এপস তৈরি করে ইনকাম করার ৭টি উপায়।

এপস তৈরি করে ইনকাম করার অনেক উপায় আছে। এপস বলতে আমি এখানে মোবাইল এপস থেকে টাকা আয়ের উপায়গুলো বলব। App market research, Marketing, make app

455 VIEWS

এপস তৈরি করে ইনকাম করার ৭টি উপায়

এপস তৈরি করে ইনকাম করার অনেক উপায় আছে। এপস বলতে আমি এখানে মোবাইল এপস থেকে টাকা আয়ের উপায়গুলো বলব।

বর্তমানে সবকিছু ডিজিটাল হচ্ছে, সাথে বাড়ছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় করার উপায় খুজছে অনেকেই।

ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করার অনেক উপায় আছে; তাদের মধ্যে অন্যতম এপস তৈরি করে ইনকাম করা অন্যতম।

আপনি এপস ডেভলপার হন বা একজন সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দু-জনের জন্যই আর্টিকেলটা কাজের হবে। কারণ আমি মোবাইল এপস তৈরি করে ইনকাম করার এমন কিছু টিপস শেয়ার করব, যাতে সাধারণ মানুষও আয় করতে পারে।

তো চলুন জেনে নেই, এপস তৈরি করার প্রক্রিয়া এবং এই এপস থেকে আয় করার উপায়সমূহ।

তার আগে ধারণা দিয়ে রাখি, একটি এপস থেকে আপনি কত টাকা আয় করাতে পারবেন।

আপনার এপসের ইউজার ২০,০০০ জন, এবং আপনি User প্রতি ২০ টাকা আয় হয় প্রতি মাসে; তাহলে আপনার আয় হবে ২০,০০০ x ২০ = ৪০০,০০০/= টাকা।

অনেকে এর থেকে অনেক বেশি আয় করে থাকে; কারণ অনেক একজনের কাছে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ২০ টাকা আয় করা বর্তমানে তেমন কঠিন কিছু নয়।

আপনি যে শুধু একটি উপায়ে আয় করবেন তাই নয়; একই সাথে একটি এপে অনেকভাবেই আয় করা যায়; যেগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

কিভাবে এপস তৈরি করতে হয়?

আপনি যদি একজন Apps developer হন তাহলে এই সেকশনটি না পড়লেও চলে। যারা এপস সম্পর্কে কিছুই জানে না, তাদের জন্য এ সেকশনটি।

বর্তমান সময়ে একটি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা তেমন কঠিন কিছু নয়। আপনি যদি মোটামুটি কম্পিউটার বোঝেন তাহলে নিজেই এপস বানাতে পারবেন।

Google এ সার্চ করুন, free app builder platforms / websites লিখে; দেখবেন প্রচুর ওয়েবসাইট পাবেন। এই এপস বিল্ডারগুলো ব্যবহার করে কোডিং ছাড়াই এপস তৈরি করা যায়।

প্রথমে সিলেক্ট করুন কোন এপস বিল্ডার দিয়ে এপস বানাবেন। আপনি শুধু ৭দিন সময় নিয়ে, ইউটিউবে থাকা অ্যাপস বিল্ডারটির টিউটোরিয়াল দেখুন; তারপর এপস বানানো শুরু করুন।

আপনাদের সুবিধার্থে, কিছু ফ্রি অ্যাপস বিল্ডারের লিস্ট দিলাম। আপনি এইগুলো থেকে একটিকে বেছে নিন। কিছুদিন প্রশিক্ষন নিন; এবং এপস বানিয়ে নিন।

  1. Appypie.com
  2. Mobiroller.com
  3. Gamesalad.com
  4. Appsgeyser.com
  5. Thunkable.com

আপনাদের ডিমটিভেড করার জন্য দুঃখিত, তবে সত্য কথা বলতে, এভাবে এপস তৈরি করে ইনকাম করা অনেক কঠিন। কারণ এভাবে এপস তৈরি করলে, অনেক সমস্যা থেকে যায়।

