অনপেজ এসইও ( on-page SEO ) কি? কিভাবে এসইও অপটিমাইজেশন করব?

অনপেজ এসইও ( on-page SEO ) কি? অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশন হল কন্টেন্টকে ইউজার ও গুগলবট ফ্রেন্ডলি করা। কিভাবে এসইও অপটিমাইজেশন করব?

652 VIEWS

অনপেজ এসইও

অনপেজ এসইও কি?

অনপেজ এসইও একটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন টেকনিক, যা সার্চ ইঞ্জিন বটগুলিকে বুঝতে সাহায্য করে, আপনার পেজটি কী সম্পর্কে লেখা হয়েছে।

মেটা টাইটেল, যেসক্রিপশন, হেডিং ট্যাগ ও ইন্টারনাল লিংকগুলোকে অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে গুগলে ওয়েবপেজ র‌্যাংক করানো সম্ভব।

যখন আমরা কোনো ওয়েবপেজ বা ওয়েবসাইটকে অপটিমাইজ করতে চাই, তখন দুটি বিষয় সামনে আসে:

১. অন-পেজ এসইও অপটিমাইজেশন

২. অফ-পেজ এসইও অপটিমাইজেশন

অফপেজ অপটিমাইজেশন মূলত আপনার ওয়েবসাইটের বাইরে থেকে আসা সিগন্যাল গুলোকে বোঝায়। যেমন: ব্যাকলিংক

আজকের আর্টিকেলে আমরা মূলত অনপেজ এসইও বিষয়ে আলোচনা করব। কোন একদিন অফপেজ এসইও নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

অন-পেজ এসইও অপটিমাইজেশন টুল:

অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশন টুল সাধারণত নিশ্চিত করে আপনি সর্বশেষ অনপেজ এসইও করার জন্য যে ডাটা দেয়া দরকার তা দিচ্ছেন।

বর্তমান মার্কেটে অনেক ধরনের অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশন টুলস পাওয়া যায়। তারমধ্যে অন্যতম ইয়োস্ট এসইও প্লাগিন।

ইয়োস্ট এসইও প্লাগিন ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে থাকে। এর ফ্রি ভার্সন দিয়েও আপনি অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশন করতে পারেন।

আমি এই টেকনিক খুব ভালোভাবে ব্যবহার করেছি, এজন্যই আপনি আামার পেজটিকে গুগলে পেয়েছেন।

কখনও অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশনের সাথে অন-সাইট এসইওকে গুলিয়ে ফেলবেন না।

  • অনসাইট এসইও হল পুরো ওয়েবসাইটের এসইও অপটিমাইজেশন করা, যেমন: সাইটম্যাপ, পারমালিংক স্ট্রাকচার ইত্যাদি
  • অনপেজ এসইও একটি নির্দিষ্ট কন্টেন্টকে এসইও করা। যেমন: টার্গেটেড কিওয়ার্ড স্থাপন, মেটা টাইটেল. ডেসক্রিপশন ইত্যাদি।

কেন অনপেজ এসইও অপটিমাইজেশন করা দরকার?

গুগল ২০২১ এ এসেও অনপেজ এসইও এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট র‌্যাংক করে।

যদিও গুগল আগের তুলনায় অনেক স্মার্ট, তবুও তারা ওয়েবসাইট র‌্যাংক করানোর জন্য আগের কিছু টেকনিক ব্যবহার করে। যেমন: কন্টেন্টের ভিতর কিওয়ার্ড; যেটা অনপেজ এসইওর অংশ।

  • ওয়েবপেজ গুগলে র‌্যাংক করলে লাভ কি হয়?

গুগল বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। প্রতিদিন বিলিয়নের উপর সার্চ হয়। অধিকাংশ মানুষ গুগলের প্রথম ৩টি রেজাল্টের মধ্যেই ক্লিক করে।

তাই গুগলে র‌্যাংক করার মাধ্যমে অনেক ট্রাফিক / ভিজিটর পেতে পারেন।

তাহলে বুঝতেই পারছেন কেন আমাদের ওয়েবসাইটটি গুগলে র‌্যাংক করানো উচিৎ।

কিন্তু গুগল কি শুধু অনপেজ এসইওর উপর নির্ভর করে ওয়েবসাইট র‌্যাংক করে?

না!!

