এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপার হওয়ার উপায়।-২০২১[apps development in Bengali]

এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপার হওয়ার উপায় অলোচনা করব। কিভাবে এপস ডেভলমেন্ট শিখবেন। মোবাইল এপস ডেভলপার হওয়ার উপায়।। Way to Become apps developer

104 VIEWS

অ্যান্ড্রয়েড এপস ডেভলপার

এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপার এর চাহিদা বাড়ছে। কারণ বর্তমানে ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। apps development in Bengali.

Statista রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩.৮ বিলিয়ন লোক স্মার্টফোন ব্যবহার করছে; অর্থাৎ বিশ্বের ৪৮% লোক মোবাইল ব্যবহার করে। বিশ্বে যত লোক মোবাইল ব্যবহার করছে তার অধিকাংশ এন্ড্রয়েড মোবাইল ইউজার।

মোবাইল ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সুবিধা দিতে নিত্যনতুন এপস তৈরি হচ্ছে। যেমন: ফেসবুক, ইউটিউব, ম্যাসেনজার ইত্যাদি। পরের ‘হিট এপস’ টা হয়তো আপনার তৈরি এপস হতে পারে।

Statista রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের এপস মার্কেটে অ্যান্ড্রয়েড এপসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এন্ড্রয়েড গুগলের সার্ভিস।

গুগল প্লে হচ্ছে এন্ড্রয়েড এপসের মার্কেট

আমরা এখান থেকেই আন্দাজ করতে পারি এন্ড্রয়েড এপসের চাহিদা। এন্ড্রয়েড এপসের চাহিদা মানে এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপারের চাহিদা।

ভবিষ্যতে এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপারের চাহিদা বাড়বে। আপনি যদি এপস ডেভলপমেন্ট শিখতে চান সেটা সময়উপযোগী একটি সিদ্ধান্ত হবে।

এপস ডেভলপমেন্ট শেখা শুরু

এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপমেন্ট শিখতে গেলে আপনার কিছু জিনিসের দরকার হবে। যেমন:- কম্পিউটার, এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপার হতে কোনো একাডেমিক ডিগ্রির দরকার নেই। তবে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করতে গেলে সিএসই(CSE) বা এই রিলেটেড ডিগ্রির দরকার পড়তে পারে।

এপস ডেভলপমেন্ট শেখার শুরুতে, যেকোনো একটি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে। অনেকে আপনাকে বলতে পারে, এপস ডেভলপমেন্টের জন্য কোডিং জানার দরকার নেই।

ড্রাগ এন্ড ড্রপের মাধ্যমে এপস তৈরি

হ্যা, তাদের কথাও অনেকটা সত্য, অনেক ওয়েবসাইট ও টুল আছে যেখানে ড্রাগ এন্ড ড্রপের মাধ্যমে এপস তৈরি করা যায়। কিন্তু কোডিং ছাড়া ভালোমানের এপস তৈরি করা যায় না।

কোথায় শিখব:

প্রথম অবস্থায় বেসিক বিষয়গুলো শিখুন। ইউটিউবে ফ্রিতে প্রচুর টিউটোরিয়াল আছে সেখান থেকে শিখতে পারেন। চাইলে কোনো ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হতে পারেন।

কোনো ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার আগে ট্রেনিং সেন্টারের বিষয়ে খোজ নিন। তবে ইচ্ছা থাকলে ফ্রিতে ইউটিউব থেকে শিখতে পারবেন। ইউটিউবে শেখার জন্য আপনাকে একটু কষ্ট করতে হব।

ইউটিউব থেকে শেখার জন্য মটিভেশনটা জরুরি। আপনি একটা টাইম তৈরি করুন যেমন: দিনে ৩ ঘন্টা বা ৪ঘন্টা শিখবেন; শেখার সময় সিরিয়াল বা প্লেলিস্ট ধরে শিখুন। ভিডিও দেখার সাথে সাথে নিজে হাতে ভিডিওতে দেখানো কাজগুলো করতে হবে, তবেই শিখতে পারবেন।

ইউডেমি থেকে পেইড কোর্সও করতে পারেন। পেইড কোর্সগুলো অনেক উন্নতমানের হয়ে থাকি।

আপনাদের সুবিধার জন্য একটি চিত্র দেয়া হল, যেটির মাধ্যমে এপস ডেভলপমেন্টের রোডম্যাপটি বুঝতে পারবেন।

এপস ডেভলপমেন্টের রোডম্যাপটি

আপনাকে নতুন অবস্থায় সবগুলো শিখার দরকার নাই। শুধুমাত্র ডেভলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট সেট করুন ও প্রগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে জানুন।

০১. ডেভলপমেন্ট এনভায়রনমেন্ট

ডেভলমেন্ট রিলেটেড যেকোনো কাজ করতে সঠিক এনভায়রনমেন্ট সেট করতে হয়। সেটা সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, এপস ডেভলপমেন্ট বা ওয়েবডেভলপমেন্ট হতে পারে।

