ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি? ফ্রিল্যান্সিং করার সুবিধা। আউটসোর্সিং করার সুবিধা। বিস্তারিত

1081 VIEWS

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং কি

নতুন ইন্টারনেট ইউজারদের মনে এক সময় না এক সময় একটা প্রশ্নের তৈরি হয়। ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) কি? আউটসোর্সিং কি?

আউটসোর্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে অনেকের মনে আশঙ্কা আছে, তো কারো মধ্যে আছে ভুল ধারণা।

ফ্রিল্যান্সিং কি? এই প্রশ্নের যত রকমের ভুল ধারণা আছে, সব পরিষ্কার হয়ে যাবে, আর্টিকেলটি পড়ে।

তাই ভাবলাম, আউটসোর্সিং নিয়ে আমার ওয়েবসাইটে যেসব ভিজিটর আসে। তাদের একটু স্বচ্ছ ধারনা দেই। আজকের টপিকঃ আউটসোর্সিং;  আপনার হাতে যদি সময় থাকে পড়া শুরু করুন।

আউটসোর্সিং কি?

অনেক মানুষ আছেন যারা আউসোর্সিংকে একটি মুক্তপেশা হিসেবে গন্য করে। কিন্তু এটা সত্য যে, আউটসোর্সিং কোনোভাবেই মুক্তপেশা না।

বরং মুক্তপেশায় নিয়োজিত কোনো ব্যাক্তির দ্বাড়া কোনো কাজ করিয়ে নেয়াকে বলা হয় আউটসোর্সিং। 

উদাহরণস্বরূপ, আপনার একটা কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানিতে অনেক মানুষ চাকরি করে। তো প্রচারের তাগিদে আপনার কোম্পানির জন্য একজন Graphics Designer এর প্রয়োজন হলো।

কিন্তু আপনার কোম্পানিতে যতো কর্মচারী আছে, তারা তো এই বিজনেস কার্ড (Business Card) ডিজাইনের কাজটা করতে পারেনা। তখন আপনি কি করবেন?

আপনার শুধুমাএ একটি বিজনেস কার্ড (Busness) প্রয়োজন; শুধু শুধু সারা মাস বেতন দিয়ে একটা ডিজাইনার কে আপনার কোম্পানিতে রেখেই বা লাভ কি? টাকা ও জায়গার অপচয়, তাইনা!

তো আপনার টাকা এবং সময় দুটোর অপচয় রোধ করার জন্য। এমন একজনকে ভাড়া করতে পারেন যে কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে শুধুমাত্র আপনার বিজনেস কার্ড ডিজাইন করে দিবে। শুধু মাত্র বিজনেস কার্ড তৈরিতে যে টাকা লাগবে সেটা দিলেই হবে।

এটি করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে যেতে হবে। সেখান থেকে একজন ফ্রিল্যান্সারকে ভাড়া (Hire) করতে হবে।

এবং সেই ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে আপনার কোম্পানির জন্য Business Card তৈরি করে নিবেন। এখানে আপনার ভূমিকা হলো, আপনি একজন আউটসোর্সার। আর যে আপনার কাজটি কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে করে দিলো সে হলো, ফ্রিল্যান্সার।

এখন এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে যদি আমরা সংঙ্গায়িত করি। তাহলে এভাবে বলা যেতে পারে যে, “যখন আপনি কোনো কাজের জন্য আপনার কোম্পানির বাইরে থেকে স্বল্প সময়ের জন্য কাউকে ভাড়া করবেন ৷ তখন আপনার কাজকে বলা হবে আউটসোর্সিং।

 ফ্রিল্যান্সিং কি?

আউটসোর্সিং কি বিষয়টা যদি বুঝে থাকেন, তবে এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা ফ্রিল্যান্সিং কি? যদি পরিষ্কার ভাবে না বুঝে থাকেন, তবে পড়তে থাকুন….

যখন কোনো ব্যাক্তি কোনো কোম্পানী দ্বারা হায়ার হয়ে কোম্পানীর নির্দিষ্ট কাজ করে তখন সেটা ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টাকে বুঝতে হলে আগে বুঝা দরকার ফ্রিল্যান্সার কি?

