১০ টি কারণে ব্লগিং শুরু করা উচিৎ।

ব্লগ এখন মানুষের একটা নতুন চাহিদা হিসেবে ধরা দিয়েছে। আগে মানুষের টেকনলোজি জ্ঞান এত ছিলো না। কিন্তু যত মানুষের টেক সম্পর্কে

1049 VIEWS

১০-টি-কারণে-ব্লগিং-শুরু-করা-উচিৎ।-1

ব্লগ এখন মানুষের একটা নতুন চাহিদা হিসেবে ধরা দিয়েছে। আগে মানুষের টেকনলোজি জ্ঞান এত ছিলো না। কিন্তু যত মানুষের টেক সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ছে তত ব্লগের প্রয়োজনীতা আকাশচুম্বি হচ্ছে।

বর্তমানে ইন্টারনেটে কয়েক বিলিয়ন ব্লগসাইট রয়েছে। আবার ব্লগ লেখার ও পড়ার জন্য রয়েছে অসংখ্য মানুষ।

পাঠক এবং লেখক সকলের ব্লগ লেখা ও পড়ার কারণ ভিন্ন। কোনো কোনো পাঠক জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ে আবার কেউ বিনোদনের জন্য। আমার আজকের লেখা যেহেতু পাঠক নয় তাই কোন পাঠক কি কারণে ব্লগ পড়ছে তা আলোচনা এখানেই শেষ।

আজ আলোচনা করব কি কি কারনে টেকপোকারা ব্লগে লেখে। কিকি কারণে আপনার ব্লগে লেখা উচিৎ।

১০ টি কারণে ব্লগিং শুরু করা উচিৎ।

১. জ্ঞান বাটতে:

অনেক ব্লগার ব্লগিং করে শুধুমাত্র তাদের অর্জিত জ্ঞান শেয়ার করার জন্য। এখানে লেখালেখি করে তাদের ডকুমেন্টেশন তৈরি ও তা শেয়ার করা।

অন্যকে শিখানোর মাধ্যমে নিজে আরো বেশি শেখা যায়। কিছু কিছু ব্লগ লেখার জন্য প্রচুর রিসার্চ ও বই পড়ার দরকার হয়। এতে ব্লগারের জ্ঞানের ভান্ডার আরো উন্নত হয়।

২. লেখার শখ-

অধিকাংশ মানুষের ব্লগিং করে তাদের লেখার শখ থেকে।

অনেকের লেখার শখ রয়েছে। কেউ কেউ নোট লেখে। টেকপোকারা মনে করে নোট খাতায় লেখার চেয়ে আনলাইনের কোথাও লিখলে সংরক্ষণ করা সহজ হবে। এদের কাছে লিখাটা সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করে। কে কত কমেন্ট করল এতে তাদের কিছু যায়-আসে না। এরা শুধু অনলাইন স্পেস চাই লেখার জন্য।

এটাকে লেখালিখির প্যাশান বলে। আমি মনে করি সকল ব্লগারের ব্লগিংয়ের বড় কারণ লেখার শখ হওয়া উচিৎ।

৩.নেটওয়ার্ক-

ব্লগিং নতুন মানুয়ের সাথে মিটিং করার একটা বড় রাস্তা। ব্লগিং এর মাধ্যমে আপনার মনের মতো নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেটা লোকাল ও গ্লোবাল উভয় মানুষের সাথে পরিচিত করাবে।

একই ভাবনার মানুষের সাথে পরিচিতি হওয়ার যত রাস্তা রয়েছে তার মধ্যে ব্লগিং অন্যতম। এ ধরণের ব্লগে কমেন্ট সেকশন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটা টপিকের বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনার জন্য ব্লগিং এর চেয়ে আর ভালো কোনো রাস্তা হতে পারে না। একটা টপিকের বিভিন্ন মানুষের মতামত নেয়া হয়।

এখানে একটা কমন ইন্টারেস্টের মানুষের একটা কমিউনিটি তৈরি হয়। যেখানে একটা মূখ্য বিষয়বস্তুর বিভিন্ন দিক ও বিভিন্ন মানুষের মতামত উঠে আসে।

