Google drive কি? গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করব।

গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে আপনার দৈনন্দিন অনেক কাজকে সহজ করতে পারেন। গুগল ড্রাইভ কি? Google Drive এ ফাইল Upload & Share করার উপায়।

1032 VIEWS

Google drive কি? গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করব।

গুগল বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা প্রতিবছর নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসে; কিছু সেবা মার্কেট পায় তো কিছু হারিয়ে যায়।

তাদের সাক্সেসফুল প্রজেক্টের মধ্যে গুগল ড্রাইভ অন্যতম।

এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে; কিভাবে গুগল ড্রাইভে ফাইল আপলোড ও বন্ধদের সাথে শেয়ার করতে হয় (কম্পিউটার ও মোবাইলে দুটোর আলোচনা হবে)।

গুগল ড্রাইভ একটি ফাইল স্টোরেজ সার্ভিস। আপনার সকল ফাইল লোকাল কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে ক্লাউড স্টোরেজে সেইভ করতে পারেন।

গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে গুগল আপনাকে তাদের ক্লাউড স্টোরেজে ফাইল সংরক্ষণ করার অনুমতি দেয়।

ক্লাউড স্টোরেজ / মেমরি কি?

আমরা মোবাইল বা কম্পিউটারে, ফাইল সংরক্ষণের জন্য মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে থাকি। যে মেমরী কার্ডের মাধ্যমে আমরা আমাদের গান ভিডিও ডকুমেন্টস ছবি এগুলি স্টোর করতে পারি।

কিন্তু বর্তমান যুগে অনলাইনের মাধ্যমে, ইন্টারনেটের সাহায্যে মোবাইলের সমস্ত ফাইলগুলো অনলাইন সার্ভারে জমা রাখা যায়। এই ধরনের স্টোরেজ কে বলা হয় ক্লাউড স্টোরেজ।

ক্লাউড স্টোরেজ হলো অনলাইন স্টোরেজ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিসে অ্যাকাউন্ট বানিয়ে, সেই স্টোরেজের মধ্যে ফাইল এবং বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্টস আপলোড করা যায়।

এবং যে কোন ডিভাইস থেকে নির্দিষ্ট একাউন্ট এর সাহায্যে লগইন করে ওই ফাইলগুলোকে অ্যাক্সেস করা যায়। যেহেতু ডিভাইসের ফাইল এবং ডকুমেন্টস গুলি, নির্দিষ্ট কোম্পানির ক্লাউড সার্ভারে জমা হয় তাই এটিকে ক্লাউড স্টোরেজ বলা হয়ে থাকে।

ক্লাউড স্টোরেজ / মেমরিতে ফাইল রাখার সুবিধ?

  • পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে স্টোরেজের একাউন্ট ব্যবহার করে; আপনার ফাইল ব্যবহার করতে পারবেন।
  • কম্পিউটার / মোবাইল নষ্ট হলেও ফাইল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবণা নেই।
  • সহজে শেয়ার করতে পারবেন।

Google drive কি?

গুগল ড্রাইভ হচ্ছে গুগলের ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস বা বলতে পারেন তার চেয়ে বেশি কিছু।

গুগল ড্রাইভ আপনাকে আপনার ফাইল গুগলের সার্ভারে আপলোড করার সুবিধা দেয়। গুগলে আপনার সকল প্রকার ফাইল সংরক্ষন করার সুবিধা দান করে।

বর্তমানে যতগুলো কোম্পানী ক্লাউড স্টোরেজের সুবিধা দেয়, তার মধ্যে গুগল ড্রাইভ অন্যতম। আপনার একটি জিমেইল বা ড্রাইভ একাউন্টে ফ্রিতে ১৫জিবি তথ্য রাখার সুবিধা দান করে।

গুগল ড্রাইভের আরো কিছু সুবিধা, ড্রাইভকে ইউনিক করেছে। যেমন: গুগল শিট (Google Sheets), গুগল ডক্স (Google Docs), গুগল স্লাইড (Google Slides) ইত্যাদি।

