ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয় করার উপায় (Make Money on Instagram)

ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয় করার উপায় অনেক। আপনার যদি ভালে মানের ফলোয়ার থাকে তবে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারবেন। ইনস্টাগ্রামে আয়ের বিস্তারিত..

1061 VIEWS

ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয়

ইনস্টাগ্রাম অনেক জনপ্রিয় একটি ফটো শেয়ারিং সাইট। যদিও এখানে ভিডিও শেয়ার করা যায়; তারপরও ফটোশেয়ারিং সাইট হিসেবে বেশি পরিচিত।

ইনস্টাগ্রাম ফেসবুকেরই একটি প্রতিষ্ঠান। অফিশিয়ালি ফেসবুকের মতো এড বসানো সুযোগ তৈরি করেননি মার্ক জাকারবার্গ। হয়তো কোনোদিন সকালে উঠে শুনতে পাবেন, মনিটাইজেশন ফিচার যোগ করা হয়েছে ইনস্টাগ্রামে।

মনিটাইজেশন নেই বলে কি আমরা ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করতে পারব না!!! টুইটারের মতো আমরাও এখান থেকে টাকা আয় করতে পারি, কিছু কৌশলকে কাজে লাগিয়ে।

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার জন্য আপনার প্রচুর ফ্যান, ফলোয়ারের দরকার হবে।

ফ্যান ফলোয়ার যোগাড় করতে আপনার প্রোফাইল সুন্দর ও কোয়ালিটি কন্টেন্ট যুক্ত হতে হবে। আগে দেখে আসি:

কিভাবে ইনস্টাগ্রাম প্রাফাইল সাজাতে হয়

আপনাকে ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট নিস নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রথমে একটি প্রফিটেবল নিস বাছাই করে নিন।

ইনস্টাগ্রাম প্রাফাইল সাজাতে হয়
ইনস্টাগ্রাম প্রাফাইল সাজাতে হয়

# সুন্দর ও রিলেটেড নাম

ইনস্টাগ্রাম একাউন্টের নিস রিলেটেড নাম রাখুন। আপনি যদি কোনো বিশেষ নিস নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে নিসের নামে চ্যানেলের নাম রাখুন।

আপনি যদি পার্সোনাল ব্রান্ড করতে চান তাহলে নিজের নামে একাউন্টের নাম রাখতে পারেন।

# আকর্ষনীয় Bio লিখুন

আপনি যদি নিজের পার্সোনাল ব্রান্ড তৈরির উদ্দেশ্যে একাউন্ট করেন। তবে বায়ো লেখার সময়, আপনার সম্পর্কে এককথায় বর্ণনা করুন। আপনার উদ্দেশ্য কি বা কি করতে চান ছোট্ট করে বলুন।

যদি কোনো নিশ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে নিশের ব্যাপারে হালকা ওভারভিউ দিন। নিজের কোনো ওয়েবসাইট থাকলে লিংক ব্যবহার করুন।

# প্রফাইল পিকচার

যেহেতু ইনস্টাগ্রাম মূলত ফটোশেয়ারিং সাইট, তাই এখনে প্রফাইল পিকচার বা ছবিটা খুবই গুরুত্ব বহন করে।

পার্সেনাল ব্রান্ডের জন্য নিজের সবচেয়ে প্রফেশনাল বা আকর্ষনীয় ছবিটি ব্যবহার করুন।

নিস নিয়ে কাজ করার জন্য নস রিলেটেড একটি ছবি ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় আপনি কোনো এক্সপার্টকে দিয়ে একটি ছবি বানিয়ে নিন। নিজে যদি ভালোমানের এডিটিং জানেন নিজে তৈরি করুন।

নিয়মিত কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট করুন

শুধু একটি সুন্দর প্রফাইল ক্রিয়েট করলেই ফলোয়ার চলে আসবে না। তার জন্য দরকার নিয়মিত পোস্ট করা।