৪. ডিজিটাল ভবঘুরে-

ডিজিটাল ভবঘরে লাইফস্টাইল কোনো অপরিচিত বিষয় নহে। অনেক মানুষ পৃথিবী ও কাজের মাঝে ঘুরতে ভালোবাসে। ব্লগিং আপনাকে সেই সুযোগ করে দেয়। আপনি পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করতে পারবেন।

আসলে ব্লগিং করার জন্য আপনাকে কোনো জায়গায় স্থির থাকতে হবে না। আপনি চাইলেই পৃথিবী ঘুরে দেখতে দেখতে কজটি করতে পারেন।

ডিজিটাল ভবঘুরে কথাটা ব্যবহার করেছি মানুষ বুঝাতে। যারা যাযাবর দিন যাপন করেও কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে। ফ্রিল্যন্সিংয়ের যত কাজ রয়েছে সবগুলো ভবঘুরে লাইফস্টাইলের মাঝে করা যায়।

৫.জনপ্রিয়তা-

ব্লগাররা কিন্তু সেলিব্রিটিদের তুলনায় কম নয়। আসলে মানুষ সেলিব্রিটি হতে চাই তাদের পরিচিতির জন্য। ব্লগিং সেই সুযোগকে আরো হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। ড্রেইর রোজ (Darren Rowse) একজন অনেক পরিচিত ব্লগার। তাকে ব্লগিংয়ের জগতের অনেক লোক চিনে।

অনেক ইউটিউবার ও ব্লগার আমাদের বেশ পরিচিত। অনেক মানুষ সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সকলের কাছে পরিচিত হতে চায়।

৬. আয়ের উদ্দেশ্য-

আধিকাংশ মানুষ সফল ব্লগারদের দেখে থাকে ও ভাবে।’ওহ আমিও করব, কিছু জিনিস লিখব ও কিছু বাটন ক্রিয়েট করব। এবং প্রচুর টাকা আয় শুরু।’ এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। এভাবে বলা ঠিক না তবে এটা করলে আপনার আয় করা কঠিন হবে।

শুধু টাকা আয়ের উদে্দশ্যে ব্লগিং জগতে আসলে খুব একটা সফল হতে পারবেন না। আপনি ট্রেডিশনাল (বা গতানুগতিক) চাকরির মাধ্যমে এর থেকে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং যদি প্যশান থেকে করেন তবে এটা আপনার জন্য খুব ভালো একটা প্লাটফর্ম। কিন্তু শুধুমাত্র টাকার নেশায় ব্লগিং করলে লস করবেন। আপনি একেবারে আয় করতে পারবেন না বিষয়টা তেমন নয়। তবে যেটা আয় করবেন তার পিছনে যে কষ্ট করতে হবে সেটা অনেক বেশি। তা ছাড়া কাজটার প্রতি অল্পদিনেই বিতৃষ্ণা তৈরি হবে।

যদি ব্লগিং করে ভারো মানের আয় করতে চান তবে ভালো পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং প্রফিটেবল নিস নির্বাচন করার ক্ষমতা দরকার।

৭. ব্রান্ডের বিজ্ঞাপন প্রচার-

নতুন কোনো জিনিস কেনার আগে টেকপোকারা একটু নেট ঘাটাঘাটি করে। এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য কোম্পানীগুলো বিভিন্ন ব্লগ সাইটে তাদের বিজ্ঞাপনী প্রচার চালায়।

আবার অনেক সময় তারা নিজেরা এক্সপার্ট দ্বারা বিভিন্ন কন্টেন্ট রিভিউ লিখিয়ে নেয়। তাদের প্রডাক্ট সম্পর্কে জনগনের জানানোর সবচেয় সহজ কিন্তু কার্যকারী মাধ্যম ব্লগিং।