যেমন: এপসটি ওপেন হতে অধিক সময় নেয়া, হঠাৎ হঠাৎ এপসটি ক্রাস করা, বিভিন্ন ফাংশন ঠিক ঠাক কাজ না করা ইত্যাদি।

আপনার কাছে যদি কোনো টাকাই না থাকে, তাহলে ফ্রি পদ্ধতিটি চেষ্টা করতে পারেন।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সর মার্কেটপ্লেসে অনেক কম টাকায় অ্যাপস বানানো হয়। তাই আপনি সেখান থেকে একটি এপস বানিয়ে নিতে পারেন।

মোটামুটি একটি এপস বানাতে আপনার হয়তো ১০,০০০/= টাকার মতো খরচ হবে। আপনি যেহেতু এপস ডেভলপার না, তাই আপনার উচিৎ অ্যাপস না বানিয়ে কোনো প্রফেশনালকে দিয়ে তৈরি করে নেয়া।

এপস তৈরি করতে আপনার যে সময় নষ্ট হতো, সেটা দিয়ে মার্কেট রিসার্চ করুন, এপসের মার্কেটিং করুন; তাহলে সফলতা পাওয়া আরো সহজ হবে।

আমার মনে হয়, আপনাদে;র মোটামুটি ধারণা দিতে পেরেছি, কিভাবে এপস তৈরি করবেন।

Google Play Sore এপসটি পাবলিশ করুন

এপস তৈরি করে ইনকাম করতে এপসটি তৈরি করার পর পাবলিশ করতে হবে; তবেই তো মানুষ এপসটি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।

সবচেয়ে ভালো হয়, যদি এপসটি প্লেস্টোরে আপলোড করতে পারেন। মানুষের যখনই কোনো এপসের দরকার হয়, গুগলের স্টোরে খুজে থাকে।

আপনি যদি গুগল প্লে-স্টোরে এপসটি আপলোড করেন; তবে প্রচুর অর্গারিক ইউজার পাবেন।

প্লে-স্টোরে আপলোড করার জন্য আপনাকে প্লে-কনসোলের মেম্বারশিপ লাগবে। যেটার জন্য গুগল এককালীন আপনার কাছ থেকে ২৫ ডলার নিয়ে থাকে।

আপনাকে জীবনে একবারই এই ২৫ ডলার দিতে হবে। প্লে-কনসোল একাউন্ট রিনিউ করা লাগে না, তাই একবার দিয়েই আপনার যত ইচ্ছা এপস আপলোড করতে পারেন।

এপস আপলোড করার সময় অবশ্যই সঠিক মেটা টাইটেল, ট্যাগ, ফিচার ইমেজ ব্যবহার করতে হবে। কারণ এগুলো এপসের এসইও এর কাজে লাগে।

ভালোভাবে এপসটি এসইও অপটিমাইজ করতে পারলে প্রচুর ডাউনলোড পাবেন। ডাউনলোড বেশি মানে ইউজার বেশি; ইউজার মানেই টাকা।

আপনি একটি এপস তৈরি করে ফেলেছেন ‍ও সেটা পাবলিশের কাজ শেষ। এখন আপনাকে অ্যাপটি থেকে কিভাবে আয় করবেন সেটা বলছি।

এপস তৈরি করে ইনকাম করার ৭টি উপায়

১. গুগল এডমোব

অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ তৈরি করে, প্লে-স্টোরে আপলোড করতে পারলে গুগল এপস এড মানে এডসেন্স পাওয়া যায়।

যারা এই এপ সেক্টরে একেবারে নতুন তাদের জন্য গুগলের এড খুবই কার্যকারী; করণ এখানে সকলকিছু গুগল নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