# গুগল শিট (Google Sheets)

আপনাকে এখন থেকে এক্সেলে কাজ করার জন্য কম্পিউটারে মাইক্রোসফট অফিস ইনস্টল করার দরকার নেই। গুগল ড্রাইভের গুগল শিট থেকে অনলাইনে, কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল ছাড়াই করতে পারেন।

# গুগল ডক্স (Google Docs)

ওয়ার্ড ফাইল নিয়ে কাজ করার জন্য কোনো সফটওয়্যার ছাড়াই করতে গুগল ডক্সের ব্যবহার করতে পারেন।

# গুগল স্লাইড (Google Slides)

স্লাইডশেয়ার নিয়ে কাজ করার জন্য গুগল স্লাইডের ব্যবহার করতে পারেন।

গুগল ড্রাইভ কিভাবে ব্যবহার করব?

গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করা খুবই সহজ। মোবাইল থেকে ব্যবহার করতে গুগল ড্রাইভ এপস ব্যবহার করুন। ডেক্সটপ বা কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করতে ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।

জি-মেইল একাউন্ট ছাড়া গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করা যায় না। তাই আগে জি-মেইল একাউন্ট খুলুন আর যদি G-mail একাউন্ট থাকে শুরু করে দিন।

# ল্যাপটপ থেকে গুগল ড্রাইভের ব্যবহার

১. গুগল ড্রাইভে চলে যান এখানে ক্লিক করে। নিচের ছবির মতো পেজ পাবেন।

 ল্যাপটপ থেকে গুগল ড্রাইভের ব্যবহার
drive.google.com

২. যদি ব্রাউজারে কোনো একাউন্ট দিয়ে লগিন করা না থাকে, তবে লগিন অপশন আসবে। ( নিচের ছবিকে দেখুন )

জিমেইল আইডি বসান >> Next
জিমেইল আইডি বসান >> Next
গুগল ড্রাইভ: type password >> Next
type password >> Next

৩. জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়ার পর গুগল ড্রাইভ খুলে যাবে (নিচের ছবির মতো)। কোনো ফাইল আপলোড করার জন্য New বাটনে ক্লিক করুন।

নোটঃ জিমেইল আইডি দিয়ে লগিন করা থাকলে ব্রাউজার অটোমেটিক নিচের ছবির মতো ইন্টারফেস নিয়ে আসবে। উপরের স্টেপগুলো আসবে না।

গুগল ড্রাইভে: ফাইল আপলোড করুন
গুগল ড্রাইভে: ফাইল আপলোড করুন

৪. উপরের স্টেপ ফলো করলে নিচের ছবির মতো একটি বক্স আসবে।

গুগল ড্রাইভ: আপলোড করার বক্স
গুগল ড্রাইভ: আপলোড করার বক্স

উপরের ছবির কোন অপশনের কি কাজ এক নজরে।

  • Folder: নতুন কোনো ফোল্ডার তৈরিতে ব্যবহার হয়।
  • File upload: কোনো ফাইল আপলোড করতে ব্যবহার হয়।
  • Folder upload: ফোল্ডার ধরে আপলোড করা যায়।
  • Google Docs: ডকুমেন্ট বা ওয়ার্ড ফাইল তৈরি করা হয়।
  • Sheets: এক্সেল ফাইল তৈরি করা হয়।
  • Slides: প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।
  • Forms: ডাটা কালেক্ট করার ফর্ম তৈরিতে ব্যবহার হয়।

গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে আপনার মোবাইলের সেইভ করা সকল নম্বরের ব্যকআপ রাখতে পারেন। আপনার গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো সংরক্ষণে ব্যবহার করা যায়।

গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে ফাইল শেয়ার করার উপায়?