মানুষ আপনার প্রডাক্ট সম্পর্কে জানতে পারলে অবশ্যই সেই জিনিসটা কেনার অগ্রহ বাড়ে। এই আগ্রহ এবং ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে জিনিস বিক্রি করা অনেক সহজ হয়।

তাছাড়া টিভিটে বা ফিজিক্যালি বিজ্ঞাপনে যেখানে কোটি টাকা খরচ হয় সেখানে ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনে হাজার টাকায় হয়ে যায়। বিগডাটা টেকনিক ব্যবহার করে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌছানো অনেক সহজ কাজ।

৮. একই মনের মানুষের সাথে পরিচিতি:-

ব্লগিং করার মাধমে আপনি আপনার ইন্টারেস্ট বা শখের কাজকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেন। এবং প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লোক তাদের ইন্টারেস্টিং বিষয় গুগলে সার্চ করে থাকে।

গুগলের দরুন আপনি এমন লোকদের কাছে পৌছে যাচ্ছেন যারা একই বিষয়ে ইন্টারেস্ট রাখেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে আজকাল কত মানুষ সংগঠিত হয়ে আন্দোলন করছে। এগুলো কিন্তু একই মানুষিকতার লোকদের একজায়গায় জড়ো করার কারণেই সম্ভব হচ্ছে।

১০. সচেতনতা তৈরি :-

কোনো বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার জন্য ব্লগিং অনেক বড় ভুমিকা রাখছে। বর্তমানে করোনা রোগের প্রতিকারের জন্য বিভিন্ন ব্লগসাইটে লেখা হচ্ছে।

আবার কিছু এনজিও বা পলিটিকাল ব্লগসাইট রয়েছে যেগুলো বিভিন্ন ব্লগাররা সামাজিক অবক্ষয় সম্পর্কে সচেতন করে। বিভিন্ন জায়গার অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে জনগনের মাধে্য সচেতন মনোভাব তৈরি করে।

কিছু পরিবেশগত ওয়েবসাইট রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত গাছ নিধনের ক্ষতিকর দিক ‍সহ পরিবেশগত বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরছে।

১১. পারসোনাল ব্রান্ডিং

এটি ব্লগিং শুরু করার অনেক বড় একটি কারণ। আপনি একটু ঠান্ডা মাথায় বিচার করে দেখুন, এমন অনেকে চেনেন যাদের আগে চিনতেন না। এদের মধ্যে অনেককে পারেন যারা অনলাইনের মাধ্যমে আপনার সাথে পরিচিতি।

নিজেকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে ব্লগিং অনেক কারকরী একটি মাধ্যম। আপনার কাজের যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার একটা প্রমান। আপনি সাধারণত আপনার ইন্টারেস্টের জিনিস নিয়ে লেখালিখি করবেন। যেখান থেকে অনেক মানুষের সাথে পরিচিতির সুযোগ রয়েছে।

১২. নতুন চাকরি

অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্টের কথা বলতে যাচ্ছি। ব্লগাররা তাদের কাজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে থাকে তাদের লেখার মাধ্যমে।

আমি যেমন ব্লগিং বুঝি, এবং আমি যদি চাই কোনো কোম্পানীর কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে যোগ দিত। তখন কোম্পানীকে আমার এই ব্লগসাইটটা দেখালে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবণা অনেক বেড়ে যায়।

হয়তোবা আপনি ফটোগ্রাফি করা পছন্দ করেন। আপনি ফটোগ্রাফার হিসেবে চাকরি পেতে চাচ্ছেন। একটা ওয়েবসাইট বানিয়ে নিজের তোলা সকল পছন্দের ছবিগুলি দিয়ে রাখুন। এবার চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে সিইও-কে সাইটটি দেখান। আমার মনে হয়, এটাই আপনার জবটা পাওয়ার জন্য যথেষ্ঠ হয়ে যাবে।

১৩. অন্যদের সাহায্য

ব্লগিং শুরু করার এটা একটা অনেক বড় কারন। আমি ব্লগিং ভালো বুঝি এবং আমার ইচ্ছা নতুন ব্লগারদের সাহায্য করা। এজন্য আমি শুরু করেছি bnLite.com সাইটটি।