ফ্রিল্যান্সার হল একজন ব্যাক্তি যিনি কোনো একটি কাজ কন্টাক্টের ভিত্তিতে করে দেয়। উপরে যে উদাহরণ দিয়েছিলাম সেটির দিকে খেয়াল করুন।

ব্যবসার মালিক টাকা ও সময় বাচানোর জন্য বিজনেস কার্ড ডিজাইন করার জন্য যাকে হায়ার বা ভাড়া করেছিল সে হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার।

বাংলাদেশ অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করছে ও অনেক টাকা আয় করছে। বেশিরভাগ সময় Untied State এর লোকেরা আউটসোর্সিং করে থাকে।

আশা করি এই সহজ ব্যাপারটা এতক্ষণে বুঝে গেছেন। এবার বলুন তো, আউটসোর্সিং আর ফ্রিল্যান্সিং এর মধ্য পার্থক্য কি?

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মধ্যে পার্থক্য কি?

আরো একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা পরিষ্কার করি।

করিম ও রহিম দুই জন ব্যক্তি। করিমের একটা মোবাইলের দোকান আছে। তার দোকানে ২০-৩০ জন কর্মচারী কাজ করে। করিমের দোকান ভালোই চল ছিল। করিমের একজন মার্কেটার বন্ধু তাকে বিজনেস কার্ড বানানোর পরামর্শ দিলো। বন্ধুটি করিমকে আরো বলল, “বিজনেস কার্ড ব্যবসার ৩০% উন্নতি করে।” তো করিমের মনে হল একটা বিজনেস কার্ড বানানো যাক।

কিন্তু বললেই তো আর বিজনেস কার্ড বানানো হয়ে গেলো না। কারণ সে বা তার দোকানের কেউ বিজনেস কার্ড বানাতে পারে না। করিম ভাবল একমাসের জন্য একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে ভাড়া করে বিজনেস কার্ড তৈরি করে নিবে।

বিষয়টা করিমের স্ত্রী কোনো ভাবে জানতে পারলো। করিমের স্ত্রী বলল, “একটা বিজনেস কার্ডের জন্য ৪৫,০০০ টাকা দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনার ভাড়া করার কি দরকার!!” আরো পরামর্শ দিলো, “Fiverr.com থেকে ৫ডলার দিয়ে একটি বিজনেস কার্ড ডিজাইন করিয়ে নিলেই হয়।”

করিমের স্ত্রী করিমকে Fiverr.com এ গেলো, তারপর দুজন মিলে খোজা শুরু করল কে সবচেয়ে ভালো বিজনেস কার্ড বানায়। তারা রহিমকে খুজে পেল যে, ভালো বিজনেস কার্ড বানাতে পারে। করিম ও করিমের বউ রহিমকে বিজনেস কার্ড বানানোর জন্য ৫ডলার দিয়ে অর্ডার করল। রহিম বিজনেস কার্ড বানিয়ে দিয়ে ৫ ডলার আয় করল।

উপরের পুরো গল্পে, করিমের কার্যক্রমটি হল আউটসোর্সিং; রহিমের কাজকে বলব ফ্রিল্যান্সিং। তাহলে এখানে করিম আউটসোর্সার এবং রহিম ফ্রিল্যান্সার।

আমার বিশ্বাস আপনি বুঝতে পেরেছেন, যে ফ্রিল্যান্সিং কি ও আউটসোর্সিং কি।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং বিষয়ে আরো কিছু তথ্য:-

কেন আউটসোর্সিং করা হয়?

# দক্ষ কর্মচারী

অনেক সময় কাজের জন্য দক্ষ কর্মচারী পাওয়া যায় না। তাছাড়া কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণের ঝামেলা আছে।

কোনো ছোট্ট একটি কাজের জন্য সারা মাস বেতন দিয়ে রাখা। আবার একমাসের জন্য আপনি কর্মচারী পাবেন না। এসব ঝমেলার থেকে মুক্তি কাজটাকে আউটসোর্স করুন। একজন দক্ষ কর্মচারী পেয়ে যাবে, যে ঐ নির্দিষ্ট টপিকের উপর মাস্টার।

# সময় বাচানো

আপনি হঠাৎ করে আপনার কোম্পানীর জন্য কর্মচারী পাবেন না। আপনাকে বিজ্ঞাপণ দিতে হবে, সেখানে লোকে আবেদন করবে।