Google drive ( গুগল ড্রাইভের ) ব্যবহার করে যেমন ফাইল সংরক্ষণ করা যায়, তেমনি ফাইলগুলো আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করতে পারেন।

গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে ফাইল শেয়ার করার কিছু টিপস আছে। আপনার ফাইলের সাথে কি কি করা যাবে; আপনি পারমিশন দিয়ে দিতে পারেন।

১. সতর্কতা: সরাসরী ব্রাউজার থেকে লিংক কপি করলে কাজ হবে না (নিচের ছবির মতো)। কেন হবে না? করণ আপনি ফাইলের এক্সেস / পারমিশন দেননি।

গুগল ড্রাইভ: এভাবে লিংক শেয়ার করলে ফাইল শেয়ার হবে না / লিংকটি invalid দেখাবে
এভাবে লিংক শেয়ার করলে ফাইল শেয়ার হবে না / লিংকটি invalid দেখাবে

২. লিংক শেয়ার করার জন্য ফাইলটি ওপেন করুন। Share বাটনে ক্লিক করুন।

গুগল ড্রােইভ: Share বাটনে ক্লিক করুন
Share বাটনে ক্লিক করুন

৩. নিচের বক্সের মতো পপআপ বক্স আসবে। এখান থেকে Change to anyone with the link বাটনে ক্লিক করুন।

গুগল ড্রাইভ: Change to anyone with the link
Change to anyone with the link

৪. নিচের ছবির মতো ইন্টারফেস আসলে; ১নং দ্বারা দেখানো Viewer বাটনে ক্লিক করে পারমিশন দিন। আপনি যার কাছে লিংকটি দিবেন, সে লিংকটি নিয়ে কি করতে পারবে; তার পারমিশন দিতে হবে।

গুগল ড্রাইভ: ফাইলের পারমিশন দিন
ফাইলের পারমিশন দিন
  • Viewer: লিংকটি ব্যবহার করে শুরুমাত্র ফাইলটি দেখা যাবে।
  • Commenter: এই অপশনে টিক দিলে ব্যবহারকারী ফাইল দেখার পাশাপশি কমেন্ট করতে পারবে।
  • Editor: এই আপশন সিলেক্ট করলে ব্যবহারকারী ফাইলটি কমেন্ট ও ইডিট করতে পারবে। গ্রুপওয়ার্কের সময় একই ফাইলে অনেকজন কাজ করলে এই আপশন ব্যবহার করা হয়।

৫. পারমিশন আপশন সিলেক্ট করলে নিচের ছবির মতো পপআপ আসবে। Copy link এ ক্লিক করে লিংকটি কপি করে নিন ও Done বাটনে ক্লিক করুন।

গুগল ড্রাইভ: পারমিশন আপশন সিলেক্ট
Copy link >> Done

আর কোনোকিছু করার দরকার নাই, যার / যাদের সাথে ফাইলটি শেয়ার করতে চান সেখানে গিয়ে Ctrl+V চাপ দিন। আপনি চাইলে কোনো নোটেও ‍লিংকটি সেইভ করতে পারেন।

#গুগল ড্রাইভ: মোবাইল ব্যবহার করে

মোবাইল ব্যবহার করে গুগল ড্রাইভে ফাইল আপলোড করা একটু ট্রিকি বটে। মোবাইল থেকে গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই প্লে-স্টোর থেকে google drive এপসটা ডাউনলোড করতে হবে।

গুগল ড্রাইভ: গুগল ড্রাইভ এপস
Google Drive app installation

যেহেতু প্লে-স্টোর থেকে এপস ডাউনলোড করতে জি-মেইল দ্বারা লগিন করা লাগে; তাই গুগল ড্রাইভে গেলে লগিন অটোমেটিক হয়ে যায়।

