টেবিল অব কন্টেন্ট যোগের উপায়(WordPress Plugin)।

Easy Table of Content এই ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিনটির মাধ্যমে টেবিল অব কন্টেন্ট যোগ করা যায়। টেবিল অব কন্টেন্ট পেজের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ভালো করে।

1058 VIEWS

Table of content

আপনার পোস্টে টেবিল আফ কন্টেন্ট(table of content) বানাতে চান যেমনটা উইকিপিডিয়ায় করা হয়ে থাকে? টেবিল অফ কন্টেন্ট পাঠককে সামারাইজ আকারে পোস্টের সকল হেডিং লিকসহ দেখায়।

পাঠকের যে সেকশনটি পড়তে মন চাই, ক্লিক করে সে সেকশনে জাম্প করতে ও খুব সহজে পড়তে পারে।

এই আর্টিকেলে আমরা দেখব কিভাবে খুব সহজে পোস্টে ও পেজে টেবিল অফ কন্টেন্ট যোগ করা যায় কোনো এইচটিএমএল ও সিএসএস ব্যবহার না করে।

কেন টেবিল অফ কন্টেন্ট যোগ করব:

আপনি উইকিপিডিয়া পড়ার সময় খেয়াল করেছেন যে টেবিল অফ কন্টেন্ট থাকে; এবং আপনি যে অংশ পড়তে আগ্রহী ক্লিক করে সে অংশে পৌওছে যেতে পারেন।

 ইউজার ইন্টরেকশন বাড়াতে টেবিল অফ কন্টেন্ট (table of content) অনেক সাহায্য করে। অনেক বড় আর্টিকেল হলে পাঠকের পড়তে ও বুঝতে কষ্ট হয়।

টেবিল অফ কন্টেন্ট খুব সহজে সেটার সমাধান করে দেয়; তাছাড়া পেজটি এসিও ফ্রেন্ডলি হয় যা দ্রুত সার্চইঞ্জিন গুলোতে র‌্যাংক করতে পারে।

টেবিল অফ কন্টেন্ট এইচটিএমএল ও সিএসএস ব্যবহার করে তৈরি করা যায়। ID সেট করে লিংক ট্যাগের ভিতর আইডি দিয়ে দিন – <a href=”ID name”>content</a>। এটা বিগিনার লেভেলের কারোর জন্য করা অনেক কষ্টসাধ্য। তাছাড়া এটা করতে এইচটিএমএল ও সিএসএস জ্ঞান থাকা জরুরী।

আমরা ওয়ার্ডপ্রেস প্রেমি আমরা অত কষ্টে নেই। খুব সহজে প্লাগিন ব্যবহার করে ডাইনামিক্যালি আপনি টেবিল অফ কন্টেন্ট যোগ করতে পারেন; এমন একটি প্লাগিন Easy Table of Content.

ওয়ার্ডপ্রেসে টেবিল অফ কন্টেন্ট তৈরি:

প্রথমত আপনাকে Easy Table of Content প্লাগিনটি ইনস্টল ও একটিভেট করতে হবে। এটা একটি ফ্রি এবং খুবই কার্যকারী প্লাগিন।

কিভাবে প্লাগিন ইনস্টল করতে হয়, না জানলে আমাদের ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন ইনস্টল পোস্টটি পড়ুন।

প্লাগিন ইনস্টল ও একটিভ করা হয়ে গেলে সেটিংসে চলে যান। সেটিংসে সকল অপশন পেয়ে যাবে।

যেমন:- কোথায় টেবিল দেখাবেন, কতটি হেডিং হলে দেখাবেন, টেবিলের থিম কালার কেমন হবে সবকিছু। ইজি টেবিল অব কন্টেন্ট( Easy table of content) খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলি তাই আপনার শতভাগ  ইডিটিংয়ের সুযোগ রয়েছে।

table of content settings

আপনি চাইলে auto insert অপশন এনবল ও ডিসেবল করতে পারবেন। এনেবল করলে যেসকল পোস্ট ও পেজে ৪টি হেডিং আছে, সেখানে টেবিল অব কন্টেন্ট দেখাবে।

তবে হেডিংয়ের সংখ্যা আপনার প্রয়োজন অনুসারে কম বা বেশি করতে পারবেন। কিন্তু আমরা রিকমেন্ড করি যেসব পোস্ট বড় হয় সেগুলোয় টেবিল শো করান। তাই অপশনটা ডিজেবল রাখতে পারেন।

তারপর আপনাকে স্ক্রল ডাউন করে নিচে এপিয়ারেন্স(Appearance) অপশনে চলে যেতে হবে।

যেখান থেকে আপনার টেবিলের দৈর্ঘ্য(Height) ও প্রস্থ(Width), ফন্টের কালার, টেবিলের বর্ডার কালার পছন্দ করতে পারবেন; তাছাড়া ফ্লেয়েট(Float) অপশনের মাধ্যমে টেবিল বামদিকে না ডানদিকে শো করাবেন তাও সিলেক্ট করতে পারবেন।

appearance of table of content

আপনার দরকার হলে কাষ্টম থিম অপশনের মাধ্যমে কালার সিলেক্ট করতে পারবেন। সেখানে আপনাকে টেবিলের সকল কালার সিলেক্ট করার অপশন দেয়া আছে।

custom

একটা বিষয় খেয়াল বাখবেন, আপনি যখন পুরো টেবিলের কালার মনের মতো চেঞ্জ করতে চাইবেন তখন অবশ্যই কাস্টম থিম আপশনে টিক দিতে হবে।