নিয়মিত পোস্ট বলতে প্রতিদিন পোস্ট করতে বলছি না। যদি সপ্তাহে ৪টি করে পোস্ট করেন, তবে হিসাব করে নিন সপ্তাহের কোনে কোন দিন পোস্ট করবেন। প্রতি সপ্তাহে একই টাইমে পোস্ট করার চেষ্টা করুন।

আপনার ফলোয়ারদের আগে থেকে মেসেজ দিতে পারে, আপনি সপ্তাহের কোন টাইমে পোস্টগুলো করেন। একদিন পোস্ট করে যদি ১০ দিনে আপনাকে না পাওয়া যায়, তাহলে ফলোয়ার পাওয়ার চিন্তা বাদ দেন।

সবচেয়ে বড় বিষয় কোনো পরিস্থিতিতে পোস্টের কোয়ালিটি যেন খারাপ না হয়। সবসময় কোয়ালিটি সম্পন্ন পোস্ট করবেন।

হ্যাসট্যাগ (#)

হ্যাসট্যাগ (#)
হ্যাসট্যাগ (#)

ইনস্টাগ্রামে হ্যাসট্যাগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনাকে বেস্ট টেন্ড্রিং হ্যাসট্যাগ গুলো খুজে বের করে পোস্টে যোগ করতে হবে। সঠিক হ্যাসট্যাগের ব্যবহার আপনাকে টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছে দিবে।

ফলোয়ার বাড়ানোর আরো অনেক উপায় আছে।

আমার উপদেশ থাকবে বট দিয়ে বা সফটওয়্যার দিয়ে ফলোয়ার না বাড়ানো। আপনার দরকার কোয়ালিটি ফলোয়ার যারা পণ্য সম্পর্কে আগ্রহী, ফলোয়ারের সংখ্যা কোনো বিষয় না।

ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয় করার উপায়?

অনেক কথাই বললাম ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার বৃদ্ধির জন্য। কেন ফলোয়ার নিয়ে আলোচনা করলাম? কারণ, যেকোনো সোস্যাল মিডিয়ায় আয়ের পূর্বশর্তই হচ্ছে অনেক ফলোয়ার থাকা।

#১. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়: ইনফ্লোয়েন্সার হিসেবে স্পন্সার করুন

ডিজিটাল মার্কেটিং জগতে ইনস্টাগ্রামকে বেস্ট (best) ইনফ্লোয়েন্সার (influencer) প্লাটফর্ম বলা হয়। সবচেয়ে বেশি প্রাডাক্ট বিক্রির বা ব্রান্ড প্রমোশনের জন্য ব্যবহার হয়।

আপনি কি ইনফ্লোয়েন্সার (influencer) কি জানেন? ইনফ্লোয়েন্সার হল একজন ব্যাক্তি, যার পরিচিতি অনেক বা অনেক মানুষ তাকে চিনে। এমন মানুষের দ্বার অন্য মানুষকে কোনো প্রডাক্ট কিনতে অনুপ্রাণিত করা।

একজন ইনফ্লোয়েন্স মার্কেটার অন্যদেরকে কোনো প্রডাক্ট ব্যবহারে ইনফ্লোয়েন্স করতে পারে। এটাকে বিভিন্ন কোম্পানী বা ব্রান্ড কাজে লাগাতে চাই।

বিভিন্ন কোম্পানী তাদের প্রডাক্ট বিক্রির জন্য পোস্টের স্পন্সার করে। আপনার যদি ভালো ফলোয়ার থাক, তাহলে স্পন্সারশিপ নেয়ার জন্য কোম্পানী বা বিভিন্ন নেটওয়ার্ক আছে; তাদের কাছে আবেদন করতে পারেন।

আপনার প্রফাইলে যদি ভালো পরিমাণ ফলোয়ার থাকে তবে যেকোনো কোম্পানী স্পন্সার করতে পারে। আপনার নিস রিলেটেড কোম্পানীর বিভিন্ন প্রডাক্টের স্পন্সার পোস্টের মাধ্যমে লক্ষ টাকা আয়ের সুযোগ আছে।

ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় করার জন্য ইনফ্লোয়েন্সার হিসেবে কাজ করা সবচেয়ে সহজ ও কার্যকারি। আপনি প্রতি স্পন্সার পোস্ট থেকে ৫০০০-৭০০০ টাকা সহজে আয় করতে পারেন। আয় নির্ভর করে ফলোয়ারের সংখ্যা ও এঙ্গেজমেন্টের উপর।

#২. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয়: ছবি বিক্রি করে আয়

আপনার যদি ফটোগ্রাফি নেশা থাকে; সেজন্য আপনি ইনস্টাগ্রামে একাউন্ট করেছেন। তাহলে আপনার তোলা ছবি বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

কোয়ালিটি সম্পন্ন ছবি বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করা যায়। ছবি বিক্রি করার অনেক উপায় আছে।

কিভাবে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে ছবি বিক্রি করব? আপনার তোলা ছবির মধ্যে কিছু ছবি আপলোড করুন।

কিছু বিশেষ বা গুণগত মান সম্পন্ন ছবি ওয়াটারমার্ক করে আপলোড করুন। নিচে আপনার ইমেইল আইডি দিন ও বলুন যদি কেউ ছবি কিনতে চায় আপনার সাথে যোগাযোগ করতে।

এভাবে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ছবি বিক্রি করতে পারেন।

#৩. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় : এফিলিয়েট মার্কেটিং

এফিলিয়েট করে আয় করা যায়, এটা আমরা যায় অনলাইন ইনকাম নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছি সবাই জানি।

তবে নতুনদের জন্য ওভারভিউ দিচ্ছি: এফিলিয়েট হল কোনো প্রডাক্টের বিক্রির জন্য প্রডাক্টের মালিকের সাথে চুক্তি, যে প্রতিটি প্রডাক্ট বিক্রির জন্য আমাকে ২% বা ৫% কমিশন দিতে হবে। যেমন: করিম ছাগল আছে, সে আমার সাথে চুক্তি করল প্রতিটি ছাগল বিক্রি করে দিলে সে ৫০০টাকা করে দিবে।

ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে এফিলিয়েট করা যায়?

হ্যা, অবশই যায়।

এফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলো কি ইনস্টাগ্রাম সাপোর্ট করে?

না, অধিকাংশ এফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ইনস্টাগ্রাম সাপোর্ট করে না। তাহলে কেমনে কি?

আপনার যদি বেশ কিছু ফলোয়ার থাকে তবে এফিলিয়েট করে আয় করতে পাারেন। আপনি যে নিসের উপর ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট করেছেন, সেই নিস বেজ (Base) করে এফিলিয়েট লিংক নিন।

এফিলিয়েট লিংকের প্রডাক্ট খুজে বের করে ল্যান্ডিং পেজ (Landing Page) তৈরি করুন। সেখানে অ্যাকশন বাটন (Action Button) যেমন: ক্রয় করুন (BUY NOW), আরো জানুন (READ MORE) তৈরি করুন।

এই বাটনে আপনার এফিলিয়েট লিংক দিন, এখান থেকে এফিলিয়েট নেটওয়ার্কে কাস্টমারকে নিয়ে জান। এভাবে আপনি ইনস্টাগ্রাম থেকে এফিলিয়েট করে আয় করতে পারেন।

#৪. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় : নিজের পণ্য বিক্রি করে

নিজের পণ্য বিক্রির জন্য ইনস্টাগ্রাম খুবই ভালো একটি জায়গা। এখানে প্রচুর লোকের সমাগম হয়, তাই আপনি যেকোনো জিনিস সহজে বিক্রি করতে পারেন।

নিজের পণ্য ইনস্টাগ্রামে দুই ভাবে বিক্রি করা যায়। ১. নিজের একাউন্ট দিয়ে, ২. ইনফ্লোয়েন্সার ভাড়া করে।