কোনো ওয়েবসাইট র‌্যাংক করার ক্ষেত্রে গুগল ২০০টিরও বেশি জিনিস লক্ষ রাখে। তার ভিতর অনপেজ এসইও অন্যতম।

গুগল থেকে ওয়েবসাইটরে ভিজিটর পেতে চাইলে, অনপেজ এসইওকে ছোট করে দেখলে চলবে না।

আপনার ওয়েবপেজের ভিতর কিওয়ার্ডের ম্যাচিং অনুযায়ী ওয়েবপেজ র‌্যাংক করে থাকে। তাই অন-পেজ এসইও ভালোভাবে করলে ওয়েবপেজ দ্রুত র‌্যাংক করবে।

অনপেজ এসইও করার ১১ টি উপায় – ২০২১

কিছু অন পেজ এসইও ট্রিকস শেয়ার করার আগে, কিছু নন-টেকনিক্যাল বিষয় জেনে রাখা ভালো:-

  1. ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নত করা
    • আপনার ওয়েবসাইট রেসপনসিভ করুন ও ব্রোকেন লিংক যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করুন।
  2. বাউন্সরেট কম করুন
    • সাইটে প্রোফেশনালিজাম বজায় রাখুন, যাতে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভিজিটর সাথে সাথে ব্যাক না করে।
  3. কোয়ালিটি কন্টেন্ট
    • কন্টেন্ট-ই আপনার ওয়েবসাইটের সব। আপনার ওয়েবসাইট ভালো কন্টেন্টযুক্ত না হলে; কোনোভাবেই গুগলে র‌্যাংক করাতে পারবেন না।

আশা করি আপনি উপরের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন। এখন চলুন ১০টি অনপেজ এসইও টেকনিক জানার মাধ্যমে গুগলে আমাদের ওয়েবসাইট র‌্যাংক করে ফেলি।

১. মেটা টাইটেল

ওয়েবপেজ র‌্যাংক করার ক্ষেত্রে, মেটা টাইটেল অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আকর্ষনীয় মেটা টাইটেল আপনার সাইটে মানুষের ক্লিক করার হার বাড়াবে।

মানুষ যত আপনার কন্টেন্ট ক্লিক করবে, গুগল ওয়েবপেজকে র‌্যাংক করাবে।

মেটা টাইটেলের ভিতর টার্গেটেড কিওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করুন। টাইটেলের ভিতর টার্গেটেড কিওয়ার্ড রাখলে গুগল আপনাকে অতি দ্রুত র‌্যাংক করতে সাহায্য করবে।

একই কিওয়ার্ড মেটা টাইটেলের ভিতর একাধিকবার ব্যবহার করবেন না। এটা কিওয়ার্ড স্টাফের ভিতর পড়ে; যার ফলে গুগল আপনাকে পেনাল্টি দিতে পারে; ফলে আপনার কন্টেন্ট র‌্যাংক হারাবে।

মেটা টাইটেল ৬৫টি বর্ণের মধ্যে দিতে পারলে ভালো হয়।

২. পোস্ট পার্মালিংক(Permalink) স্ট্রাকচার

আপনার পোস্টের ইউআরএল(URL) সঠিকভাবে প্রদর্শন করছে সেটা নিশ্চিত করুন। পার্মালিংকের ভিতর কিওয়ার্ড দেয়ার চেষ্টা করুন এবং স্পেশাল ক্যারেকটার বর্জন করুন।

যেমন: URL এর ভিতর কমা (,), ব্যাকেট, আন্ডারস্কোর (_) ইত্যাদি ব্যবহার না করা উচিৎ।

ইউআরএলের ভিতর দুইটা শব্দকে জোড়া দিতে হাইপেন(-) ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সিএমএস যেমন: ওয়ার্ডপ্রেস Hyphen(-) ব্যবহার করে।

সঠিক ইউআরএল সাধারণত দেখতে যেমন: https://www.bnlite.com/ইনস্টাগ্রাম-থেকে-টাকা-আয়

৩. হেডিং ট্যাগ

কোনো আর্টিকেল র‌্যাংক করতে হেডিং ট্যাগের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যদিও অনেক এসইও বলে থাকে হেডিং ট্যাগের গুরুত্ব কম।

আমার এক্সেপেরিয়েন্স থেকে দেখেছি, হেডিং ট্যাগের ভিতর কিওয়ার্ডের ব্যবহার আর্টিকেল র‌্যাংক করতে অনেক সাহায্য করে।