আমার বিশ্বাস এটা নতুনদের অনেক ভালো গাইডলাইন দিতে পারবে। অনেক নতুন ব্লগার ও ফ্রিল্যান্সার এটি থেকে উপকার পাবে।

১৪. সংযোগ রক্ষা :-

আপনার ফ্রেন্ডস ও ফ্যামিলির সাথে সংযোগ রক্ষার জন্য ব্যাক্তিগত ব্লগ অনেক ভালো মাধ্যম।

আপনি কি নিয়ে ভাবছেন। আপনার চিন্তার বিষয় এবং আপনার লক্ষ কি তা ব্যাক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করে থাকেন। সেখান থেকে আপনার বন্ধু ও পরিবারের লো আপনার সম্পর্কে খবর সংগ্রহ করতে পারে। এবং কমেন্টের মাধ্য আপনার সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে পারে।  

১৫. জ্ঞান বাড়ানো:-

কোনো বিষয়ের পান্ডিত্ব অর্জন করতে গেলে অন্যকে শিখাতে হয়। অন্যকে শিখাতে গেলে বঝা যায় আপনি কতটুকু জানেন। আপনার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা হয়। এবং আপনি নতুন জিনিস শিখতে আগ্রহী হবেন।

নিয়মিত চর্চার ফলে আপনার জ্ঞানভান্ডার বৃদ্ধি পাবে। আপনি বিষটির উপর পান্ডিত্ব অর্জন করতে সফল হবেন।

১৬. নতুন রেকর্ড গড়া:

আনলাইনের বিভিন্ন জিনিস লেখনির মাধ্যমে একটা দৃষ্টাস্ত তৈরি করতে পারেন। যেটি পরবর্তীতে আপনি মানুষের সাথে বলতে পারবেন।

১৭. ক্রিয়েটিভ হওয়া-

ব্লগিং শুধুমাত্র টাকা আয় করার জায়গা নয়। এখানে অনেক কম্পিটিশন এবং সকলকে পিছনে ফেলতে চাইলে আপনাকে ক্রিয়েটিভ হতে হবে।

কথায় আছে, ”গাইতে গাইতে গাইন, বাজায়তে বাজায়তে বাইন।” মানুষ কোনো কিছু শিখে দুনিয়াতে আসে না। পরিবেশ ও নিজের থেকে বিভিন্ন জিনিস শেখে।

আপনি ক্রিয়েটিভিটির চর্চা করতে করতে অনেক ক্রিয়েটিভ হয়ে যাবেন।

১৮. আইডিয়া শেয়ার-

অনেকে ব্লগের মাধ্যমে বিভিন্ন আইডিয়া শেয়ার করে থাকে। যেমন:- বিজনেস, রান্ন, চাকরি ইত্যাদি।

আপনার যদি মনে হয় আপনার অনেক আইডিয়া আছে তবে শেয়ার করতে পারেন। হয়তো অনেকে আপনার আইডিয়া কাজে লাগাতে পারবে। আবার আপনাকে তার বিজনেসের শেয়ার দিল।

বিভিন্ন কোম্পানী পরামর্শদাতা খুজে থাকে। আপনার পরামর্শ বা আইডিয়া তাদের পছন্দ হলে আপনাকে চাকরির জন্য ডাক দিতে পারে।

কিছুকথা:-

আমাদের পরিবেশে চারদিকে সম্ভাবণার ছড়াছড়ি। আপনি ব্লগিয়ের মাধ্যমে কিছু সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন। ব্লগিং করলে ক্ষতির তেমন কোনো সম্ভাবণা নেই। এখানে বড় কোনো বিনিয়োগের দরকার নেই। শুধু সময় নিয়ে লোখালেখি করতে হবে।

Related:- সিঙ্গেল টপিক ও মাল্টি-টপিক কোনটি ব্লগিংয়ে ভালো।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-