উদাহরণস্বরূপ: করিম টি-শার্ট বিক্রি করেন। করিমের একাউন্ট যদি টি-শার্ট নিস রিলেটেড হয়, এবং অনেক ফলোয়ার থাকে তবে করিম নিজের একাউন্ট দিয়ে বিক্রি করতে পারেন।

আরো একটি ব্যাপার আছে, সে যদি আরো বেশি শার্ট বিক্রি করতে চায়, একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লোয়েন্সার খুজে তাকে দিয়েও বিক্রি করতে পারে। দুটি একাউন্ট অবশ্যই একটির চাইতে বেশি পারফমেন্স দিবে; (যদি করিমের মার্কেটিং কস্ট (Cost) থাকে)।

এখন, করিমের যদি রান্নার নিস রিলেটেড একাউন্ট হয়, তবে টি-শার্ট বিক্রি করা কষ্টের হবে। তাই টি-শার্ট বিক্রি করতে টি-শার্ট রিলেটেড ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লোয়েন্সার হায়ার করতে হবে।

#৫. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় : অন্যের একাউন্ট প্রমোশন করুন

অন্যের ইনস্টাগ্রাম একাউন্টের প্রমোশন করার মাধ্যমে আয় করতে পারেন। সবসময় আপনার প্রফােইলের বায়োতে ই-মেইল যোগ করে বাখুন।

আপনার নিস রিলেটেড কিছু কম ফলোয়ার সম্পন্ন একাউন্ট খুজে বের করেন। তাদের ই-মেইল করেন, “আমি আপনার একাউন্ট প্রমোশন করে দেব।’ এবং আপনার শর্তগুলো লিখে দিন।

এভাবে করে যদি কিছু লোক পেয়ে যান, যারা তাদের একাউন্ট প্রমশন করতে আগ্রহী তাদের কাজ করে টাকা আয় করতে পারবেন।

#৬. ইনস্টাগ্রাম থেকে আয় : অন্যের একাউন্ট ম্যানেজ করে

কোম্পানী বা সেলিব্রিটিরা তাদের ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ম্যানেজ করার জন্য লোক নেয়। আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তাদের কাজ করে প্রচুর আয় করতে পারবেন।

ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ম্যানেজার হওয়ার জন্য যে যে দক্ষতা দরকার?

আপনাকে মোটামটি ফটো এডিটিং সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে।

ইনস্টাগ্রামের ফিল্টার ব্যবহারে এক্সপার্ট থাকতে হবে।

ভিডিও এডিটিং জানতে হবে। ইনস্টাগ্রামে ভিডিও যোগ করার অপশন আছে; তাই আপনাকে ভিডিও এডিটিং জানতে হবে। হালকা গ্রাফিক্সের কাজও জানা থাকলে ভালো হয়।

ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা আয়: Conclutions,

ইনস্টাগ্রাম সহ প্রায় সকল সোস্যাল সাইট থেকে আয় করার জন্য Follower দরকার হয়। আয়ের দিকে ফোকাস (Focus) না করে ফলোয়ার বাড়ানোর দিকে নজর দিন।

আয় করা কোনো বিষয় না আপনার জন্য যদি অনেক ফলোয়ার তৈরি করতে পারেন। ফলোয়ার তৈরির জন্য ইনস্টাগ্রাম রিল ভিডিও, আইজিটিভি ভিডিও ও লাইভ সেশন করতে পারেন।

শুধু ফলোয়ার সংখ্যায় হলেই হবে না, তাদের সাথে ইমোশনালি কানেক্টেড (emotionally connected) হতে হবে। আপনার ফলোয়ারদের সাথে এঙ্গেজ (engage) থাকতে পারলে ইনস্টাগ্রাম থেকে প্রচুর আয়ের সুযোগ আছে।

কিন্তু ফলোয়ারদের সাথে সম্পর্ক রাখতে না পারলে, ফলোয়ারের মান (value) থাকে না। সেখানে কোনো জিনিস বিক্রি করা কষ্টকর।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-