কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়। Keyword Research bangla

কিওয়ার্ড রিসার্চ কি? কেন আমাদের কিওয়ার্ড রিসার্চ করা উচিৎ? Keyword Research bangla এর আসল ফান্ডা উন্মোচন করার জন্যই আজকের এই আর্টিকেল।

553 VIEWS

কিওয়ার্ড রিসার্চ

কিভাবে Keyword Research করতে হয়; জানতে আগে জানা দরকার কিওয়ার্ড কি? কেন কিওয়ার্ড রিসার্চ গুরুত্বপূর্ণ।

কিওয়ার্ড রিসার্চ বিভিন্ন কারণে করা হয়; আমি মূলত এখানে ব্লগের জন্য কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয় সেটি নিয়ে কথা বলব।

ব্লগিংয়ের অনপেজ এসইওর সফলতার ৯০% নির্ভর করে সঠিক কিওয়ার্ড বাছাইয়ের উপর। তাই যদি আপনার সাইট খুব ভালো এসইও অপটিমাইজ করতে চান; তাহলে কিওয়ার্ডের উপর বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

Keyword কি?

সার্চ ইঞ্জিনে কোন কিছু জানতে বা দেখতে চেয়ে আমরা যে শব্দ বা বাক্য লিখে সার্চ করি সেই শব্দ বা বাক্যই হচ্ছে এক একটি কিওয়ার্ড (keyword)।

কিওয়ার্ড কি বোঝা আসলে তেমন কঠিন কিছু নয়। কিওয়ার্ড মূলত এমন একটি শব্দ যেটা ব্যবহার করে ইন্টারনেট ইউজাররা সার্চ করে।

যেমন: গুগলে কেউ সার্চ করল “টাকা আয় করার উপায়”; এখন এইটাই কিন্তু একটি কিওয়ার্ড হয়ে গেল।

তাহলে আমরা বুঝলাম, যে শব্দটি ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা সার্চ করে থাকে, তাবে কিওয়ার্ড বলে।ৎ

কিওয়ার্ড রিসার্চ করা কেন দরকার?

Keyword হল সেই শব্দ যেটি ব্যবহার কর internet User -রা কোনোকিছু খুজে থাকে।

এই কিওয়ার্ডটাকে ফোকাস করে যদি আপনার কন্টেন্ট তৈরি করেন তবেই সার্চইঞ্জিন আপনার কন্টেন্টকে ভিজিটরের নিকট দেখাবে।

দেখুন সার্চইঞ্জিন কোনো মানুষ নয়, হ্যা যদিও বর্তমানের সার্চইঞ্জিনগুলো আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে; তারপরও মানুষের মতো বোঝার ক্ষমতা নেই।

তাহলে সার্চইঞ্জিনে কোনোকিছু লিখে সার্চ করলে, আমরা যা চাই তেমন কন্টেন্ট কিভাবে আসে? সার্চইঞ্জিনগুলো কন্টেন্ট পড়তে পারে ও কিওয়ার্ড মানে আর্টিকেলটি কোন প্রশ্নের উত্তর সেটা বোঝে কিওয়ার্ড প্যার্টান ব্যবহার করে।

তাহলে ইন্টারনেট ইউজাররা যে কিওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্চ করছে; তেমন কিওয়ার্ডের জন্য কন্টেন্ট লিখলে ভালো ভিজিটর পেতে পারেন।

ব্লগিংকে যদি ব্যবসার দিক দিয়ে বিচার করেন, কাস্টমার কি চাই সেটা বোঝা অনেক জরুরী। আপনি কি চান সেটা কোনো বিষয় না, কাস্টমার বা ভিজিটর কি চাই সেটাই সবচেয়ে বড় কথা।

তাহলে কাস্টমারের / ভিজিটররা প্রতিনিয়ত আপনার নিসের কোন কোন টপিকগুলো খোজে সেটা জানতে হবে। আপনি অনুমানের উপর ভিত্তি করে জানতে পারবেন না।

তাহলে আপনাকে কি করতে হবে? মার্কেট রিসার্স যেটাকে কিওয়ার্ড রিসার্চ বলে থাকি। ইন্টারনেটে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার অনেক ফ্রি ও প্রিমিয়াম টুলস আসে।

আপনি এগুলো ব্যবহার করে খুব সহজে আপনার অডিয়েন্সের জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পদ্ধতি

প্রতিটি কাজের একটি নিয়ম থাকে, তেমনি কিওয়ার্ড রিসার্চ / বাছাই করার কিছু নিয়ম আছে।