পোস্টের কিছু পয়েন্ট বা বিষয়বস্তুকে হাইলাইট করার জন্য সাবহেডিংগুলো ব্যবহার করুন।

H1, H2, H3 একটি পোস্টে সাধারণত এই তিনটি হেডিং ট্যাগকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।

হেডিং ব্যবহারের কিছু নিয়ম:

  • আর্টিকেলের ভিতর মাত্র একবার H1 ট্যাগ ব্যবহার করুন।
  • H2 ট্যাগ কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন, তবে বেশি বেশি ব্যবহার করবেন না।
  • H3 ট্যাগকেও কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন।

সার্চইঞ্জিনগুলো আপানর পোস্টের ট্যাগগুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। হেডিং ট্যাগগুলোকে সুন্দর করে লিখুন।

কিন্তু পাশাপশি কিওয়ার্ড ঢুকিয়ে দিন; তবে সেটা যেন ইউজার না বুঝতে পারে, আপনি জোর করে কিওয়ার্ড ঢুকিয়েছেন।

অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন
অনপেজ এসইও: হেডিংয়ের ব্যবহার দেখা

হেডিং ট্যাগের সঠিক ব্যবহার করেছেন কিনা, ওয়ার্ডপ্রেসে সহজে দেখতে পারবেন।(উপরের চিত্রের মতো করে)

৪. অনপেজ এসইও: টেবিল অব কন্টেন্টের ব্যবহার

যেহেতু বর্তমানে বিস্তারিত (detail) content গুগলে দ্রুত র‌্যাংক করছে, তাই মাঝেমধ্যে আমাদের কন্টেন্ট ৩০০০- ৫০০০+ শব্দের হয়ে থাকে।

on-page এসইও: টেবিল অব কন্টেন্ট
টেবিল অব কন্টেন্ট

টেবিল অব কন্টেন্ট দেয়ার মাধ্যমে, ব্যবহারকারীদের আর্টিকেলটি বুঝতে সাহায্য করে যে, কিকি বিষয়ের উপর আলোচনা করেছেন।

ইউজার যে অংশ পড়তে আগ্রহী সহজে জাম্প করতে পারে, যেটা গুগলের কাছে একটি ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স সিগন্যাল হিসেবে যায়।

৫. কিওয়ার্ডের ঘনত্ব

আর্টিকেলের ভিতর কিওয়ার্ড দিতে হবে বলে, অনেক বেশি কিওয়ার্ড দিবেন, এমন যেন না হয়।

পোস্টে অধিকবার কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা। সবসময় কিওয়ার্ডের ঘনত্ব ১.৫% এর নিচে রাখার চেষ্টা করবেন।

অনপেজ seo: কিওয়ার্ড ডেনসিটি
Keyword density

অধিকবার কিওয়ার্ড ব্যবহার করলে, আপনার পোস্ট র‌্যাংক করবে এমন কোনো কথা নেই। বরং অসদউপায়ে বেশি কিওয়ার্ড ঢুকানোর ফলে গুগল পেনাল্টি দিতে পারে।

৬. মেটা ডেসক্রিপশন (Meta description)

আপনার প্রতিটি ব্লগ পোস্টের সাথে একটি অনন্য(Unique) এবং প্রাসঙ্গিক মেটা ডেসক্রিপশন যুক্ত করা উচিত।

আবার ঘুরে ফিরে এক কথা, মেটা ডেসক্রিপশনের ভিতর Targeted কিওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

যদি অনেক এসইও অপটিমাইজার বলে থাকে, গুগলে র‌্যাংক করতে মেটা ডেসক্রিপশনের গুরুত্ব নেই। বিষয়টা আংশিক সত্য।

অনপেজ এসইও করতে মেটা ডেসক্রিপশনের ভিতর কিওয়ার্ডের ব্যবহার কিছুটা হলেও SEO boost করতে সাহায্য করে।

মেটা ডেসক্রিপনে সঠিক ও টার্গেটেড কিওয়ার্ডের ব্যবহার, গুগলের প্রথম পেজে র‌্যাংক আসতে সাহায্য করে।

৭. ছবিতে Alt text এবং Name

Image optimization হয়তো গুগলে র‌্যাংক করতে অতটা সাহায্য করে না, তারপরও এটা আপনার জন্য একটি সুযোগ।

“image title” এবং “alt text” এর ভিতর কিওয়ার্ডের ব্যবহার আপনার আর্টিকেলকে আরো ফোকাস করে তোলে।