অন্য থিম যেমন: গ্রে, ব্লাক এগুলো সিলেক্ট রাখলে নিচের Custom Theme অপশনে চেঞ্জ করলেও টেবিলের কোনো কালার চেঞ্জ হবে না।

আপনার এখন সময় এসেছে আরো এডভান্স লেভেলে যাওয়ার। আপনি একটুখানে স্ক্রলডাউন করে নিচে চলে যান। অনেক ব্লগার এটিকে কোনোরকম এডিট করে না।

তবে আপনি এগুলো নিয়ে একটু খেলতে পারেন। হয়তো এখান থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ অপশন পেয়ে গেলেন। যেটা আপনার জন্য খুবই ইউজফুল হবে।

advance option

অবশ্যই সেভ চেঞ্জেস(Save Changes) বাটনে চাপদিতে ভুলবেন না। যদি ভুলে যান তবে কোনো সিটিংসই ডাটাবেসে সেভ হবে না; অপনার কষ্টের এডিটিং জলে। আবার একই কাজ করতে হবে।

টেবিল অব কন্টেন্ট পোস্ট ও পেজে যোগ করা:

আপনার সেটিংস অপশননের সকল কাজ হয়ে গেছে এবং আপনি অটো ইনসার্ট অপশন এনেবল না করলে পোস্ট অপশনে চলে যান। সেখানে এড নিউ বাটনে চাপ দিয়ে পোস্ট লিখুন। এবার অরেকটু স্ক্রল করে পেজের নিচে চলে যান। সেখানে টেবিল অব কন্টেন্ট পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে ইনসার্ট টেবিল অব কন্টেন্টে[২] চেকমার্ক বা এনেবল করুন।

টেবিল অব কন্টেন্ট

চেকমার্ক করলে আপনার পোস্টে টেবিল অব কন্টেন্ট শো করানো শুরু করবে। পেজ প্রিভিউ করে দেখে নিন। আপনি যেসকল হেডিং দেখানে চান সেগুলোয় টিকমার্ক করুন। যেমন: আপনি আপনার পোস্টের সকল হেডিং-২ কে শো করাতে চান তাহলে শুধুমাত্র হেডিং-২ কে সিলেক্ট করুন [৪]

আপনি এখান থেকে যে অপশন এডিট করবেন তা গ্লোবাল সেটিংসের অভাররাইড করবে; যা শুধুমাত্র এই পোস্টের জন্য কার্যকর হবে অন্য পোস্টে নয়।

আপনি যদি বুঝতে না পারেন কোন অপশনের কি কাজ তাহলে চেঞ্জ করুন আর পোস্টের প্রিভিউ দেখুন।

ডিফল্টভাবে, টেবিল অব কন্টেন্টটি হেডিং-১ বা টাইটেলের পরে দেখাবে। আপনি চাইলে এটিকে ইডিট করতে পারবেন।

আপনি হেডিংয়ের আগে-পরে বা পেজের উপরে না নিচে দেখাবেন তা সহজে সিলেক্ট করতে:

>> ‍settings >> table of content পেজে চলে যান। সেখানে জেনারেল সেকশনে পজিশন(Position) অপশনের এডিটের মাধ্যমে করতে পারবেন। [নিচের চিত্রে ১নং অপশন টা]

আপনার টেবিল অব কন্টেন্ট এর টাইটেলে কি লেখা আসবে; তা উপরের চিত্রে ২নং দ্বারা চিহ্নিত অপশনে লিখুন। ডিফল্টভাব এটা Table of Content লেখা থাকে।

টেবিল অব কন্টেন্ট কি হাইড অবস্থায় ওপেন হবে না অটোমেটিক ওপেন থাকবে তা চিত্রের ৩নং চিহ্নিত অপশন থেকে সিলেক্ট করুন।

ইনিশিয়াল ভিউ অপশনে টিক দেয়া থাকলে টেবিল টা কলাপস অবস্থায় থাকবে।

হেডিংয়ের নম্বর অনুযায়ী হায়ারআরকি আসবে যদি ৪নং অপশন টিকমার্কে রাখেন; তা নাহলে কোনো হায়ারআরকি শোআপ হবে না। default-ভাবে এটিতে টিকমার্ক থাকে।

আপনার পোস্টের টেবিলের লিংকসহ টাইটেল লিস্টের ধরন ৫নং অপশনের মাধ্যমে সিলেক্ট করতে পারেন।

এখানে ডিফল্টভাবে কাউন্টার থাকে। যাতে আপনার লিংক ১,২,৩ এভাবে পরপর কাউন্ট হবে। নান(none) করার মাধ্যমে এই কাউন্ট আর হবে না।

এই প্লাগিনের আরো অনেক অপশন দেয়া আছে। যা লিখে সবকিছু বুঝানো যাবে না। তাছাড়া পোস্টটি অনেক বড় হয়ে যাবে।

আমি আশা করি যা অলোচনা করেছি তা টেবিল অব কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করার জন্য যথেষ্ট। যতটুকু বলেছি তা দিয়ে সহজেই একজন বিগিনার লেভেলের ব্লগারকে অনেক হেল্প করবে।

আপনি সকল অপশন ঘাটাঘাটি করুন যতক্ষন আপনার মনের মতো ডিজাইন না হচ্ছে।

Post Tags:-

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-