এনভায়রনমেন্টের মাধ্যমে আমরা প্রোগ্রামিং করার পরিবেশকে বুঝায়। তবে প্রতিটি ডেভলপমেন্টে এনভায়রনমেন্ট এক নয়।

সঠিকভাবে এপস ডেভলপমেন্ট শিখতে আপনাকে সঠিক এনভায়রনমেন্ট সেট করতে হবে।

এন্ড্রয়েড ডেভলপমেন্ট করার জন্য এন্ড্রয়েড স্টুডিও বেস্ট। এন্ড্রয়েড স্টুডিও পুরো একটি প্যাকেজ। মানে এন্ড্রয়েড ডেভলপমেন্টের জন্য যতগুলো জিনিসের দরকার সবকিছু এর মধ্যে আছে।

এন্ড্রয়েড স্টুডিও

এন্ড্রয়েড স্টুডিও কম্পিউটারে ইনস্টল করা একটু ঝামেলার হতে পারে নতুনদের কাছে। তবে ইউটিউবে প্রচুর ভিডিও পাবেন ধৈর্য ধরে চেষ্টা করুন।

০২. প্রোগ্রামিং ল্যাুঙ্গুয়েজ শিখুন

এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপমেন্টের জন্য জাভা বা কটলিন শিখুন; এপস ডেভলপমেন্টের জন্য এই দুটো ন্যাটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ। পাইথন, সি সার্প, জাভাস্ক্রিপ্ট এগুলো দিয়েও এন্ড্রয়েড ডেভলপমেন্ট করা যায়।

২০২১-এ, কোটলিন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনগুলির জন্য উপযুক্ত। কারণ নীচে উল্লিখিত কারণ:

কোটলিনের ভালোমানের কম্পাইলার আছে, যেটা এন্ড্রয়েড ডেভলপমেন্টের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

জাভা ফ্রেমওয়ার্ক ও লাইব্রেরির সাথে কটলিন খুবভালোভাবে কম্পাটিবল(compatible)।

এপস ডেভলপমেন্টের জন্য প্রোগ্রামিংয়ের উপর মাস্টার না হলেও চলবে। তবে প্রোগ্রামিংয়ের বেসিক বিষয় জানা থাকতে হবে:

  • লুপ
  • কন্ডিশন
  • অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রগ্রামিং
  • আউটপুট ও ইরোর দেখা

মোটামুটি এগুলো সম্পর্কে জানলে বেসিক লেভেলের এপস তৈরি করতে পারবেন। তবে ভালোমানের এপস তৈরিতে প্রোগ্রামিংয়ের উপর আরো জ্ঞান থাকতে হবে।

০৩. এসকিউএল(SQL)

মোবাইল এপ্লিকেশন ডেভলপমেন্ট করার জন্য ডাটাবেস ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে। একটি এপস তৈরি করার জন্য কেন এসকিউএল শিখা জরুরি?

অ্যাপসে অনেকসময় ডাটা স্টোর করার দরকার পড়ে। যেগুলো ডাটাবেসে জমা রাখতে হয়। ডাটাবেসে তথ্য জমা রাখার জন্য আপনাকে অবশ্যই যেকোনো ডাটাবেস ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হবে।

স্ট্রাকচার কুয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজের(SQL) মাধ্যমে আমরা ডাটাবেসের ডাটাকে অর্গানাইজ করতে পারি। ডাটাবেসে তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য আপডেট ও তথ্য কালেক্ট করতে এসকিউএল ব্যবহার করা হয়।

SQL সম্পর্কে হালকা জ্ঞান থাকলেই আপনার কাজ হয়ে যাবে।

০৪. XML

যদিও এন্ড্রয়েড স্টুডিওর মাধ্যমে ড্রগ এন্ড ড্রপ করে অ্যাপের লে-আউট ডিজাইন কর যায় তবুও XML জানা থাকলে ভালো হয়।

লে-আউট ডিজাইন

এক্সএমএল দিয়ে মূলত অ্যাপের ইউটার ইন্টারফেস ডিজাইন করা হয়। ডিজাইনের ক্ষেত্রে XML আপনাকে প্রচুর হেল্প করবে; তবে নতুন অবস্থায় এটা শেখা জরুরি নয়। ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ডাটা এমবেড করতে XML দরকার হয়।

শেখার পরবর্তী ধাপ:

উপরের তিনটি বিষয় শেখার মাধ্যমে আপনি বেসিক লেভেলের এপস তৈরি করতে পারবেন।

আপনি এপস ডেভলপমেন্ট সেক্টরে ভালো কিছু করতে চাইলে এটুকু শিখলে হবে না। আরো কিছু বিষয় ও গুণ আপনার ভিতর ডেভলপ করতে হবে।

নিয়মিত শিখতে হবে; এন্ড্রইডের আপডেট সম্পর্কে জানতে হবে। ডাটা স্ট্রাকচার ও এলগরিদমের উপর খুব ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। ‍ডেভলপমেন্ট শেখার পিছনে আরো সময় ব্যায় করতে হবে।

ডেভলপমেন্ট কিন্তু শুধু শেখার জিনিস নয়; নিয়মিত কাজ করার মাধ্যমে আপনার স্কিল বাড়বে। আপনাকে ব্লগ পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।