যেমন: ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে এড নেয়া, সেই এড আপনার এপে শো করানো; সেখান থেকে প্রতি মাসে আপনার আয়ের টাকা পাঠিয়ে দেয়া। এসবকিছু গুগল নিজেই করে থাকে; অর্থাৎ অ্যাপটি পাবলিশ করার পরের সকল কাজ গুগলের।

তবে admob থেকে আয় করতে হলে, গুগলের এপ্রভাল লাগবে। সেটা এডমোবের একাউন্ট করে সহজে পেতে পারেন।

আপনার অ্যপসটি যদি গুগলের এডমোব পলিসি মেনে তৈরি করা হয়; এডমোবের এপ্রভাল পাওয়া কোনো ব্যাপার না।

২. অন্যান্য এড নেটওয়ার্ক

এডমোব ছাড়াও বর্তমানে আরো অনেক এড নেটওয়ার্ক আছে; সেগুলোর মাধ্যমেও আপনি এপসটি মনিটাইজ করতে পারেন।

এপস তৈরি করে ইনকাম করার অনেক পদ্ধতি থাকলেও অধিকাংশ এপসের মালিক যেকোনো এড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ বোধ করে।

কিছু এড নেটওয়ার্কের লিস্ট দেয়া হল:-

  1. Yahoo ad network: ইয়াহু এডনেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজে এপ থেকে আয় করতে পারেন। ইয়াহু এড নেটওয়ার্ক অনেক সিপিসি যুক্ত এড সার্ভ করে থাকে; এতে অনেক টাকা আয় করতে পারেন।
  2. Start App: অনেকে আছে যারা, গুগলের এডনেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে সাচ্ছন্দ করে না। তাদের জন্য এইটি একটি আদর্শ এডনেটওয়ার্ক হতে পারে।
  3. Media.net: এইটিও অনেক ভালোমানের একটি এড নেটওয়ার্ক; চাইলে এটি ব্যবহার করতে পাবেন।

Google-এ ”ad networks list for app publishers” লিখে সার্চ করুন। অনেক এডনেটওয়ার্কের লিস্ট পাবেন। সেখান থেকে একটি নিয়ে কাজ করুন।

পরামর্শ: বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন এড নেটওয়ার্ক ভালো লাগে; আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে আমার মতে প্রথমদিকে আপনার এডমোব নিয়ে কাজ করা ভালো।

এডমোড গুগলের সার্ভিস হওয়ায় এটি বেশি বিস্বস্ত। তাই এডমোবের পলিসি মেনে এপস তৈরি করে আয় করুন।

৩. freemium

Free and Premium দুটি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়, freemium শব্দটি। অর্থৎ এই মডেলে এপসটি ফ্রিতে দেয়া হয়; এবং বিশেষ কিছু ফিচার প্রিমিয়াম রাখা হয়।

প্রচুর ফ্রি android games গুলোতেও দেখবেন, guns, character, extra power, virtual currency ইত্যাদি টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার সুবিধা দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত revenue মডেল এটি। এই মডেলের সবচেয়ে বড় সুবিধা, মার্কেটিং cost লাগে না। ইউজাররা এই এপসের মার্কেটিং করে দেয়।

মানুষ যখন ফ্রিতে ভালো কিছু পায় তখন সেটি ব্যবহার করে। আপনার এপটি যদি ভালোমানের হয়; তবে ব্যবহারকারীরা অন্যদের রিকমেন্ড করবে।

যেহেতু কিছু ফিচার তারা ফ্রিতে ব্যবহার করছে, তাই তারা এপটি ব্যবহার করবে এবং যখন তাদের মনে হবে, এক্সট্রা ফিচার দরকার তখন তারা সেটি কিনে নিবে।

এখনে একটি দারুন হ্যাকস শেয়ার করা হল:-

ধরুন আপনি একটি ফ্রিমিয়াম অ্যাপস তৈরি করেছেন; এখন ফ্রি ভার্সনের সাথে এডমোবের এড দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারেন।

