গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করার উপায় [fully-updated]

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করা বা কিভাবে গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করব। Google Map এ ঠিকানা যুক্ত করার পদ্ধতি আলোচনা করা হবে।

346 VIEWS

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করার মাধ্যমে আপনি অনেক সুবিধা পেতে পারেন।

যদি আপনি কোনো দোকানের মালিক হন, তবে আপনার অবশ্যই গুগল ম্যাপে লোকশেন সেট করা উচিৎ। এতে অনেক কাস্টমার পেতে পারেন।

বর্তমানে অধিকাংশ ইন্টারনেট ইউজার Google Map ব্যবহার করে তাদের কাঙ্খিত সেবা খুজে থাকে। যেমন: হোটেল, বাড়ি, শপ, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল ইত্যাদি।

আপনার দোকানের location যদি Google Map এ সেট করা থাকে; তাহলে নতুন নতুন অনেক কাস্টমার পাবেন।

একবার চিন্তা করে দেখুন, মানুষ কখন Google Map এ সার্চ করে? যখন তাদের কোনো জিনিস কেনার দরকার হয়।

গুগল ম্যাপের মাধ্যমে লোক যদি আপনার দোকানে আসে, তাহলে অবশ্যই সে আপনার দোকান থেকে কিছু না কিছু কিনবে।

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে, কিন্তু কোনো টাকার দরকার হয় না। আপনি ফ্রিতে করতে পারেন; এবং কাস্টমার পেতে পারেন।

তাহলে চলুন দেখে নিই,

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে কি দরকার হয়?

গুগল ম্যাপে আপনার লোকেশন যোগ করার জন্য তেমন কিছুর দরকার পড়ে না। আপনি মোটামুটি ইংরেজি পড়তে জানলে সহজ হবে।

১. স্মার্টফোন: আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়েই গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে পারবেন। যদি মোবাইল না থাকে কম্পিউটার / ট্যাব দিয়েও করা যায়।

২. ইন্টারনেট কানেকশন: হ্যা, গুগল ম্যাপে আপনার দোকানের লোকেশনটি যুক্ত করতে হলে ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে।

৩. গুগল ম্যাপ: Google map টি আপনার মোবাইলে ইনস্টল করতে হবে। যেটি play store থেকে সহজে ডাউনলোড করা যায়।

৪. জি-মেইল একাউন্ট: আপনার কাছে একটি জিমেইল একাউন্ট থাকতে হবে। আপনারা যারা জিমেইল খুলতে পারেন না তাদের জন্য: জিমেইল একাউন্ট খোলার উপায়।

মোটামুটি এগুলো হলেই আপনি গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করতে পারবেন।

কিভাবে গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে হয়

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে হলে আপনাকে প্রথমে গুগল ম্যাপ ডাউনলোড দিতে হবে। অধিকাংশ সময় আপনার মোবাইলে ডাউনলোড করা থাকে।

Google play store এ গিয়ে সার্চ করুন, Google Map লিখে। যদি আপনার মোবাইলে গুগল ম্যাপ ইনস্টল থাকে তবে নিচের ছবির মতো আসবে।

গুগল ম্যাপে লোকেশন যোগ করা
গুগল ম্যাপ ইনস্টল করার পর

১. Open বাটনে ক্লিক করুন; তাহলে গুগল ম্যাপ আপনার মোবাইলে ওপেন হয়ে যাবে।

contribute

২. Google Map এ লোকেশন যোগ করার জন্য ”Contribute” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

Google Map এ লোকেশন যোগ করার জন্য Add place বাটনে ক্লিক করুন।

৩. ADD PLACE আইকনে ক্লিক করুন।

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট : নাম, ক্যাটাগরি, লোকেশন ফোননম্বর
নাম, ক্যাটাগরি, লোকেশন ফোননম্বর

৪.১. আপনার দোকানের নামটি দিন। বা আপনি যে জিনিস যোগ করতে চান, যেমন: দোকান, বাড়ি, রেস্টুরেন্ট ইত্যাদির নামটি “Add Name” সেকশনে দিন। [উপরের চিত্রের ১নং চিহ্নিত]

৪.২. এবার আপনার ক্যাটাগরি বসাতে হবে। আপনি যদি আপনার স্কুলের জন্য করেন তবে ক্যাটাগরি থেকে স্কুলের নামটি সিলেক্ট করুন।[উপরের চিত্রর ২নং চিহ্নিত বক্সে চাপ দিলে; নিচের ছবির মতো আসবে সেখান থেকে সিলেক্ট করবেন।]

আপনার জায়গাটার ক্যাটাগরি গুগল ম্যাপে সিলেক্ট করুন
ক্যাটাগরি যোগ

৪.৩. “Add Address” আপশনে ক্লিক করে আপনার এড্রেসটি বসাতে হবে। “Update Location on map” এ ক্লিক করে সরাসরি লোকেশন সেট করতে পারেন।

৪.৪. আপনার দোকন, প্রতিষ্ঠান বা স্কুলের মোবাইল নং, ওয়েবসাইট, খোলা-বন্ধ করার সময় যোগ করতে “Add Phone, website” অপশনে ক্লিক করুন [উপরের চিত্রর ৪নং দ্বার চিহ্নিত] . ক্লিক করার পর নিচের চিত্রের মতো আসবে।

গুগল ম্যাপে সকল তথ্য পূরণ করে সেন্ড বাটনে ক্লিক করুন।
সবকিছু পূরণ করে ➣ click করুন