এপস ডেভলপমেন্টের অনেক তথ্য আছে যেগুলো কোনো ভিডিওতে পাবেন না। আবার অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন পড়ার অভ্যাস করতে হবে। শেখার প্রথমদিকে এগুলোর দিকে নজর দিবে না।

আপনি বেসিক জিনিস না জানলে ব্লগ বা অফিসিয়াল ডকুমেন্টেশন পডে কোনো লাভ হবে না; এগুলো তৈরি করা হয় এডভান্স ডেভলপারদের জন্য তাছাড়া লেখার মাধ্যমে সবজিনিস বুঝানো যায় না।

গুগল প্লে-স্টোর

অ্যান্ড্রইড এপস তৈরি করে কোথায় আপলোড করবেন। এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপারদের একটা বড় সুবিধা কোনো হোস্টিং খরচ লাগে না।

Google Play Store আপনার অ্যাপস হোস্টংয়ের সকল দায়িত্ব নেয়।শুধুমাত্র ২৫ ডলার খরচ করে একটা লাইফটাইম একাউন্ট করতে পারবেন। আর কখনও টাকা দিতে হবে না।

প্লে-স্টোরের এই একটি একাউন্টে আপনার যত খুশি তত এপস আপলোড করতে পারবেন। এপস আপলোডের কোনো লিমিটেশন নেই।

সোস্যাল একাউন্ট খুলুন

আপনি যখন মোটামুটি এপস তৈরি করতে পারবেন সোস্যাল একাউন্ট যেমন: ‍গিটহাব, স্ট্যাকওভার ফ্লো, লিকডইন ইত্যাদি।

আপনার প্রফাইলগুলো সাজান, আপনার স্কিল সম্পর্কে লিখুন; পারলে কিছু প্রজেক্ট করে আপলোড করুন। আপনার কন্টাক্ট নম্বর দিন। পারলে মানুষের কিছু সমস্যার সমাধান করে দিন।

অ্যাপস ডেভলপমেন্টের জগতে এই সোস্যাল একাউন্টগুলো আপনাকে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। অধিকাংশ ডেভলপার তাদের সোস্যাল একাউন্টগুলোর উপর নজর দেয় না।

কেন সোস্যাল একাউন্ট করব? সোস্যাল মিডিয়া প্রফাইল আপনার সিভি হিসেবে কাজ করতে পারে। সোস্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল আপডেট করলে সেখান থেকে আপনার ক্লাইন্ট আসতে পারে।

ক্লাইন্টরা শুধু মার্কেপ্লেসে থাকে না, সোস্যাল মিডিয়াও থাকে। সেখান থেকে আপনার ক্লাইন্ট আসবে আবার ভাগ্য ভালো থাকলে জব অফারও পেতে পারেন।

মার্কেটপ্লেস

অ্যাপস ডেভলপমেন্টের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং করে অনেক টাকা আয় করতে পারবেন। বর্তমানে যতগুলো চাহিদাসম্পন্ন কাজ আছে তার মধ্যে অ্যাপস ডেভলপমেন্ট উল্লেখযোগ্য।

রিলেটেড পোস্ট: অনলাইনে টাকা ইনকাম করার ১৫টি উপায়

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডেভলপমেন্ট শেখার মাধ্যমে খুব সহজে মার্কেটপ্লেসে কাজ পেতে পারেন। আপনি নিজের সকল কাজের ও দক্ষতার বর্ণনা দিয়ে প্রফাইলটি সাজান।

প্রফাইল সুন্দরভাবে সাজানোর পর কাজ খুজতে থাকুন। যে কাজগুলো আপনি করতে পারবেন সেরকম কাজে বিড করুন। আশা করা যায় খুব দ্রুতই আপনি কাজ পেয়ে যাবেন।

অ্যাপস ডেভলপমেন্ট শিখতে কতদিন লাগবে?

শেখাটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে। এক এক জনের শিখার ক্ষমতা এক একেক রকম। তবে গড় মানুষের হিসাবে দিনে ৪ঘন্টা করে দিলে ১থেকে দেড়বছর লাগতে পারে।

ক্যারিয়ারের জন্য অ্যাপস ডেভলপমেন্ট কেমন?

বর্তমান সময়ে অ্যাপস ডেভলপমেন্টে চাহিদা অনেক বেশি। অ্যান্ডয়েড এপস ডেভলপার হিসেবে খুব ভালোমানের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

কোডিং ছাড়া কি এপস তৈরি করা যায়?

হ্যা। অনলাইন ও অফলাইন বিভিন্ন টুল আছে যার মাধ্যমে কোডিং ছাড়াই এপস তৈরি করতে পারেন। এরকম একটা টুলের নাম thunkable.

অ্যাপস তৈরি করা কি কঠিন?

আপনার আগ্রহের উপর নির্ভর করে। আপনার যদি কোডিং বা প্রোগ্রামিং ভালো লাগে তবে অ্যাপস ডেভলপমেন্ট কঠিন কিছু নয়।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-