অর্থাৎ ফ্রি ভার্সনে এডসেন্স থেকে টাকা আসবে, এবং প্রিমিয়াম ভার্সনে এক্সট্রা ফিচার দেয়ার সাথে সাথে এড দেখানো বন্ধ করে দিন।

তাহলে প্রিমিয়াম কিনলেও আপনার আয় হবে আবার ফ্রিতে ব্যবহার করলেও আপনার আয় হবে। দু’দিকেই লাভ।

৪. এফিলিয়েট মার্কেটিং

এপস তৈরি করে ইনকাম করার অনেকগুলো উপায়ের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় উপায়।

আপনি কি জানেন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল আপনি কোনোকিছু বিক্রির জন্য মানুষকে কনভেন্স করবেন; এবং সেই ব্যাক্তিটি পণ্যটি কিনলে নির্দিষ্ট কমিশন নিবেন।

বিভিন্ন কোম্পানী তাদের প্রডাক্ট বিক্রি করার জন্য, এফিলিয়েট প্রোগ্রাম দিয়ে থাকে। আপনি সাইন আপ করে সেখান থেকে আপনার এফিলিয়েট লিংক সংগ্রহ করতে পারেন।

লিংকে গিয়ে যত লোক প্রডাক্টটি কিনবে, আপনি কমিশন পেতে থাকবেন।

যে প্রডাক্টের প্রমোশন করতে চাচ্ছেন, সেটির একটি সুন্দর ব্যানার আপনার অ্যাপে ব্যবহার করে; আপনার এপসটি ব্যবহারকারীদের প্রডাক্টটি কিনতে কনভেন্স করুন।

যদি কোনো ব্যবহারকারী আপনার লিংক ব্যবহার করে; পণ্য কেনে আপনি সেখান থেকে আয় করতে পারেন।

আপনাদের সুবিধার জন্য একটি কথা: ওয়েবসাইটের এফিলিয়েট আর এপসের অ্যাফিলিয়েটের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দুটোর মডেল একই রকম; তাই Confuse হবেন না।

৫. স্পন্সার শিপ

আপনার এপটি যদি অনেক বেশি লোক ব্যবহার করে; আপনি বিভিন্ন কোম্পানী থেকে স্পন্সার নিতে পারেন।

যেমন:- 10Minute School এপটি রবি থেকে স্পন্সার পেয়ে থাকে। আপানার এপটি গ্রো করার মাধ্যমে আপনিও বিভিন্ন কোম্পানী থেকে স্পন্সর পেতে পারেন।

আপনার এপসটির যদি ১০০,০০০ ভিজিটর বা ইউজার থাকে; আপনি ছোট ছোট কিছু কোম্পানীর লিস্ট করুন। তাদের ইমেইলের মাধ্যমে প্রোপোজাল পাঠান।

আশা করা যায় আপনি স্পন্সার পেয়ে যাবেন।

৬. পণ্য বিক্রি করুন

আপনার যদি কোনো ডিজিটাল বা ফিজিক্যাল পণ্য থাকে, আপনার অ্যাপস ব্যবহার করে বিক্রি করতে পারেন।

ডিজিটাল প্রডাক্ট বলতে, ইবুক, কোর্স ইত্যাদি থাকলে সুন্দর করে একটি ব্যনার তৈরি করে; এপসের ভিতর পপআপ আকারে দেখান। আপনার প্রডাক্ট কারো ভালো লাগলে কিনবে।

৭. লিড জেনারেশন

আপনি ইউজারদের কাছ থেকে ডাটা কালেক্ট করতে পারেন। যেমন: তাদের নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর।

এই ডাটাগুলো কালেক্ট করে পরবর্তীতে টাকা আয় করতে পাবেন। কিভাবে?

