৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

আপনি কি ব্লগ পৃথিবীর অন্যতম সফল ব্লগার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন? আপনি হয়তো জীবনের কোনো সময় ব্লগিং করার কথা ভেবেছেন। ৭ টি অজুহাত যা সফল..

1003 VIEWS

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

আপনি কি ব্লগ পৃথিবীর অন্যতম সফল ব্লগার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন?

আপনি হয়তো জীবনের কোনো সময় ব্লগিং করার কথা ভেবেছেন। কিন্তু ব্লগিং আপনার জন্য স্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে।

আপনি হয়তো ভাবছেন, কোনো এক বিশেষ সকাল আসবে আমি শুরু করব। কিন্তু এমনটা হবে না। আপনি এতদিনে যখন সকালটা পাননি; আগামীকালের কথা না ভেবে সময়টাকে কাজে লাগান।

অনেকে আবার ভাবছেন, আজ শুরু করব আর কাল দেখব আমার সাইটের ট্রাফিকের বণ্যা বইছে। টাকা আর টাকা 😀 কিন্তু বাস্তবতা…

কারো জীবনে আসলে আলাদিনের চ্যারাগ আসে না। সবাইকে কষ্ট করে নিজের জন্য জায়গা করে নিতে হয়।

আপনিও পাবেন সফল ব্লগারদের মতো লক্ষ লক্ষ ভিজিটর। কিন্তু তার জন্য আপনাকে সফল ব্লগারদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে হবে।

আমি নিচে সফল ব্লগারদের ব্যাপারে এমন কিছু কথা বলব, যা তারা করে না। আপনার ও এগুলো করা উচিৎ নয়।

অজুহাত যা আপনাকে ব্লগিংয়ে সাফল পেতে বাধা দিচ্ছে

# আমার নিসটি অনেক জনপ্রিয়

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

ব্লগাররা প্রায়শই এটিকে একেবারে মারাত্মক কারণ হিসাবে বিবেচনা করে, এমনকি ব্লগ শুরু করার আগেই। তারা মনে করে যে তাদের নিসটি ইতিমধ্যে জনবহুল এবং তাদের প্রতিযোগীরা তাদের চেয়ে অনেক ভাল।

অনেক জনপ্রিয় হলে কি করবেন?

আসুন আমরা বিবেচনা করি আপনি যে নিস নিয়ে একটি ব্লগ শুরু করতে যাচ্ছেন এবং আপনি যখন এটিতে নিখুঁত, আপনি বিশ্লেষণ করেছেন যে লোকেরা বিগত বহু বছর ধরে এই নিসটি নিয়ে ব্লগ করছে এবং ইতিমধ্যে বিশাল প্রতিযোগিতায় তারা এগিয়ে।

তাহলে কি করা যায়? আপনার আইডিয়া কি ড্রপ করবেন?

চিন্তা করুন, যদি বেশি লোক একই নিস নিয়ে কাজ করছে; তবে বুঝতে হবে এই নিসের প্রচুর চাহিদা এবং অনেক লোক এই বিষয়ে পড়তে চায়।

অনেক পাঠক এই বিষয়ে আরো পড়তে আগ্রহী। তার অর্থ এই নিসের উপর আরো কোয়ালিটি কন্টেন্ট দরকার।

তাহলে এই নিসটা অনেক প্রিয়, এই নিসটি অনেকদিন মানুষ পড়বে। জনপ্রিয় বা জনবহুল নিসের উপর লেখার সুবিধা এটি যখন ট্রাফিক নিয়ে আসবে, সেটা অনেক হবে।

নিসটি নিয়ে অনেকে কাজ করছে বলে আপনি কাজ করবেন না; এমন যেন না হয়।

# আমার নিসটি ইউনিক হবে

# আমার নিসটি ইউনিক হবে।৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

বেশিরভাগ নবজাতক ব্লগার মনে করেন যে সেরাটি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়ে গিয়েছে এবং তারা হাই অথোরিটি ব্লগারদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারবে না, তাই তারা সম্পূর্ণ নতুন নিস দিয়ে ব্লগিং করবে। এই আশা নিয়ে নিস বাছাই শুরু করছে।

অনন্য হওয়ার চেষ্টা করে, তারা সেই নির্দিষ্ট শ্রোতাদের সন্ধান করে; যা অন্য কেউ আগে করেনি, বিশ্বাস করে যে প্রতিযোগিতার অভাব তাদেরকে সহজ সফলতা দিবে।

এভাবে বলে তারা নিজেরা নিজেদের ঠকাচ্ছে।

আপনি একটু চিন্তা করুন, একদম নতুন নিস এবং সেটিতে কেউ কাজ করেনি; মানে এমনও হতে পারে সেই কন্টেন্টের চাহিদা নেই। আপনার পাঠক কোথা থেকে আসবে চিন্তা করুন।

একদম শুরু থেকে পাঠক তৈরি করার চিন্তা আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের জন্য আত্নঘাতি হতে পারে।

# আমার লেখা অডিয়েন্সের পছন্দ না

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

আপনি যখন পাবলিক ডোমেইনে আপনার ধারণাগুলি লিখেন, তখন এমন ঝুঁকি থাকে, যে আপনার শ্রোতারা এটি পছন্দ করছে কিনা; এটি ব্লগারদের জন্য অনেক কঠিন একটি ব্যাপার।

