেপাশের বা পরিচিত কারোর কাছে আপনার স্কিল সম্পর্কে বলুন। যেমন: আপনি আপনর বসার সামনের দেকানদারকে বলতে পারেন যে, আপনি তার দোকানের ফেসবুক মার্কেটিং করে দিবেন।

লোকাল মার্কেটে কাজ পেতে, একটি ফেসবুক পেজ খুলতে পারেন। আশেপাশের মানুষ ও পরিচিত জনদের সেখানে ইনভাইট করুন। তদের কে আপনার সার্ভিস অফার করুন।

যত বেশি শো-আপ করবেন আপনার অনলাইন ক্যারিয়ারের জন তত ভালো।

স্কিল ও মার্কেটিং ডেভলপমেন্ট

অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করার সময় এই দুটো বিষয়ে মনোযোগ দেয় না। কাজের জন্য চেষ্টা করা বা কাজকরার পাশাপাশি আপনার স্কিল ডেভলপ করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করাতে চাইলে আপনার স্কিল বাড়াতে হবে। কাজের পাশাপাশি সবসময় স্কিল আপডেট রাখতে হবে।

মার্কেটপ্লেসে কাজের পাশাপাশি সোস্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রফাইল ডেভলপ করুন; নিজের জন্য মার্কেটিং করুন। যেমন: ওয়েব ডেভলপার হলে কিছু ফ্রি থিম বানিয়ে আপলোড করতে পারেন।

এক কথায়, আপনাকে একটি ট্রং নেটওয়ার্ক বানাতে হবে; যাতে আশেপাশের সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

আপনার ক্লাইন্টের সাইকোলজি বুঝার চেষ্টা করুন; তারপর কোনো জিনিস অফার করুন। কারণ কেউ অল্প টাকায় কাজ করাতে চায়, কেউ ভালোকোয়ালিটির কাজ করাতে চায়। এগুলো আপনাকে বুঝতে হবে।

রিলেটেড: কিভাবে অনলাইনে ইনকাম করা যায়- ২০২১

আশা করি নতুনদের জন্য ফ্রিল্যান্সিংয়ের সকল দিকগুলো তুলে ধরতে পারেছি।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-