ধরে নিচ্ছি আপনার একটি ব্যায়াম বিষয়ক এপস আছে। এই এপসটি ইনস্টল করবে কারা? নিশ্চয় যাদের ব্যায়ামের বিষয়ে আগ্রহ আছে।

এখন আপনি এমাজন থেকে ব্যায়াম বিষয়ক কিছু প্রডাক্টের অ্যাফিলিয়েট নিলেন; সেগুলোর জন্য সুন্দর একটি ল্যান্ডিং পেজ তৈরি করবেন।

আপনার কাছে যে ইমেইল আছে মানে ইউজারের ইমেইলে ইমেইল করুন (ই-মেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে)।

আপনি যেহেতু টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে মার্কেটিং করছেন। তাই আপনার সফলার সম্ভাবণা অনেক বেশি।

৮. এপস তৈরি করে ইনকাম: ফ্রিন্যান্সিং

বর্তমানে মোবাইল এপস ডেভলপারের চাহিদা আকাশচুম্বি। আপনি যতি ভালোমানের এপস ডেভলপার হন, প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করতে পারবেন

আপনি আপওয়ার্ক বা ফাইভারে কাজ করে অনেক টাকা আয় করতে পারেন। আবার ইনভার্টো মার্কেটপ্লেসে এপস ডেভলপ করে বিক্রি করতে পারেন।

আশা করা যায় ভবিষ্যতে অ্যাপস ডেভলপমেন্ট ক্যারিয়ারের প্রচুর ডিমান্ড থাকবে। তাই এন্ড্রয়েড এপস ডেভলপার হওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনে আসুন।

মূলত: এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে এপস তৈরি করে ইনকাম করা যায়। আপনি একসাথে এই পদ্ধতির দুটি বা তিনটি ব্যবহার করতে পারেন। কোনো সমস্যা নেই।

Apps install করার জন্য Google আমাদের টাকা দিবে কি ?

অনেকেই ভেবে থাকেন যে, Google play store থেকে apps download হওয়ার বিপরীতে গুগল app developers দের টাকা দিয়ে থাকে।

তবে, এটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

User দ্বারা apps install করার বিপরীতে Google কোনো app developers দের টাকা দেয়না।

আপনার apps যদিওবা লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি লোকেরা install করে রেখেছেন তথাপিও আপনি গুগল থেকে কোনো টাকা পাবেননা।

এপসে পাওয়া traffic গুলোর সাহায্যে উপরের উপায়গুলো ব্যবহার করে টাকা ইনকাম করাতে পারবেন।

এপস তৈরি করে ইনকাম: এপসের মার্কেটিং

এপস তৈরি করে ইনকাম করার অনেক উপায় আছে। কিন্তু আপনি যে এপস তৈরি করতে আয় করতে পারবেন এমন কোনো গ্যারান্টি নাই।

দেখুন, আমার কাজ আপনাদের সঠিক তথ্য দেয়া; কোনোভাবেই মিস ইনফরমেশন বা হাওয়া দিয়া কথা বলি না। তাই এপস থেকে আয় করার আসল সত্যটা বলছি।

যদি এপস থেকে আয় করা এতো সহজ হতো, সবাই তো এপস থেকেই আয় করার চিন্তা করত। কাজের কি দরকার তাই না!!

তবে এপস তৈরি করে ইনকাম করা যে খুব কঠিন বিষয়টা এমনও নয়। আপনার দরকার সঠিক প্লান বলতে পারেন মার্কেটিং প্লান।

আপনি হয়তো অনেক সুন্দর ও কার্যকারী এপস বানিয়েছেন। কিন্তু আপনার এপসটি সম্পর্কে মানুষ জানলো না; তাহলে তারা কিভাবে ব্যবহার করবে।

এপটি ব্যবহার না করলে আপনার আয় কিভাবে হবে? তাই একটি এপস বানানোর আগে ও পরে আমাদের কিছু কাজ করা জরুরী। এবং এই কাজগুলো যদি সঠিকভবে করতে পারেন, আপনার সফলাতার সম্ভাবণা অনেক বেশি থাকবে।