প্রথমত আপনাকে অডিয়েন্স ও নিস টার্গেট করতে হবে। অনেকে মনে করেন, সকল ইন্টরনেট ব্যবহারকারীরা আমার অডিয়েন্স ও তারা সকলের জন্য লেখে।

সবচেয়ে বড় ভুল এটাই, চেষ্টা করুন অডিয়েন্স টার্গেট করার। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাক অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করলে আপনার সফলতার হার বৃদ্ধি পাবে।

অডিয়েন্স টার্গেট করা হয়ে গেলে, কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে নামুন। আপনার অধিকাংশ অডিয়েন্স কোন কিওয়ার্ডটা সবচেয়ে বেশি সার্চ করে থাকে সেটা খোজার চেষ্টা করুন।

সবসময় লো কম্পিটিশন ও হাই সার্চ ভলিয়মের কিওয়ার্ডকে টার্গেট করুন

সবসময় মনে রাখবেন, কম্পিটিশন বেশি হলে গুগলে র‌্যাংক করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। নতুনদের জন্যতো র‌্যাংক করা স্বপ্নের ব্যাপার।

আবার এমন কিওয়ার্ড বাছাই করবেন না, যেটার কম্পিটিশন তো কম, কিন্তু সাথে সাথে সার্চভলিউম অনেক কম। যেমন: মাসে ৩০। এরকম কিওয়ার্ডের উপর কন্টেন্ট লিখলে হয়তো র‌্যাংক পাবেন, কিন্তু সার্চ কম হওয়ায় ভিজিটর পাবেন না।

তাহলে সবসময় এমন কিছু কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করবেন, যেগুলো ইউজাররা মোটামুটি সার্চ করে ও কম্পিটিশন কম। তাহলে গুগলে দ্রুত র‌্যাংক ও ভিজিটর উভয়ই পাবেন।

তাহলে আমরা বুঝলাম কোন Keyword কে টার্গেট করা উচিৎ। কিভাবে আমরা কিওয়ার্ডের ভলিউম ও কম্পিটিশন জানতে পারি?

গুগলের related searches

গুগলের রিলেটেড সার্চ দেখে আমরা কিওয়ার্ড সম্পর্কে একটি আইডিয়া পেতে পারি। যে কোন কিওয়ার্ডগুলো বর্তমানে সার্চ করা হচ্ছে।

কিওয়ার্ড রিসার্চ: গুগল রিলেটেড সার্চ
Related searches

এখান থেকে আপনি কিওয়ার্ডের আইডিয়া পাবেন। কিন্তু কোনটার সার্চ কেমন হচ্ছে তা জানতে পারবেন না। তাই শব্দগুলো নোটপ্যাডে নোট করে নিন।

Google Keyword Planner

কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য গুগল কিওয়ার্ড প্লানার ব্যবহার করতে পারেন। উপরের রিলেটেড সার্চ রেজাল্ট থেকে নোটকৃত কিওয়ার্ডগুলো কিওয়ার্ড প্লানারে সার্চ করতে পারেন।

কিওয়ার্ড রিসার্চ: গুগল কিওয়ার্ড প্লানার
কিওয়ার্ড প্লানার

এতে আপনি গুগল থেকেই কিওয়ার্ড আইডিয়া ও সার্চভলিউম সম্পর্কে জানতে পারবেন। শুধু তাই নয়, নতুন কিছু কিওয়ার্ডের আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

যেহেতু আমরা গুগলে থেকে ট্রাফিক নিব তাই গুগলের ডাটা সবচেয়ে একুরেট/ নির্ভুল হবে, আশা করা যায়।

গুগল ট্রেন্ডস

কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য গুগল ট্রেন্ডস অনেক ভালো টুল। আপনি গুগল ট্রেন্ডিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারবেন; বর্তমান সময়ে আপনার সিলেক্ট করা টপিক কেমন জনপ্রিয়।

Google Trends আপনার সার্চ করা কিওয়ার্ড মানুষ ইন্টারনেটে কতবার সার্চ করছে তা জানতে সাহায্য করে। যেটা গ্রাফের মাধ্যমে আপনার নিকট উপস্থাপন করা হয়।

কিওয়ার্ড রিসার্চ: গুগল ট্রেন্ডস
গুগল ট্রেন্ডস

কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য Uber suggest

Ubersuggest একটি ফ্রি ও প্রিমিয়াম টুল। যেটা আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

Keyword Research: উবার সাজেস্ট
উবার সাজেস্ট

কিওয়ার্ড রিসার্চের আপনার টপিকের কিওয়ার্ড ও টার্গেটেড দেশ সিলেক্ট করতে হবে। এরপর সার্চ বাটনে ক্লিক করলে; সকল তথ্য আপনার সামনে আসবে।