Publish বোতামটি চাপার আগে সকলেই দ্বিধা বোধ করে। এমনকি আপনার ব্লগিং নায়করাও এটি প্রকাশের আগে কিছুটা চিন্তায় পড়ে।

আপনার ব্লগিং দক্ষতার উন্নতি করার একমাত্র উপায় লেখা, কিছু লোক আপনার লেখা পছন্দ করবে এবং কিছু লোক তা পছন্দ করবে না।

আপনাকে অনেক সময় আপনার সমালোচকদের মুখোমুখি হতে হবে। তবে এটি আপনার ব্লগিং দক্ষতাকে চূড়ান্ত পর্যয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সামালোচনা জীবনের অংশ হিসেবে নিন; নিয়মিত লিখুন।

# পোস্টে আইডিয়া শেষ

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

আমি জানি, নতুন নতুন পোস্টে আইডিয়া খোজা অনেক কষ্টকর একটি ব্যাপার।

এবং আপনার মনের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন থাকতে পারে, কীভাবে আমার ব্লগটি চালিয়ে যেতে আবার নতুন এবং নতুন পোস্ট আইডিয়া আসতে পারে।

আপনার এখন কিছু ধারণা থাকতে পারে; তবে আপনি কি সপ্তাহান্তে, কয়েক মাস পরে এবং বছরের পর বছর নতুন পোস্ট আইডিয়া আনতে পারবেন?

সুখবর হল, আপনাকে ভবিষ্যত নিয়ে এত চিন্তা না করলেও হবে। আজই শুরু করুন,”আপনার কাছে যা আছে তা নিয়ে শুরু করুন।”

আপনি যখন অনলাইনে লেখা শুরু করবেন, তখন নতুন নতুন আইডিয়া এমনি পাবেন।

পোস্ট আইডিয়া যেকোনো জায়গা থেকে আসতে পারে। বন্ধুদের সাথে কথা বলার সময়, ফরমে কোনোকিছু আলোচনা করার সময় বা টয়লেটে বসে 😀 ।

# কোথা থেকে শুরু করব

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

ব্লগিং করার জন্য আপনাকে অনেককিছু করতে হবে। কারণ ব্লগিং করার জন্য প্রচুর কাজ করতে হয়।

আপনি শুরু করুন, বেটার ওয়েতে কাজ করুন।

সিঙ্গেল টাস্ক করুন, মাল্টিটাস্কিং আপনার ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলবে।

# সঠিক সময়ে শুরু করব

প্রতিবার, আপনি নিজের ব্লগটি শুরু করার কথা ভাবেন, কিন্তু আপনি নিজেকে বলেন; এটা সঠিক সময় নয়।

আমার এই সমস্যা ঐ সমস্যা; সবগুলোর সমাধান করে তারপর ব্লগিং শুরু করব।

ভাইয়া, মানুয়ের জীবনটাই সমস্যা। এখানে সবসময় সমস্যা থাকবে এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু এর মধ্যে দিয়েও কাজ করে যেতে হবে।

আপনি আজকের কাজ কালকে শুরু করলে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না।

# এত সময় কোথায়

৭ টি অজুহাত যা সফল ব্লগাররা কখনই করেন না।

হ্যা, ব্লগিং করার জন্য প্রচুর সময় দরবকার। ব্লগাররা অনেক ব্যাস্ত মানুষ হয়ে থাকে।

ব্লগিংয়ে কোয়ালিটি সময় দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্লগিং করতে হলে আমাদের সোস্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে কন্টেন্ট লেখা সবই করতে হয়।

তাই আমার পরামর্শ হল সফল ব্লগার হতে কিছু টিপস ফলো করা। যার মাধ্যমে আপনি আপনার কাজের প্রডাক্টিভিটি বাড়াতে পারেন।

আপনি যদি সঠিক ও প্রডাক্টিভ রাস্তায় চলেন তবে অনেক কম সময় ব্যয় করে ব্লগিং করতে পারেন।

আপনার জন্য

এখনই সময় নিজের আগের বাজে অভ্যাসগুলো ত্যাগ করার; যেগুলো আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ারের জন্য বাধাস্বরূপ।

আজ থেকে নিজেই শুরু করুন এবং পিছনে ফিরে তাকাবেন না, আপনার অতীতের ভুলগুলির জন্য অনুশোচনা বোধ করবেন না, আপনি যদি আজও শুরু করেন, সামনের দিনগুলোতে ভালো কিছু হবে। শুভকামনা 😀

আপনি আপনার অযথা অজুহাত পেতে মুক্তি প্রস্তুত? তাহলে অলসতা না করে কমেন্ট করুন অথবা আপনার অলস বন্ধুকে শেয়ার করুন।

প্রযুক্তির প্রতি চরম আকর্ষণ থেকেই টেলিকমিউনিকেশনে পড়ছি। প্রযুক্তির কঠিন বিষয়গুলি সহজভাবে মানুষকে বলতে খুবই ভাল্লাগে। এই ভালোলাগা থেকেই লেখালিখি শুরু। ওয়েব ডেভলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আমার নেশা ও পেশা।

মন্তব্য করুনঃ-