চলুন জেনে নেই:-

মার্কেট রিসার্চ:

এপসের সফলাতার জন্য এই স্টেপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনোরকম ফাকিবাজি করলে আপনার টাকা ও সময় দুটোই নষ্ট হবে।

আপনি যে রকম এপস বানাতে চান; সেরকম এপস মার্কেটে আছে কিনা দেখুন। যদি থাকে তারা কিকি ফিচার যুক্ত করেছে ও তাদের মার্কেটিং পলিসি ও Pricing পলিসি দেখুন।

আপনি চিন্তু করুন, আপনার এপসে এর চেয়ে আরো কি কি ফিচার যুক্ত করা যায়। সাথে সাথে আপনার রেভিনিউ পলিসি নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

একজন মোবাইল ইউজার একটি ফিচারের জন্য নিশ্চয় দুটি এপ ব্যবহার করবে না!! সবচেয়ে ভালো ফিচার ও কম দামযুক্ত অ্যাপটি ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক। তাই কোয়ালিটি উন্নয়নের সাথে সাথে Pricing Model এর দিকে নজর দিন।

অ্যাপ মার্কেটিং:

অ্যাপ মার্কেটিং শুরু করুন Google Play store এ আপলোড করার সময় থেকে; কিভাবে?

একটি অ্যাপে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড তখন হবে যখন Google Play store সার্চে আপনার এপটি প্রথমের দিকে দেখানো হবে।

তাই সবসময় চেষ্টা করুন, কোনো প্রফেশনাল এপ এসইও এক্সপার্ট দিয়ে কাজটি করাতে। আপনি চাইলে রিসার্চ করে নিজে নিজে এসইও করতে পারেন।

অ্যাপটি আপলোডের সময় লোগো ও আকর্ষনীয় ব্যানার ব্যবহার করার সাথে সাথে ভিডিও যুক্ত করতে পারলে ভালো হয়। কারণ ভিডিও মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে কার্যকরী অংশ।

সোস্যাল মিডিয়া / ইনফ্লোয়েন্সার মার্কেটিং:

গুগলে অপটিমাইজ করার পর সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার এপসটির বিষয়ে লিখুন। আপনার এপের ফিচার ও কি কাজে ইউজাররা ইনস্টল করবে সবকিছু।

বিভিন্ন ইউটিউবার যারা এপস রিভিউ করে থাকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তাদের কনভেন্স করে এপের রিভিউ করিয়ে নিতে হবে, যাতে আরো ইউজার পেতে পারেন।

এপস তৈরি করে ইনকাম : Conclusion

এপস তৈরি করে ইনকাম করার সকল উপায় আলোচনার করার সাথে সাথে একটি এপসকে; কিভাবে সফল করতে হয় সব টিপস শেয়ার করেছি।

অনলাইনে প্রচুর কম্পিটিশন; তাই বলে কি আমরা কাজ করা ছেড়ে দিব? নিশ্চয়ই না!!

এই কম্পিটিশন একসেপ্ট করেই এপস তৈরি করে ইনকাম করতে হবে। আমরা সঠিক প্লানের মাধ্যমে কাজ করলে সফলতা পাওয়া সহজ হবে।

আসলে সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজে সফল হওয়া যায় না। তাই পুরো আর্টিকেল জুড়ে আমি এপস তৈরি করে ইনকাম করার উপায় গুলোর সাথে সাথে কি কি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগোতে হবে তা বলা হয়েছে।

আর্টিকেলটি বুঝে শুনে সুন্দরকরে পড়ুন; আপনার অ্যপস তৈরি করে আয় করার পথকে মসৃন করুন।

এছাড়া, আর্টিকেলের সাথে জড়িত কোনো ধরণের প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে আমাকে নিচে কমেন্ট করুন।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-