অনপেজ এসইও: Alt text ব্যবহার
Alt text ব্যবহার

অবশ্যই ছবি আপলোডের সময় কিওয়ার্ড রিলেটেড শব্দ ব্যবহার করুন। ছবি আপলোডের পরে অবশ্যই অল্টার ট্যাগ কিওয়ার্ড দিতে পারেন।

আর্টিকেলে ছবির গুরুত্ব:-

ছবির ব্যবহার করলে আর্টিকেলটি আরো User Friendly হয়ে ওঠে। Engaging content লিখতে ছবির বিকল্প নেই।

অর্থাৎ ছবি দিলে ভিজিটর অনেক্ষণ আপনার পেজে থাকবে। যাতে গুগলে আপনার পেজ র‌্যাংক করতে সাহায্য করবে।

একটি বিষয়:- অধিক রেজুলিশনযুক্ত ছবি আপনার ওয়েবসাইটকে ডাউন (Slow) করে দিবে। তাই যথাসম্ভব ছবিকে অপটিমাইজ করে Size ছোট করে নিন।

৮. অর্টিকেলে শব্দের সংখ্যা

অনেকের মনে একটি প্রশ্ন থাকে, কতসংখ্যার আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেজে র‌্যাংক করে?

এটার কোনো সরাসরি উত্তর কারো কাছে নেই। তবে অধিক কম শব্দযুক্ত কন্টেন্টকে গুগল, কম তথ্যযুক্ত কন্টেন্ট বলে মনে করে।

তাই গুগলে ওয়েবপেজকে র‌্যাংক করাতে অধিকশব্দযুক্ত কন্টেন্ট লেখা জরুরি।

অধিকংশ এসইও অপটিমাইজারের মতে সবসময় ১০০০+ শব্দের কন্টেন্ট লেখা ভালো। বিস্তারিত বর্ণনাযুক্ত কন্টেন্ট গুগলে খুবই দ্রুত র‌্যাংক করে।

টিপস: কোনো বিষয় বা কিওয়ার্ডের উপর কন্টেন্ট লেখার আগে গুগলে সার্চ করে নিন। আপনার Competitor যারা আছে তাদের থেকে ভালোমানের ও বেশি শব্দযুক্ত কন্টেন্ট পাবলিশ করুন।

তাহলে সহজে আপনি তাদের টপকে FIRST PAGE এ যেতে পারবেন।

৯. স্কিমা মার্কাপ (Schema Markup)

অনপেজ এসইও টেকনিকের ভিতর Schema Markup অনেক গুরুত্ব বহন করে। আপনার কন্টেন্টকে অপটিমাইজ করে, আপনার প্রতিযোগীকে হারাতে স্কিমা অনেক সাহায্য করবে।

Schema (Structured data) ব্যবহার করলে সার্চইঞ্জিন আপনার কন্টেন্ট সম্পর্কে আরো ভালো ধারণা পায়; যেটা র‌্যাংক করতে খুবই সাহায্য করে।

স্কিমা মার্কাপ
স্কিমা মার্কাপ

স্কিমা মার্কাপ ব্যবহার করলে আপনার পেজ গুগলে এমনভাবে শো করে, যেটি আপনার সিটিআর(CTR) বাড়াবে।

অবশেষে আপনাকে গুগল ৫গুণ গতিতে র‌্যাংক করবে।

কিভাবে Schema যুক্ত করব?

আপনি যদি ইয়োস্ট প্লাগিন ব্যবহার করেন, আপনার জন্য কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়।

Yoast Plugin installed থাকলে, পোস্ট লেখার সময় নিচের দিকে দেখুন এমন একটি অপশন পাবেন। সেখান থেকে আপনার পোস্টের সাথে সম্পর্কযুক্ত স্কিমাটি যুক্ত করুন।

on page seo : Scheme Markup যুক্ত করা
Scheme Markup যুক্ত করা

১০. ইন্টারনাল লিংকিং (Internal Linking)

ব্লগ পোস্টের ইন্টারলিঙ্কিং আপনার ব্লগ পাঠকদের আপনার ব্লগে বেশি সময় ব্যয় করতে সাহায্য করবে, এবং এটি আপনার সাইটের অন্যান্য পৃষ্ঠায় পেজ র‌্যাংক পাস করতেও সাহায্য করবে।