অটোমেটিক লগিন না হলে লগিন করে নিবেন। ল্যাপটপ / কম্পিউটারের মতো এখানে একই পদ্ধতি।

১. ফাইল আপলোড করার জন্য প্লাস চিহ্নের(+) উপর ক্লিক করুন।

গুগল ড্রাইভ: ফাইল আপলোড বাটনে ক্লিক
ফাইল আপলোড বাটন

২. নিচের মতো পপআপ উইন্ডো ওপেন হলে আপলোডার সাইনে ক্লিক করে ফাইল আপলোড করুন।

গুগল ড্রাইভ: আপলোডার বাটনে ক্লিক করুন
আপলোডার বাটনে ক্লিক করুন

৩. নিচের মতো উইন্ডো আসলে যে ফোল্ডারের ভিতর ছবি আছে সেটি সিলেক্ট করুন।

গুগল ড্রাইভ: ফোল্ডার সিলেক্ট করা
ফোল্ডার সিলেক্ট করুন

৪. যে ফাইলটি আপলোড করবেন সেটি সিলেক্ট করে দিন (নিচের ছবির মতো)।

গুগল ড্রাইভ: সিলেক্ট আপলোডিং ফাইল
সিলেক্ট ফাইল >> Open

আপনার ফাইল আপলোড করা শেষ। এবার দেখবেন:

কিভাবে মোবাইল ব্যবহার করে গুগল ড্রাইভের ফাইল শেয়ার করতে হয়।

গুগল ড্রাইভ থেকে কোনো ফাইল কাউকে শেয়ার করতে হলে, মোবাইলে নিচের স্টেপগুলো ফলো করুন।

১. যে ফাইলটি শেয়ার করতে চান; সেটি ওপেন করুন। ফাইলের উপর ক্লিক করলে ওপেন হবে।

গুগল ড্রাইভ: ফাইল ওপেন করা
ওপেন ফাইল

২. ফাইল ওপেন হলে নিচের ছবির মতো আসবে। বক্স দ্বারা চিহ্নিত থ্রি ডটের উপর ক্লিক করুন।

গুগল ড্রাইভ: লিংক শেয়ারিং অপশনে যাওয়া
Three ⚟ Dot

৩. নিচের ছবির মতো পপআপ আসলে Link sharing off আপশনের উপর ক্লিক করুন।

গুগল ড্রাইভ: লিংক শেয়ারিং অন করা
>> Link sharing off

৪. নিচের ছবির মতো অপশন আসলে (Link sharing turned on and link copied), আপনি সঠিকভাবে লিংক শেয়ার অন করতে পেরেছেন।

গুগল ড্রাইভ: Link sharing turned on and link copied
Link sharing turned on and link copied

আপনি আপনার ফাইলটির লিংক শেয়ার করার উপযুক্ত। এখন আপনার কাজ যেকোনো জায়গায় লিংকটি পেস্ট করা। সেটা ম্যাসেঞ্জার, টুইটার বা টেলিগ্রাম যে কোনো যায়গায় পেস্ট করতে পারেন।

লিংকটি আপনার বন্ধুর কাছে পাঠান; সে এটি ব্যবহার করে আপনার ফাইলটি পেয়ে যাবে।

গুগল ড্রাইভের আরো অনেক ব্যবহার আছে; যা আপনার প্রতিদিনের কাজকে সহজ করে দিবে। একটি ছোটো আর্টিকেলে সবগুলো বিষয় তুলে ধরা সম্ভব নয়।

গুগল ড্রাইভে কত জিবি পর্যন্ত ফাইল আপলোড করা যায়?

গুগল ড্রাইভে ফ্রিতে ১৫ জিবি পর্যন্ত আপলোড করা যায়। তবে প্রিমিয়াম ভার্সনে 2tb পর্যন্ত ফাইল আপলোড করা যায়। যার জন্য আপনাকে প্রতিবছর ৮১০০টাকা দিতে হবে।

Google drive কি হ্যাক হতে পারে?

ড্রাইভ হ্যাক হয় না; তবে আপনার জি-মেইল একাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে; হ্যাকাররা আপনার জি-মেইল ব্যবহার করে গুগল ড্রাইভ এক্সেস করতে পারবে।

শেয়ার করতে ভুলবেন না 😀

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-

  1. Nice Great post. Wonderful information and really very much useful. Thanks for sharing and keep updating Thank You so much for sharing this information. I found it very helpful.Thank you so much again.