৪.৫. (৪.৪) এর ক্লিক সম্পন্ন করলে উপরের চিত্রটির মতো আসবে সেখান থেকে সবকিছু ঠিক ঠাক তথ্য দিয়ে, উপরের ডান পাশে থাকা সেন্ড [➣] বাটনে ক্লিক করুন।

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করা হয়েছে
সবকিছু কমি্পলিট

৫. আপনি সফলভাবে গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করতে পারলে উপরের ম্যাসেজটি দেখায়।

আকর্ষনীয়ভাবে কিভাবে গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করব

গুগল ম্যাপে ঠিকানাকে বা আপনার দেকানকে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য কিছু ছবি যুক্ত করুন।

ছবিগুলো অবশ্যই কোয়ালিটি সম্পন্ন দিবেন। যেমন: রেজুলিউশন ভালো হবে, গোছালো ছবি, দোকান সুন্দরভাবে সাজানো আছে এমন ধরনের ছবি দিতে পারেন।

গুগল ম্যাপে অচেনা জায়গায় গিয়ে মানুষ খোজে আশে-পাশে দোকান কোথায়। তখন কিন্তু আপনার দোকানের ছবিটিই দোকানকে উপস্থাপন করে।

আপনি হয়তো এমন একটি ছবি দিলেন, যেখানে দেখা যায় আপনার দোকান নোংড়া; তাহলে গ্রাহক ছবিটি দেখে আপনার দোকানে নিশ্চই আসতে চাইবে না!

গুগল ম্যাপে ছবি কিভাবে যোগ করতে হয়?

উপরে বর্ণিত (৪.৫) নং পয়েন্টটি পড়ুন। সেখানে ছবিতে দেখতে পাবেন ”Add a photo” নামের একটি অপশন আছে; সেখান থেকে মূলত আপনার দোকানের ছবি আপলোড করতে হবে।

গুগল ম্যাপে সবসময় সঠিক তথ্য দিবেন। যেমন আপনার দোকান কখন খোলা থাকে, নম্বর ইত্যাদি।

আপনার দোকানের কোনো ওয়েবসাইট থাকলে সেটি যোগ করুন। আর যদি না থাকে তারা কিভাবে ফ্রি ওয়েবাসাইট তৈরি করবেন আর্টিকেলটি পড়ুন, এবং নিজের দোকানের জন্য একটি সাইট বানান।

বর্তমান সবকিছু প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে; সবাই ইন্টারনেট সার্চ করে প্রডাক্ট খোজা পছন্দ করে। একটি ওয়েবসাইট থাকলে মানুষের মনে আপনার দোকান সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করবে।

এখন চলুন জানি,

গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করার উপকারিতা

গুগল ম্যাপে লোকেশন সেট করার অনেকগুলো উপকারিতা আছে। যদিও আগেই বলেছি; তারপরও পয়েন্ট আকারে বলছি।

১. মানুষ দ্রুত আপনার দোকান বা ব্যবসাটি খুজে পাবে।

২. কেউ ব্যবসা সংক্রন্ত্র তথ্য জানতে চাইলে, আপনাকে ও আপনার কন্টাক্ট নম্বর দ্রুত খুজে পাবে।

৩. আপনার দোকানের কিছু সুন্দর ছবি, গ্রাহকের সামনে তুলে ধরবে। এতে আপনার দোকানে আসার সম্ভাবণা বাড়বে।

৪. গুগল ম্যাপে রিভিউ দেয়ার অপশন আছে। আপনার দোকান সম্পর্কে মানুষ ভালোকিছু লিখতে পারে। যাতে পরবর্তী কাস্টমার পেতে সাহায্য করবে।

এককথায় গুগল ম্যাপের ব্যবহার আপনার ব্যবসাকে আরো ইউনিক করে তুলবে।

কিভাবে গুগল ম্যাপে লোকেশন সার্চ করব?

গুগল ম্যাপ এর ব্যবহার করবার জন্য যদি আপনি কোন নতুন গন্তব্যে পৌঁছাতে চান তাহলে আপনি গুগল ম্যাপ এর সাহায্য নিয়ে লোকেশন সেট করে সেই জায়গায় খুব সহজেই পৌছাতে পারেন।

এইজন্য আপনাকে মোবাইলের মধ্যে গুগল ম্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটি খুলে নিয়ে Search Here অপশন এর ওপর ক্লিক করে আপনি যেখানে যেতে চান সেই ঠিকানাটা দিন।

তারপর Direction অপশনে ক্লিক করুন।

এবার আপনার সামনে এরকম একটি পেজ আসবে, যেখানে একদম উপরে আপনি কোথা থেকে যেতে চাইছেন এবং কোথায় যাবেন সেটি ঠিকভাবে দেওয়া হয়ে গেলে, একদম নিচের Start অপশনটি প্রেস করুন।

তারপর আপনি ওই জায়গায় পৌঁছাতে কত সময় লাগবে এবং ওই জায়গাটি কতটা দূরত্বের পথ ওই সব কিছু দেখতে পাবেন।

এবং আপনার স্টার্টিং পয়েন্ট থেকে গন্তব্য স্থল পর্যন্ত একটি নীল রেখা দেখানো হবে। আপনি গন্তব্য স্থলে যাওয়া শুরু করলে, একটি তীর চিহ্ন ওই নীল রেখাটা ধরে আপনার সাথে এগিয়ে যাবে

গন্তব্যস্থলে ঠিকানায় ওই তির চিহ্নটি গিয়ে থেমে যাবে এবং আপনিও বুঝতে পারবেন যে আপনি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেছেন।

আপনি এভাবে গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে যেমন আপনার ব্যবসার প্রসার করতে পারেন; তেমনি অচেনা জায়গায় গিয়ে দরকারি লোকেশন খুজতে পারেন।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-