ইন্টারলিঙ্ক করার সময়, কীওয়ার্ডকে অ্যাঙ্কর টেক্সট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, কিন্তু খুব বেশি বার করবেন না।

আপনার পোস্টের সাথে প্রাসঙ্গিক পেজগুলোকে ইন্টারনালি লিংক করলে, সার্চইঞ্জিন মনে করে আপনার পোস্টের ইনফরমেশন অনেক বিস্তারিত।

তাছাড়া এটি গুগলকে পোস্টের টপিক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেয়।

anchor text + internal link এর সঠিক কম্বিনেশন, পোস্টের ভিতর র‌্যাংক জুস হতে সাহায্য করে।

অবশ্যই ইন্টারনাল লিংকগুলো প্রাসঙ্গিক এবং প্রয়োজনীয় হতে হবে। তাহলেই কেবল ইন্টারনাল লিংকিংয়ের সুবিধা পাবেন।

১১. কোয়ালিটি কন্টেন্ট

সবচেয়ে উপরে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনার দরকার ছিল। কারণ গুগলে পেজ র‌্যাংকের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কন্টেন্টের কোয়ালিটি খারাপ হলে, যত এসইও ট্রিকসই ব্যবহার করুন; কোনো লাভ নাই।

হয়তো অনেকসময় লো-কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিয়ে, ওয়েবপেজ র‌্যাংক করে ফেললেও; কিছু সময় পর পেজটি ডির‌্যাংক হয়ে যাবে।

গুগল সবসময় আপনার সাইটের ডাটা ট্রাক করে; আপনার সাইটে ইউজার কতসময় থাকছে, আপনার বাউন্সরেট কেমন; এসবের উপর ভিত্তিকরে র‌্যাংক করানো হয়।

লো-কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিলে, ভিজিটর দ্রুত পেজ থেকে চলে যাবে, বাউন্সরেট বৃদ্ধিপাবে; অবশেষ আপনার ওয়েবপেজটি র‌্যাংক হারানো শুরু করবে।

তাই এসইও করতে সর্বপ্রথম কোয়ালিটি কন্টেন্টের দিকে ফোকাস করুন; সাথে সাথে বাকি টিপসগুলো Follow করুন। দেখবেন আপনার সাইট গুগলের প্রথম রেজােল্টে চলে আসছে।

অনপেজ এসইও লিস্ট -২০২১

এখানে একটি চেকলিস্ট রয়েছে যা আপনি নিশ্চিত করতে ব্যবহার করতে পারেন; যে আপনি সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে উচ্চতর Rank করার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করছেন।

কোথায় কোথায় কিওয়ার্ড ঢুকাবেন:-

  • Title এ কিওয়ার্ড দিন।
  • permalink এ কিওয়ার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
  • পোস্টের প্রথম ১০০ টি শব্দের ভিতর কিওয়ার্ড দিন।
  • Image Alt ট্যাগে কিওয়ার্ড।
  • আর্টিকেলের ভিতর কিওয়ার্ডের সমার্থক শব্দের ব্যবহার।
  • H2 & H3 এর ভিতর কিওয়ার্ডের ব্যবহার করুন।

অনপেজ এসইও র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর – ২০২১

  • পার্মালিংক ছোট রাখুন।
  • পোস্টের ভিতর মাল্টিমিডিয়া (ভিডিও, অডিও, ছবি, স্লাইড) ব্যবহার করুন।
  • ১০০০+ ওয়ার্ডের কন্টেন্ট লিখুন।
  • ছবি আপলোডের আগে, অপটিমাইজ করুন(নাম ও সাইজ)।
  • সাইটের পেজ স্পিড ঠিক করুন।
  • ৬৫ ওয়ার্ডের ভিতর মেটা টাইটেল দিন।
  • ১৬৫ ওয়ার্ডের মেটা ডেসক্রিপশন ব্যবহার করুন।
  • রিলেটেড আর্টিকেলগুলোকে ইন্টারনালি লিংক আপ করুন।
  • রিলেটেড ও হাইকোয়ালিটি আর্টিকেলকে আউটবন্ড / এক্সটার্নাল লিংক দিন।
  • Breadcrumbs ব্যবহার করুন
  • FAQ Schema ব্যবহার করুন।