আপনি যদি এটির প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যবহার করেন তবে অনেক সুবিধা আছে। তবে টাকা ইনভেস্ট না করতে চাইলে ফ্রি ভার্সনে কাজ চালাতে পারেন।

Keyword Research bangla এর আসল ফান্ডা

কিওয়ার্ড রিসার্চ শেখার জন্য টুল সম্পর্কে বেশি জ্ঞান না থাকলেও চলে। অনলাইনে এগুলো বাদেও অনেক টুল আছে; যেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

কিওয়ার্ড রিসাার্চের স্ট্রাটেজি গুলো ভালোভাবে বুঝতে হবে। তবেই আপনি সঠিক কিওয়ার্ডটি খুজতে পারবেন। এসইওর সফলতার ৮০% নির্ভর করে কিওয়ার্ড রিসার্চের উপর।

একটি কিওয়ার্ড নেয়ার আগে তিনটি বিষয় বিবেচনা করুন:

  1. সার্চ ভলিউম/ মাসিক কতবার সার্চ হয়
  2. ডিফিকাল্টি / কিওয়ার্ডের উপর কম্পিটিশন কেমন।
  3. বিজনেস ফিট

সবসময় লং টেইল কিওয়ার্ড

কিওয়ার্ড বাছাই করার ক্ষেত্রে লং টেইল কিওয়ার্ডকে প্রাধান্য দেয়া। নতুন সাইটগুলো র‌্যাংক করতে প্রচুর সময় নেয়; তার উপর যদি কম্পিটিশন বেশি থাকে ২% সম্ভাবণা থাকে র‌্যাংক করার‌।

কিন্তু সাধারণত লং টেইল কিওয়ার্ডে কম্পিটিশন অনেক কম থাকে; তাই লং টেইল কিওয়ার্ড বেছে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

তবে লং-টেইল কিওয়ার্ডটির মাসিক সার্চ ভলিউম পরীক্ষা করে নিবেন। মাসে ৮০০ উপর সার্চ হলে আর্টিকেল লিখুন। এর নিচে হলে, একটু চিন্তা করতে পারেন।

কম্পিটিটর রিসার্চ

আপনি যে কিওয়ার্ডের উপর কন্টেন্ট র‌্যাংক করাতে চাচ্ছেন; সেই কিওয়ার্ডটি গুগলে সার্চ করুন। দেখুন কোন কোন সাইটগুলো র‌্যাংক #১-#৫ এ আছে।

সেগুলোর কন্টেন্ট পড়ুন, বোঝার চেষ্টা করুন এই কন্টেন্টগুলোর ভিতর কি দূর্বলতা আছে। আপনি কি এর চেয়ে ভালো কন্টেন্ট বানাতে পারবেন।

আপনার কম্পিটিটর ওয়েবসাইটের ডোমেইন ভ্যালু কেমন, তাদের ভিজিটর মাসিক কত ইত্যাদি বিবেচনা করে কন্টেন্ট লিখুন।

যদি উইকিপিডিয়া বা High Authority সাইটে আপনার কিওয়ার্ডে কন্টেন্ট থাকে; তাহলে সেই কিওয়ার্ডে আর্টিকেল না লেখা ভালো।

বিজনেস ফিটনেস

কিওয়ার্ডটি বিজনেসের জন্য কতটা Helpful হবে তা জানার চেষ্টা করুন। যেমন: গুগল এডসেন্সের জন্য কাজ করলে সিপিসি কত সেটা জানুন।

আবার অ্যাফিলিয়েটের জন্য কিওয়ার্ড বাছাই করতে হলে; দেখুন সেটা দিয়ে আসলে ভালোমানের কনভার্সন পাওয়া যাবে কি না।

Conclusions

ব্লগিংয়ে সফলতার ৯৮% নির্ভর করে আপনার এসইও স্ট্রাটেজির উপর। ব্লগের অধিকাংশ ভিজিটর গুগলের মাধ্যমে আসে।

গুগল যদি আপনার সাইট র‌্যাংক করায়, তবেই প্রচুর ভিজিটর পাবেন। আর ভিজিটর মানেই টাকা এটা তো আমরা সবাই জানি।

গুগল তো এমনিতে আমাদের সাইট র‌্যাংক করাবে না। তার জন্য আমাদের কিছু কাজ করতে হবে, তার মধ্যে অন্যতম এসইও।

সঠিক কিওয়ার্ড বাছাই না করতে পারলে, আপনি যত কষ্টই করেন না কেন, আপনার সাইট র‌্যাংক করবে না।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-