পরিক্ষা নিবেন, তারপর একজন কর্মচারী পাবেন। অনেক লম্বা প্রসেস ও লম্বা সময়ের ও দরকার। একজন ফ্রিল্যান্সাকে হায়ার করলে এসব ঝমেলার কিছুই লাগবে না।

কিকি করতে হবে লিস্ট করে, প্রজেক্ট বা জব পাবলিস করুন বা সরাসরী কাউকে ওর্ডার করে দিন। আপনি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন; কখন আপনার কাজটি রেডি লাগবে।

# অনেক অপশন

আপনি যে কাজের জন্য লোক হায়ার করবেন, সে কাজের জন্য অনেক লোক পাওয়া যাবে।

তাই আপনার কাছে যথেষ্ট অপশন আছে লোক বেছে নেয়ার। এটি আপনাকে আরো ভালোভাবে কাজ করিয়ে নিতে সাহায্য করে।

# জায়গার অভাব

কাজ ফ্রিল্যান্সার দিয়ে করিয়ে নিলে, আপনার অফিসের কোনো এক্সট্রা জায়গা লাগবে না। আপনার টাকা বেচে গেল।

# অর্থ অপচয় রোধ

আউটসোর্সিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনার অর্থ অপচয় করার মতো কোনো অপশন থাকবে না। বিষয়টি একটু উদাহরন দিয়ে বলি।

ধরুন,কোনো একটি কোম্পানিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করে। কোম্পানিতে কর্মরত এই মানুষ গুলো কিন্তু মাসিক ভিওিক বেতনভুক্ত।

অর্থ্যাৎ, আপনার কোম্পানির লাভ হোক কিংবা লস হোক। সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়। বরং প্রতি মাসের শেষে তাদেরকে নির্দিষ্ট বেতন দিতেই হবে। 

কিন্তু যখন আপনি একজন ফ্রিল্যান্সারকে নিযুক্ত করবেন ৷ তখন আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তিভিওিক নিয়োগ দিতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি চাইলে ১ ঘন্টার চুক্তিও করতে পারবেন, আবার ১ দিনেরও চুক্তি করতে পারবেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এখানে আপনার সুবিধা কি?

এখানে আপনার সবচেয়ে বড় একটি সুবিধা রয়েছে। কারন এখানে আপনার কোনো কাজ করার জন্য ঠিক যেটুকু সময়ের প্রয়োজন। শুধুমাত্র সেই সময়টুকু কাজ করার জন্য কাউকে না কাউকে পেয়ে যাবেন।

অর্থ্যাৎ আপনার কাছে কাজ থাকুক আর না থাকুক। কাউকে বাধ্যতামূলক মাসভিওিক কিংবা বছরভিওিক রাখতে হবে না। এর ফলে আপনার বাড়তি অর্থ ব্যয়ের কোনো প্রকার আশংকা থাকবে না। 

ফ্রিল্যান্সিং করার সুবিধা

১. ফ্রিল্যান্সিং এর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে স্বাধীনতা রয়েছে। কাজের জন্য কোন দায়বদ্ধতা থাকে না ।

২. ঘরে বসে কাজ করা যায়। কোন অফিস এর প্রয়োজন হয় না। 

৩. কাজের কোনো লিমিট নেই। যত বেশি কাজ তত বেশি টাকা।

৪. মাসে একাধিক পেমেন্ট পাওয়া যায়। যেটা কোন অফলাইন চাকরি থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।

৫. একটি নরমাল জবের চাইতে অনেক বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়।

৬. কম সময় ব্যয় করে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হয়।

৭. কোন ধরনের ইনভেসমেন্ট করা লাগে না।

শেষকথা:

তাহলে আমরা জানলাম, অনলাইনে যারা কাজ করে দেয় তারা ফ্রিল্যান্সর; এবং যারা কাজ করিয়ে নেয় তারা হচ্ছে আউটসোর্সার।

অউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিং বাদেও অনলাইনে আয় করা যায়। যেমন: ব্লগিং, ইউটিউবার এরা কিন্তু ফ্রিল্যান্সর না। এরা অনলাইনে আয় করে এদের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বলে।

অনলাইনে আয় করার আরো পোস্ট:-

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-