আরো কিছু বিষয়:-

  • ফেসবুক ও টুইটারের জন্য ছবি ব্যবহার করুন; মানে শেয়ার করলে থামনেইল আসবে।
  • সোস্যাল শেয়ার বাটন ব্যবহার করুন; যাতে ভিজিটর চাইলে আপনার পোস্টটি শেয়ার করতে পারে।
  • রিলেটেড পোস্টের ব্যবহার করুন; বাউন্সরেট কমানোর জন্য।

যেগুলো করবেন না:-

এই বিষয়গুলো আপনার পেজ র‌্যাংকে নষ্টকরে দতে পারে।

  • H1 tag একবারের বেশি ব্যবহার করবেন না(Post title এর জন্যই শুধুমাত্র H1 tag ব্যবহার করুন)।
  • h2 ও h3 বেশি রিপিট করবেন না।
  • কিওয়ার্ড স্টাফিং করবেন না।

বেশি বেশি ফোকাস করা বিষয়গুলো:

  • টার্গেট কিওয়ার্ডটি পোস্টের টাইটেল দিন।
  • লং টেইল কিওয়ার্ড ফোকাস করে কন্টেন্ট লিখুন।
  • আর্টিকেলটি বিস্তারিত করুন: গুগলের প্রথম ৫টি আর্টিকেল দেখে, তাদের থেকে বেশি শব্দযুক্ত কন্টেন্ট লিখুন।
  • ব্লগ পোস্টের শেষে, ব্যবহারকারীদের শেয়ার ও কমেন্ট করতে বলুন।
কিভাবে সাইটকে গুগলের প্রথম পেজে আনব?

আপনার সাইটকে গুগলের প্রথম পেজে আনতে হলে, কোয়ালিটি কন্টেন্ট লিখতে হবে।
এমন কন্টেন্ট তৈরি করতে হবে, যেটা গুগলের বট ও মানুষ ভালোভাবে পড়তে ও বুঝতে পারে। অর্থৎ আপনার পোস্টকে গুগল বট ও ভিজিটর দুটোর জন্যই অপটিমাইজ করতে হবে।
অনপেজ এসইওতে শেয়ার করা টিপসের মাধ্যমে আপনার পোস্টকে আরো ভালোভাবে অপটিমাইজ করতে পারেন।

গুগলের প্রথম পেজে র‌্যাংক করার টিপস?

গুগলে র‌্যাংক করার কোনো শর্টকার্ট নাই। শর্টকাট অবলম্বন করে র‌্যাংক করলেও বেশিদিন টিকতে পারবেন না।
প্রথমত কোয়ালিটি কন্টেন্ট দিতে হবে। সঠিকভাবে অনপেজ এসইও টিপসগুলো ফলো করতে হবে।
আপনার ওয়েবসাইটে যাতে ভিজিটর অনেক সময় কাটায় তেমনভাবে সাজাতে হবে।

# Conclusion

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অনেক ধৈয্যের বিষয়। আপনি রাতারাতি আপনার সাইটকে #১ র‌্যাংক করাতে পারবেন না।

এসইও -তে কোনো টিপস-ট্রিকস সাধারণত কাজ করে না। অনেকে শর্টকার্টে পেজ র‌্যাংক করানোর যুক্তি দিতে পারে।

আসলে এগুলো খুববেশি কাজে আসে না। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, পেজকে র‌্যাংক করানোর পর আবার র‌্যাংক হারানো শুরু করবে।

শুধুমাত্র এসইওর দিকে ফোকাস করলে, ইউজারের দিকে ফোকাস না করলে; ইউজার আপনার পেজে বেশি সময় থাকবে না।

যেটা গুগলকে সিগন্যাল দেয়, পেজটির কোয়ালিটি উন্নত নয়। তাই গুগলে আপনাকে ডি-র‌্যাংক করা শুরু করবে।

তাহলে কি করা যায়:-

সঠিক উপায়ে পেজ অপটিমাইজ করুন; যাতে গুগল বট ও ইউজার সহজে আপনার পেজটি পড়তে পারে।

ইউজার যেন আপনার পেজকে দেখে মনে না করে, পেজটি তার জন্য নয়-> গুগল বটের জন্য তৈরি করেছেন।

তাই সঠিকভাবে ট্যাগগুলো ব্যবহার করার পাশাপাশি কন্টেন্টের কোয়ালিটি ও ফরমেটের দিকে নজর দিন।

আজ / কাল আপনার পেজটি সার্চইঞ্জিন মানে গুগল, বিং Rank #1 দিবেই।

[শেয়ার করতে পারেন]

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-